২লাখ ৯৫ হাজার কোটির বাজেট, প্রবৃদ্ধি ৭%

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০১৫

২লাখ ৯৫ হাজার কোটির বাজেট, প্রবৃদ্ধি ৭%

 

ঢাকা: ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট উত্থাপন করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ২ লাখ ৯৫ হাজার ১শ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট সংসদে উত্থাপন করেছেন তিনি। এ বাজেটে এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের চেয়ে একটু কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ।


বিশাল এ বাজেটে ব্যয় করা হবে তিনটি ভাগে। যেখানে অনুন্নয়ন রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭১ কোটি, উন্নয়ন ব্যয় ১ লাখ ২ হাজার ৫৫৯ কোটি এবং অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে পুরো ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকাই ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশাল এ ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। যেখানে এনবিআরের মাধ্যমে কর আদায় করা হবে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। আর এনবিআর বহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। এছাড়া কর ব্যতীত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা।

budget02মোট আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা পুরো বাজেটের মোট আকার থেকে ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা কম; আর টাকার এ পরিমানটিই হলো বাজেট ঘাটতি। যা চলতি অর্থবছরে ছিল (শংশোধিত) ৭৬ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। এ ঘাটতি বাজেটের আকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

এ ঘাটাতি বাজেট পূরণ করার জন্য সরকার নির্ভর করবে বৈদেশিক বিভিন্ন উৎস ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। বৈদেশিক উৎস থেকে সরকার নেবে ৩০ হাজার ১৩৪ কোটি এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেবে ৫৬ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যে পরিমান টাকা নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে তার বেশিরভাগটিই ঋণ নেবে ব্যাংকিং খাত থেকে। এখানে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা।

উন্নয়ন ব্যয়ের ৯৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে। আর এবারে মূল্যস্ফীতি আরও কমিয়ে অনার জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬.২ শতাংশে।

দেশের বিভিন্ন খাতে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে জনপ্রশাসনে ১ লাখ ২ হাজার ৭৮১ কোটি, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে ২১ হাজার ১ কোটি, প্রতিরক্ষায় ১৮ হাজার ৩৯৮ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় ১৩ হাজার ৬৪৪ কোটি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে ৩৪ হাজার ৩৭৮ কোটি, স্বাস্থ খাতে ১২ হাজার ৭২৫ কোটি, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ১৬ হাজার ৯৫৫ কোটি, গৃহায়ন খাতে ২ হাজার ৯১৯ কোটি, বিনোদন, সংস্কৃতি ও ধর্ম খাতে ২ হাজার ২৮৫ কোটি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৮ হাজার ৫৪১ কোটি, কৃষি খাতে ১৯ হাজার ৯৮৩ কোটি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ২ হাজার ৭৫৬ কোটি এবং পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতে ২৮ হাজার ৭৩৪ কোটি বরাদ্দ দেয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বরাদ্দ।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ০৬ জুন ২০১৫

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৫ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com