২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ঃ বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসি, তারেক রহমানের যাবজ্জীবন

বুধবার, ১০ অক্টোবর ২০১৮

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ঃ  বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসি, তারেক রহমানের যাবজ্জীবন

Rajnitiবাংলাদেশ ডেস্কঃ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড আওয়ামী লীগের সমাবেশে হামলা মামলার রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। ৪৯ আসামির মধ্যে বাকি ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালত এ রায় দেন। আসামিদের সাজা কারাবাসকালীন সময় থেকে বাদ যাবে। এবং যেসব আসামি দুই মামলায় সাজা পেয়েছেন তাদের একযোগে দণ্ড কার্যকর হবে। রায়কে ঘিরে ভোর থেকেই আদালত চত্বর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়।


সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিচারক আদালতে আসেন। তার পরে বেলা ১১টায় মামলায় কারাগারে থাকা ৩১ আসামিকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। বিচারক এজলাসে বসেন সাড়ে ১১টায়। তিনি রায়ের সারসংক্ষেপ পড়া শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই আদালত কক্ষের বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন বিকল্প আলোর ব্যবস্থা করা হয়। এই অবস্থাতেই মূল রায় পড়া শেষ করার আগ মুহূর্তে আবার বিদ্যুৎ চলে আসে।  

বিচারক প্রথমে রায়ের দুই পৃষ্টার পর্যবেক্ষণ পড়েন। এবং এ ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার বিবেচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তখন আদালতে ছিল জনাকীর্ণ কিন্তু এর মধ্যেও ছিল পিনপতন নিস্তব্ধতা। সবাই রায়ের অপেক্ষ করছিলেন ছোট্ট কক্ষটির মধ্যে।

পূর্ব থেকে পশ্চিমে লম্বা এই আদালত কক্ষ। এর পূর্বদিকে বিচারকের বসার স্থান। লাল কাপড়ে মোড়ানো এজলাসের চারপাশ ঘিরে ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর বলয়। তার সামনে দুই পাশের বাম দিকে প্রসিকিউশন এবং ডান দিকে বসেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তাঁদের পেছনেই ছিলেন মামলার ৩১ আসামি। আর প্রসিকিউশনের পেছনে বসেন দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

আসামিরা সবাই চেয়ারে বসা ছিলেন। সামনের কাতারে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ডিজিএফআইর সাবেক প্রধান রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই তখনকার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ অনেকেই। তাঁদের বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। আসামিদের একেবারে পেছনের সারিতে ছিলেন মূলত জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট নেতারা। বিচারক যখন পড়ছিলেন, তখন জঙ্গি নেতারা প্রায় সবাই অনুচ্চ স্বরে দোয়া-দরুদ পড়ছিলেন।

পর্যবেক্ষণ ও বিবেচ্য বিষয় পড়া শেষে বিচারক ১১টা ৩৭ মিনিটে মূল রায় পড়া শুরু করেন। তিনি প্রথমেই ফাঁসির আসামিদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি বলেন, অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২/১২০-এর (খ)/৩৪ ধারায় দোষী স্বাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হলো এবং মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো। 

ফাঁসির ১৯ আসামি হলেন লুৎফুজ্জামান বাবর (উপস্থিত), মাওলানা তাজউদ্দিন (পলাতক), শেখ আবদুস সালাম (উপস্থিত), মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট (উপস্থিত), আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম (উপস্থিত), মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ (উপস্থিত), মহিব্বুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি (উপস্থিত), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর (উপস্থিত), আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল (উপস্থিত), মো. জাহাঙ্গীর আলম (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা আবু তাহের (উপস্থিত), হোসাইন আহমেদ তামিম (উপস্থিত), মাইন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মাইন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ (উপস্থিত), রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ (উপস্থিত), মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন (উপস্থিত), সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু (উপস্থিত), ডিজিএফআইর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী (উপস্থিত) এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তখনকার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (উপস্থিত), হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ হানিফ (পলাতক)। আদালত এঁদের সবাইকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেন। 

এরপর বিচারক যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় বিচারক বলেন, অভিন্ন অভিপ্রায়ে পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৭/১২০ এর (খ)/৩৪ ধারায় দোষী স্বাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করা হলো। 

১৯ যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি হলেন তারেক রহমান (পলাতক), কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর আবু হোমায়রা ওরফে পীর সাহেব (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত), ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কমিশনার আরিফুল ইসলাম আরিফ (উপস্থিত), আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার (ইপস্থিত), আনিসুল মোর্সালীন (পলাতক), মুহিবুল মুক্তাকীন (পলাতক), খলিলুর রহমান খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক), শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক)। আদালত এঁদের সবাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন।

এরপর বাকি ১১ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঘোষণা করেন বিচারক। তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ২১৭ ধারায় দুই বছর এবং ২১৮ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো। পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক (আইজিপি) খোদা বক্স চৌধুরী (উপস্থিত), সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অব.) রুহুল আমিন (উপস্থিত), এএসপি (অব.) আবদুর রশিদ (উপস্থিত) ও এএসপি (অব.) মুন্সি আতিকুর রহমানকে (উপস্থিত) তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক (উপস্থিত), আইজিপি আশরাফুল হুদা (উপস্থিত), আইজিপি শহুদুল হক (উপস্থিত), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন (আমেরিকায় পলাতক), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার (পলাতক), ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান (পলাতক) ও ডিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসানকে (পলাতক) দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড অন্য মামলায় কার্যকর হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বাকি ৪৯ জনের বিচারের রায় হয় আজ। আসামিদের মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন। বাকি ৩১ জনের সবাই আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের দিন থেকে দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে। অপরদিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা রায়ের দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন। এ মামলার জব্দকৃত আলামত-পরবর্তী সময়ের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলটির সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে তাঁর শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

অপর মামলায় ফাঁসি তিনজনের

২১ আগস্টের ঘটনায় পৃথক মামলায় মোট আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে তিন আসামির অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল।

আলোচিত জজ মিয়া

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তের এক আলোচিত অধ্যায় জজ মিয়া। ২০০৫ সালের ৯ জুন গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগের একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় সেনবাগ থানায়। ঢাকা থেকে সিআইডির অনুরোধ পেয়ে সেনবাগ থানা পুলিশ জজ মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য সোর্স নিয়োগ করে। পরে ৯ জুন বেলা ১টার দিকে জজ মিয়াকে আটক করে থানায় খবর দেয়। এরপর পুলিশ তাকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে আসে। ১৫ দিন সিআইডি পুলিশের হেফাজতে থাকার পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর গ্রেনেড হামলার মামলায় তিনি ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি’ দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ। পরে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয় যখন গণমাধ্যমে ফাঁস হয় যে জজ মিয়ার বিষয়টি পুলিশের সাজানো। আসামি করার বদৌলতে তার পরিবারকে টাকা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। এরপর নানা ঘটনাপ্রবাহের পর ২০০৮ সালে জজ মিয়াকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেয় সিআইডি। পরে আদালত এ মামলা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেন। ২০০৯ সালে মুক্তি পান জজ মিয়া।

২০১১ সালে সম্পূরক চার্জশিটে তারেক-বাবর

গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে সিআইডি। সেদিন বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা-সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন এস আই গোলাম মাওলা। দুটি পৃথক ট্রাঙ্কে ভর্তি করে আনা অভিযোগপত্রে নতুন করে ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর আগের অভিযোগপত্রে ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। নতুনভাবে অভিযুক্তদের মধ্যে স্থান পান বিএনপি নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ অনেকে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / অক্টোবর ১০, ২০১৮

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ অক্টোবর ২০১৮

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com