হারিকেন ফ্লোরেন্স কাল সকালে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারেঃ জর্জিয়ায়ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হারিকেন ফ্লোরেন্স কাল সকালে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে পারেঃ জর্জিয়ায়ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্টঃ ধেয়ে আসা হারিকেন ফ্লোরেন্সের আঘাত আসার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের বাসিন্দারা নিরাপদের সরে যাচ্ছে। এটিকে ‘স্মরণকালের প্রলয়ংকরী’ হারিকেন বলা হচ্ছে।

ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ মাইল বা ১৯৫ কিলোমিটার গতি এ ঝড় ক্যাটাগরি ৩-এ নেমে এসেছ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এখনো ভয়াবহ বিপজ্জনক।


সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়া থেকে ১৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য সাউথ ক্যারোলাইনার চারটি সড়ককে যান চলাচলের জন্য একমুখী করে দেওয়া হয়েছে।

ক্যারোলাইনা, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ওয়াশিংটন ডিসির পর বুধবার জর্জিয়াতেও জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় একটি আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এটি সম্ভবত ক্যারোলাইনা উপকূলের স্মরণকালের প্রলয়ংকরী ঝড় হতে যাচ্ছে।

ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির জেফ বায়ার্ড বলেছেন, ‘এটা ক্যারোলাইনা উপকূলে মাইক টাইসনের ঘুষির মতো আছড়ে পড়তে যাচ্ছে।’

নর্থ ক্যারোলিনার গভর্নর রয় কুপার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিপর্যয় ঘরের দরজায়। হাজার হাজার দালান প্লাবিত হতে পারে।

বুধবার সকালে সাগরে ৮৩ ফুট উঁচু ঢেউয়ের রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে অনেক বাসিন্দা যেখানে নিরাপদে সরে যাচ্ছেন, সেখানে আবার কেউ কেউ থেকে যেতে চাইছেন।

বিশ্লেষক ফার্ম কোরলজিক জানাচ্ছে, হারিকেন ফ্লোরেন্সে ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে ১৭০ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ৭ লাখ ৫৯ হাজার বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

নর্থ ক্যারোলাইনার খামারগুলো থেকে গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১৯৯৯ সালের হারিকেন ফ্লয়েডে লাখ লাখ গবাদিপশু মারা গিয়েছিল।

বাধ্যতামূলক সরে যাওয়ার নির্দেশ থাকলেও সাউথ ক্যারোলাইনার প্রায় এক হাজার কয়েদিকে তাঁদের সেলেই রাখা হচ্ছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের কারাগারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, অতীতেও এ জায়গা (কারা এলাকা) নিরাপদ ছিল।

নর্থ ক্যারোলাইনার উপকূলে বুনো ঘোড়ারা হারিকেন ফ্লোরেন্সের কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে প্রাণিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরা খারাপ আবহাওয়া আগে থেকেই টের পায় এবং অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় আশ্রয় নেয়।

টুইটারে এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরেন্স-উপদ্রুত এলাকাবাসীকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ঝড়ের সামনে থেকে সরে যান। এটা হেলাফেলার জিনিস নয়। এটা বিশাল বড়, সম্ভবত যতটা বড় তারা বলেছে, ততটাই এবং অভাবনীয় পরিমাণ পানি আসছে।’

‘এরই নাম প্রকৃতি। আপনারা বুঝতে পারছেন না, কিন্তু আমরা জানি এটি কত বিশাল। আমরা আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি, সবাই নিরাপদে থাকুন সেটাই চাই,’ বলেন ট্রাম্প।

ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পরিচালক কেন গ্রাহাম সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দ্বীপটির ৪০ মাইল পর্যন্ত প্লাবিত হতে পারে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা সেপ্টেম্বর ১৩,২০১৮

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com