হরতাল-অবরোধে পাঠ বিঘ্নিতঃ নকল সরবরাহে উৎসাহী নিরুপায় শিক্ষকরা

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

হরতাল-অবরোধে পাঠ বিঘ্নিতঃ নকল সরবরাহে উৎসাহী নিরুপায় শিক্ষকরা

 

নোয়াখালীঃ নোয়াখালীতে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নকল সরবরাহে উৎসাহী হয়ে পড়ছেন শিক্ষকরা। তারা উত্তরপত্র তৈরি করে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করছেন। অনেকেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্তও হচ্ছেন। তবুও থামছে না অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনা।


অভিযোগ রয়েছে, টানা অবরোধ ও হরতালে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে ক্লাস আর পাঠ কার্যক্রম। এতে পাঠপ্রস্তুতিও তেমন করে নেয়া হয়নি। এর উপর পরীক্ষা শুরুর পর থেকে দফায় দফায় তারিখ পারিবর্তনে অমনোযোগী হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এ কারণেই দুর্ভোগে পড়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো করানোর জন্যই কিছু শিক্ষক এমন অবৈধপথ অবলম্বন করছেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ কেরামতিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে প্রশ্ন ও উত্তরপত্রসহ চার শিক্ষককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শিক্ষকদের দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত ওই শিক্ষকরা হচ্ছেন- বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর হানিফ ভূঁইয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারি শিক্ষক মো. রাশেদ, আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. দুলাল ও সুমন সাহা এবং একই ইউনিয়নের এ কেজি ছায়দুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রহিম উল্যাহ।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নাহিদা হাবিবা বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলামেইলকে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বাইরে একত্রিত হয়ে প্রশ্ন দেখে উত্তরপত্র তৈরি করছিলেন। এমন খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে প্রশ্নপত্র ও গাইডবইসহ শিক্ষকদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে দুই বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

একই দিনে সেনবাগ উপজেলায় কেন্দ্রে উত্তরপত্র সরবরাহের অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের প্রত্যেকের তিনমাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আর এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিবসহ দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেয় আদালত।

Nakol 02আদালত সূত্রমতে, শনিবার সকালে রসায়ন পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর সেনবাগের ছাতারপাইয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের একটি ফটোকপি দোকানে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. রহিমা খাতুনের নেতৃত্বে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় রসায়ন বিজ্ঞান প্রশ্নের উত্তরপত্র কপি করে কেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় হাতে-নাতে আলী হোসেন(২০), শাহীন (১৯) ও রেজাউর রহমান (১৯) নামে তিনজনকে আটক করে আদালত।

একই সময় কেন্দ্রে দায়িত্ব অবহেলা আর কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কেন্দ্র সচিব জাফর আহমেদ পাটোয়ারি ও কক্ষ পরিদর্শক মো. ইউছুফকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উদয়ন দেওয়ান বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলামেইলকে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের থানায় পাঠানো হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলায় কেন্দ্র সচিব ও এক কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা এ বছরে আর কোনো কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বেগমগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাটে শহীদ আমানউল্ল্যা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে নিজ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতার অভিযোগে ছালেহ আহম্মদ নামে এক শিক্ষককে বহিষ্কার করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট।

বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নাহিদা এ প্রতিনিধিকে জানান, এসএসসির ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় সোনাইমুড়ী উপজেলার অম্বরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের সিট বেগমগঞ্জের শহীদ আমানউল্ল্যা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পড়ে। সকালে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর অম্বরনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছালেহ আহম্মদ তার বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে সহযোগিতা করেন। খবর পেয়ে পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার সময় হাতেনাতে তাকে আটক করে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বহিষ্কৃত শিক্ষক ছালেহ আহম্মদ চলতি বছরে আর কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com