৫ জানুয়ারি ১৬টি স্পটে অবস্থান নেবে আ’লীগ

শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০১৫

৫ জানুয়ারি ১৬টি স্পটে অবস্থান নেবে আ’লীগ

 

A smallশনিবার রিপোর্টঃ বিএনপিকে ৫ জানুয়ারি ঢাকার রাজপথে নামতে দেবে না আওয়ামী লীগ। ওইদিন যাতে বিএনপি মাঠে না পারে তার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে ক্ষমতাসীন এ দলটি। শুক্রবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঢাকা মহানগরীর দলীয় সংসদ সদস্য ও নেতৃবৃন্দের এক যৌথ সভায় দলের পক্ষ থেকে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হ‌‌‌য়েছে বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ।ঢাকা ট্রিবিউন। আগামী ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি সফল করতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফের সভাপতিত্বে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকালে এই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হানিফ সিদ্ধান্তসমূহ সাংবাদিকদের জানান।


 আগামী ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ঘোষণা করে ওইদিন ঢাকাসহ সারাদেশে আনন্দ,  র‍্যালি ও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়ে‌‌‌ছে আওয়ামী লীগ। আবার একই দিনকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপিও ওইদিন রাজপথে থাকার ঘোষণার দিয়েছে। ৫ জানুয়ারি দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ গরম হয়ে উঠেছে। ওইদিন ঢাকাসহ সারাদেশে বড় ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের যৌথসভায় ঢাকার এমপি এডভোকেট সাহারা খ‌‌‌াতুন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, একেএম রহমতউল্লাহ, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, অ্যাডভোকেট সানজিদা খানম এবং সূত্রাপুর, কোতোয়ালীসহ কয়েকটি থানার নেতারা বক্তব্য দেন। বৈঠকে প্রায় সব সংসদ সদস্য ও নগর নেতারা ৫ জানুয়ারি বিএনপিকে যেকোনও মুল্যে প্রতিহত করার প্রস্তাব দেন। এজন্য ওইদিন ঢাকার প্রতিটি পাড়া মহল্লায় লাঠি হাতে নিয়ে পাহারা বসানোর কথাও বলেন তারা।

 এ সময়ে ঢাকা-১২ আসনের এমপি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপিকে ঠেকাতে সাংগঠনিকভাবে যেটা করণীয় সেটা আপনারা দল থেকে করেন। আর প্রশাসনিকভাবে যা করার তা আমি করব।

 পরে বৈঠকের সভাপতি হানিফ সকলের উদ্দেশে বলেন, ‘ওইদিন আপনারা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন যেন বিএনপি মাঠে নামারই সাহস না পায়।’

বৈঠকে ৫ জানুয়ারি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরীর ১৬টি নির্বাচনী এলাকায় ১৬টি পৃথক স্পট করে দিনভর রাজপথে থাকার সিদ্ধান্ত হয়। ১৬টি স্পটেই সকাল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের রেকর্ড পরিবেশন, দেশত্ববোধক গান বাজানোসহ মিছিল-স্লোগানের সিদ্ধান্ত হয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে ওই ১৬টি স্পটে অবস্থান করবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গনে ১৬টির মধ্যে একটি স্পট করে জনসভার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে হানিফ ৫ জানুয়ারি ১৬টি স্পটে অবস্থানের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ওইদিন ঢাকার রাজপথ আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে। বিএনপি ওইদিন রাস্তায় নামার সাহসই পাবে না। ৫ জানুয়ারি বিএনপির মাঠে থাকার জোর ঘোষণাকে ‘কাগুজে হুংকার’ বলে আখ্যায়িত করেন হানিফ। সাংবাদিকদের এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা এখন হুংকার দিচ্ছেন ওইদিন তাদের খুঁজেও পাওয়া যাবে না। এদিকে সমাবেশের অনুমতি না পেলেও ৫ জানুয়ারি সমাবেশের ঘোষণাকে উস্কানিমূলক মন্তব্য করে সরকার দলীয় নেতা হানিফ বলেন, এই ধরনের ঘোষণা প্রমাণ করে তারা আইনের শাসন মানে না। তারা বিশৃঙ্খল প‌‌রিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হানিফ বলেন, তারা দেশে কোনও বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইলে তা বরদাস্ত করা হবে না। দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি-জামাতের অশুভ শক্তিকে মোকাবেলা করা হবে। সভায় অন্যদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, আব্দুল মান্নান খান, আব্দুস সোবহান গোলাপ, অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দীন মেহেদী প্রমুখ অংশ নেন।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:১০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com