হেফাজতে ইসলামের আমীরের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

সোমবার, ১২ জুন ২০১৭

হেফাজতে ইসলামের আমীরের শারীরিক অবস্থা  সংকটাপন্ন

ঢাকাঃ হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।

তাঁকে কোনও ধরনের ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এয়ার এম্বুলেন্সে করে বিদেশ নেওয়ার অনুমতি চাইলেও চিকিৎসকরা সে অনুমতি দেননি। তাঁর বয়স এখন ৯৬ বছর।


রাজধানী ঢাকার গে-ারিয়ায় আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শাহ আহমদ শফী। চিকিৎসকরা বলেছেন, আহমদ শফীর জ্ঞান আছে। তবে তাঁর স্মৃতিভ্রম হয়েছে। তিনি কাউকে চিনতে পারছেন না। তাঁর প্রসাবে  সংক্রমণ ধরা পড়েছে। নিউমোনিয়ার প্রকোপও রয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) সকাল থেকে তাঁর শরীরে জ্বর অনুভূত হচ্ছে। এ কারণে তাঁর চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। দুই সন্তান মোহাম্মদ ইউসুফ ও আনাস মাদানী ছাড়া অন্য কাউকে তাঁর কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁকে রাখা হয়েছে।

আল্লামা শফীকে গত ৬ জুন আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ৭ জুন হাসপাতাল থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। ডা. এ আর এম নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহ আমহদ শফী ইউরিন সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। তিনি আশঙ্কামুক্ত নন। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর বিষেশজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

আল্লামা শাহ আহমদ শফীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হেফাজতে ইসলামের কোনও নেতা কিংবা হাটহাজারী মাদ্রাসার কোনও শিক্ষক অবগত নন। এমনকি হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মো. জুনায়েদ বাবুনগরীও বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। একান্ত পারিবারিক সদস্যরাই চিকিৎসার বিষয়টি তদারকি করছেন। শুরুতে ছোট ছেলে আনাস মাদানির সিদ্ধান্তে আহমদ শফীকে চট্টগ্রামের গোল পাহাড়ের বেসরকারি ক্লিনিক সিএসসিআরে ভর্তি করা হয়। এরপর আনাস মাদানী দুবাই চলে যান। বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে দেশে ফেরেন। এরপর গত ৬ জুন হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নেওয়া হয় আহমদ শফীকে। সিএসসিআরে চিকিৎসার সময় তাঁর ফুসফুস থেকে পানি বের করা হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।

জানা যায়, চট্টগ্রামের হেফাজতের নেতারা চেয়েছিলেন আহমদ শফীকে এপোলো হাসপাতালে ভর্তি করতে। কিন্তু সেখানে রোগীর সঙ্গে কেবল দুইজন লোক ছাড়া আর কাউকে প্রবেশ করতে মানা আছে। রোগী পুরো সময় থাকবেন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। এ অবস্থায় পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসার পরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর এবং বেফাকের মহাসচিব আবদুল কুদ্দুসের আগ্রহে মূলত আহমদ শফীকে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শাহ আহমদ শফী কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের সংগঠন বেফাকের চেয়ারম্যান।

হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে গত ১৮ মে শাহ আহমদ শফীকে চট্টগ্রামের সিএসসিআরে ভর্তি করা হয়। ২১ মে থেকে তিনি কথা বলতে পারছেন না। ওইদিন থেকে তাঁর খাওয়া দাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। সেদিনই তাঁকে ক্লিনিকটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। শরীরের অবস্থার উন্নতি দেখা দিলে ১ জুন তাঁকে আইসিইউ থেকে বের করা হয়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে যান। ফলে তাঁকে পুনরায় আইসিইউতে নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করে হাটহাজারী মাদ্রাসার একজন শিক্ষক বলেন, শাহ আহমদ শফী ৪০ বছর ধরে এ মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে আছেন। অথচ হুজুরের শরীরের কী অবস্থা তা মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক কেউ জানেন না।

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা/ ১২ জুন, ২০১৭

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১২ জুন ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com