হ্যাপীর মামলায় রুবেলের অব্যাহতি শুনানী ১৭ মে

রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৫

হ্যাপীর মামলায় রুবেলের অব্যাহতি  শুনানী ১৭ মে

 

ঢাকা: চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীকে ধর্ষণের মামলায় জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের অব্যাহতি চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ওপর শুনানি আগামী ১৭ মে ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হবে।


রোববার ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাইল এই তারিখ ধার্য করেন।

গত ১০ মার্চ একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া হ্যাপীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বলা যায়, আগামী ১৭ মে যদি হ্যাপীর পক্ষ থেকে কোনো নারাজী আবেদন না করা হয়, তাহলে তদন্ত কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তা আদালতে গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। আর এ প্রতিবেদন গৃহীত হওয়ার মধ্য দিয়ে অব্যাহতি পেয়ে যাবেন জাতীয় দলের পেসার রুবেল।

উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে নাজনীন আক্তার হ্যাপী বলেন, যদি মামলা তুলে নেয়ার সুযোগ থাকত, তবে তিনি তুলে নিতেন। কিন্তু সেই সুযোগ না থাকায় এখন থেকে আর মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ দাঁড় করাবেন না। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রুবেলকে আমি খুব ভালোবাসি। ওর সঙ্গে মামলা করে শত্রুতা করতে চাইনি। শুধু ভালোবাসার অধিকার ফিরে পেতে চেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, শুধু রুবেলকে দেখার জন্য তিনি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুটি ম্যাচ দেখেছেন। হ্যাপীর বিশ্বাস, রুবেল যদি তাকে কোনোদিন সত্যি ভালোবেসে থাকেন, তাহলে একদিন না একদিন আবার তার কাছে ফিরে আসবেন।

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর গত ১৩ এপ্রিল এ মামলার নথি ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠনোর নির্দেশ দেন ঢাকার সিএমএম আদালত।

গত ৬ এপ্রিল মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারের ইন্সপেক্টর হালিমা খাতুন রুবেলের অব্যাহতির আবেদন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হ্যাপীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হলে ৩ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড জানায়, হ্যাপীর শরীরের কোথাও সাম্প্রতিক বলপূর্বক ধর্ষণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

হ্যাপীর (বাদী) দাবি অনুযায়ী রুবেলের পরিহিত জার্সি, পাপোষ এবং নাইটি পরীক্ষা করে তাতে রুবেলের কোনো বীর্য পাওয়া যায়নি মর্মে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হ্যাপী একজন প্রাপ্তবয়স্ক, মিডিয়াতে কাজ করা সচেতন ও আধুনিক একজন মানুষ। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের সম্পর্ক ছাড়া যদি তিনি রুবেলের সঙ্গে মেলামেশা করে থাকেন তবে সেটা তার সম্মতিতেই হয়ে থাকতে পারে। বাদীর অভিযোগ মতে সেটা ধর্ষণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না।

তাছাড়া হ্যাপী তার বক্তব্যের সমর্থনে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেননি বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাদী রুবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর মিরপুর থানায় চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপী ধর্ষণের অভিযোগে এই মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ৮ মাস আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রুবেলের সঙ্গে হ্যাপীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর তিনি ইচ্ছার হ্যাপীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর রুবেল হ্যাপীকে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে বিয়ের প্রস্তার দিলে তিনি এড়িয়ে যান।

মামলাটিতে গত ৬ জানুয়ারি সিএমএম আদালতে রুবেল আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। পরে গত ১১ জানুয়ারি মহানগর দায়রা জজ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

 

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১৯ এপ্রিল ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৪১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com