স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৫১তম বার্ষিকী আজ

শনিবার, ১৯ মার্চ ২০২২

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৫১তম বার্ষিকী আজ
গাজীপুরে ১৯ মার্চের মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’

আজ ১৯ মার্চ। স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৫১তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে গাজীপুরের জয়দেবপুরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি সর্ব প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেদিন দেশব্যাপী স্লোগান উঠেছিল, ‘জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’

সশস্ত্র সেই প্রতিরোধে পাক হানাদারদের গুলিতে শহীদ হন নিয়ামত, মনু খলিফা ও হুরমত আলী। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন অনেকেই। যদিও স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫১ বছরেও অনেকটাই অবহেলিত চার শহীদের বীরত্বগাথা। প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের গৌরবময় দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করার দাবি গাজীপুরবাসীর।


ইতিহাস বলছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলেও ১৯ মার্চ গাজীপুর তথা জয়দেবপুরবাসী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

জানা যায়, ৭১’র ১৯ মার্চ পাক বাহিনীর ঢাকা বিগ্রেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জাহানজেব আবরার ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈন্যদের মনোভাব টের পেয়ে যান। পরে তিনি জয়দেবপুর রাজবাড়িতে অবস্থিত দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাদের নিরস্ত্র করতে উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে সৈন্য, অস্ত্র, গোলা-বারুদ নিয়ে ঢাকা থেকে জয়দেবপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

জাহানজেব আবরারের জয়দেবপুর অভিমুখে যাত্রার খবর তৎকালীন মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ ও আন্দোলনরত শ্রমিক জনতার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে জয়দেবপুর, চান্দনা চৌরাস্তা এবং বিআইডিসি সড়কে জনতার ঢল নামে। টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত রাস্তার মাঝে ইট, গাছ ও ঠেলাগাড়ি ফেলে ৪৫টি ব্যারিকেড তৈরি  করে।

মুক্তি পরিষদের নেতৃত্বে জয়দেবপুর বাজার বটতলায় হাজার হাজার জনতা লাঠি, বল্লম, সুরকি, রামদা, বন্দুক, তীর, ধনুকসহ বিভিন্ন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে জমায়েত হতে শুরু করে। ওই সময় জয়দেবপুর সেনানিবাসের অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল মাসুদ ও সহঅধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ।

বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম হাবিব উল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি হাইকমান্ড এবং বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি’কে আহবায়ক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়।

গাজীপুরের বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা (সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত) মরহুম শামসুল হক পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ে পাক হানাদার বাহিনী উপস্থিত হলেই স্থানীয় সাহসী বীরদের বন্দুক গর্জে ওঠে। পাক হানাদার বাহিনীর প্রতি মরহুম কাজী আজিম উদ্দিন আহমেদ (মাষ্টার) প্রথম গুলিবর্ষণ করেন। ওই সময় হানাদার বাহিনী পাল্টা গুলি করলে শহীদ হন হুরমত, নিয়ামত, কানু মিয়া ও মনু খলিফা। আহত হন আরও অনেকে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই দিবস স্মরণীয় করে রাখার জন্য তৎকালীন ১৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টের উদ্যোগে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-গাজীপুর সড়কের মিলনস্থল চান্দনা চৌরাস্তায় মুক্তিযোদ্ধার প্রতীক (এক হাতে রাইফেল অপর হাতে গ্রেনেড) মুক্তিযোদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ নির্মাণ করা হয়। এই ভাস্কর্যটি এখনো দূর-দূরান্তের লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এ ছাড়া বীরদের স্মৃতি ও ইতিহাস রক্ষায় আর কোনো পদক্ষেপ নেওয় হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁরা মনে করেন—এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া সরকারের উচিত।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন ও শহীদ হুরমত স্মৃতি সংসদ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৯ মার্চ ২০২২

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com