১৯৯৬ সালে খুলনা বিমান বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বেগম খালেদা জিয়া

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০১৫

১৯৯৬ সালে খুলনা বিমান বন্দরের  ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বেগম খালেদা জিয়া

 

 ১৯৯৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর বাগেরহাটে খানজাহান আলী বিমান বন্দর, খুলনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন  প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে প্রায় বিশ বছর পর সেই বিমান বন্দর তার পূর্ণতা পেতে যাচ্ছে।


গত ১৯ মে দুপুরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাগেরহাটে খানজাহান আলী বিমান বন্দর, খুলনার, এলাকা পরিদর্শন করেন শেষে সেখানে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে বলেন  আগামী অর্থ বছর থেকে বাগেরহাট খানজাহান আলী বিমান বন্দরের র্নিমাণ কাজ পূর্নাঙ্গভাবে শুরু হবে। তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে নির্মাণ কাজ। এ জন্য ব্যয় হবে ৫৪৪ কোটি টাকা।

গত ৫ মে একনেকে এই বিমান বন্দরের জন্য ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদনের পর মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের এই আশ্বাস এতদাঞ্চলের মানুষকে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে আরও কিছুটা আশ্বস্ত করেছে।

মন্ত্রী বলেন, এই বিমান বন্দর নির্মান হলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, হযরত খানজাহানের মাজার ও ষাটগুম্বজ মসজিদ এলাকাকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটবে। সমুদ্র বন্দর মংলা আরও গতিশীল হবে। মংলা রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা আরও বিকশিত হবে। সবকিছু মিলে পিছিয়ে পড়া দনিাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বিমান বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেখ হাসিনার সরকার মতায় থাকলে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে প্রকৃত উন্নয়ন হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, বিমান বন্দর এলাকায় কাছে পর্যটকদের থাকার জন্য একটি পাঁচ তারকা হোটেল, মংলায় পর্যটন কর্পোরেশনের পশুর মোটেলটি উর্ধবমুখি সম্প্রসারন ও খুলনা শহরের মুজগুন্নি এরাকায় হোটেল ব্যাবস্থাপনা ইনিস্টিটিউট নির্মান করা হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো: জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ সমাবেশে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা এমপি, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাগেরহাট-৩ আসনের এমপি তালুকদার আব্দুল খালেক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান অপরূপ চৌধুরী, সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল সানাউল হক, বেবিচকের প্রধান প্রকৌশলী সুদেন্দ্র বিকাশ গোশ্বামী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহিদুল আফরোজ।

বিকেলে মন্ত্রী বাগেরহাট সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকেদের সাথে মত বিনিময় শেষে খুলনার উদ্দেশ্যে বাগেরহাট ত্যাগ করেন।

এক নজরে খানজাহান আলী বিমান বন্দর:

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ফয়লা নামক স্থানে খুলনা-মংলা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। খুলনা শহর এবং মংলা সমূদ্র বন্দর থেকে দূরত্ব বিশ কিলো মিটার। ১৯৯৬ সালে একটি শর্ট টেক অফ ল্যান্ডিং বন্দর (STOL) হিসেবে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তখন এ জন্য ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ২৭ জানুয়ারী এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিন্তু ১৯৯৭ সালে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কিছু মাটি ভরাট কাজের পর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। খুলনা-বাগেরহাটের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিমান বন্দরটি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলো। ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার আবারও মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে। কিন্তু টাকার অভাবে অল্প সময়েই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

খানজাহান আলী বিমান বন্দরের প্রস্তাবিত স্থান বাগেরহাটের ফয়লা

খানজাহান আলী বিমান বন্দরের প্রস্তাবিত স্থান বাগেরহাটের ফয়লা

২০১১ সালের ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিমান বন্দরে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১২ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী লে. কর্নেল (অবঃ) ফারুক খান বিমান বন্দর এলাকা পরিদর্শন করেন প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

২০১৩ সালের এপ্রিলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (কুয়েট) সম্ভাব্যতা যাচাই করার দায়িত্ব দেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর কুয়েটের বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে ছোট বিমান ওঠানামার জন্য আড়াই শ’ কোটি টাকা ও পূর্ণাঙ্গ বিমান বন্দরের জন্য পাঁচ শ’ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দের দুটি প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বিমান বন্দর নির্মাণে ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে প্রস্তাবটি গত ৬ মে একনেকের সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে সরকারের তহবিল থেকে ৪৯০ কোটি টাকা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তহবিল থেকে বাকি ৫৪ কোটি টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।

 শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ ২১ মে ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:২০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com