হরতাল-অবরোধে দৈনিক ক্ষতি ১৬০০ কোটি টাকা

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৫

হরতাল-অবরোধে দৈনিক ক্ষতি ১৬০০ কোটি টাকা

 

ঢাকা: প্রতিদিনের হারতাল-অবরোধে অর্থনীতির মোট ক্ষতির পরিমান ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর বীমাখাতে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি টাকা। বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় সেই ক্ষতি দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)।


সোমবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিআইএ প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন এ তথ্য জানান।

বিআইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হরতাল অবরোধের কারণে বীমাখাতে দৈনিক প্রিমিয়াম আয়ে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করতে পারছে না। ফলে এ শিল্পে দৈনিক ১৫ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া ২০১৩ সালে হরতাল অবরোধের কারণে বীমা সেক্টরে ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার কোটি টাকার উপরে। যা সার্বিক অর্থনীতিতে ৬৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির কারণ বলে মনে করছে বিআইএ।’

শেখ কবির হোসেন বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করে জোরপূর্বক নিজেদের চাহিদা পূরণের স্বভাব বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে হরতাল-অবরোধের ডাক দিয়ে তারা জ্বলাও-পোড়াও স্বভাবের আচরণ করতে থাকে। হরতাল অবরোধের কারণে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৫ সালের জানুয়ারির এ পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় ৪০০টি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। শুধু গাড়িই নয় বিভিন্ন ব্যাংকের শাখাসহ অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও হরতাল অবরোধে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ দেয়া হয়েছে। যেসব ব্যাংকের ক্ষতি হয়েছে সেগুলোকে বীমা দাবি পূরণ করতে হচ্ছে বীমা কোম্পানিগুলোকে।’

এছাড়া যেসব গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে সেগুলোর বীমা দাবিও বীমা কোম্পানিগুলোকে পূরণ করতে হচ্ছে বলে জানান বিআইএ প্রেসিডেন্ট।

তিনি আরো বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত যেসব যানবাহন ফার্স্ট পার্টি বীমা করা আছে সেগুলোর বীমা দাবিই বীমা কোম্পানিগুলো পূরণ করবে। এছাড়া যেসব যানবাহনের তৃতীয় পক্ষ বীমা করা রয়েছে সেগুলোর দাবি পূরণ করবে না বীমা কোম্পানিগুলো। এতে ক্ষতি হচ্ছেন যানবাহনের মালিকরা।’

সংবাদ সম্মেলনে বিআইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু জানান, বীমা করা যানবাহনের অধিকাংশেই ফার্স্ট পার্টি বীমা নেই। তবে করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ক্রয় করা যানবাহনের ফার্স্ট পার্টি বীমা রয়েছে।

তিনি জানান, বীমা করা যানবাহনের মধ্যে থার্ড পার্টি বনাম ফার্স্ট পার্টি হবে আনুমানিক ৮০:২০ শতাংশ। অর্থাৎ থার্ড পার্টি বীমার পরিমাণ হবে ৮০ শতাংশ এবং ফার্স্ট পার্টি বীমার পরিমাণ ২০ শতাংশ।

যানবাহনের অধিকাংশই থার্ড পার্টি বীমা হওয়ার কারণে হরতাল অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা বীমা দাবি চাইতে পারছে না। তাই নামমাত্র থার্ড পার্টি মটর ইন্স্যুরেন্স তুলে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানায় বিআইএ।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘দেশের বীমা খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। এ খাত থেকে প্রতি বছর ৬ হাজার কোটি টাকা প্রিমিয়াম ওঠে। হরতাল অবরোধের কারণে প্রতিদিন যে হারে প্রিমিয়াম আসার কথা সে হারে আসছে না। ফলে বীমা খাত ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।’

বিআইএ জানায়, হরতাল অবরোধে দেশের কয়েকটি সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। এরমধ্যে প্রতিদিন তৈরি পোশাক খাতে ৩৬০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়। বছরে এ খাতে ক্ষতির পরিমান দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

এছাড়া একদিনের হরতাল অবরোধে সরকারী রাজস্ব খাতে ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। বছরে এ খাতে ক্ষতির পরিমান দাঁড়ায় ১০ হাজার কোটি টাকা। পাইকারি মার্কেট, শপিং মলগুলোতে একদিনে ক্ষতি হয় ৬০০ কোটি টাকা। বছরে এ সেক্টরে ক্ষতির পরিমান দাঁড়ায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।

অপরদিকে প্রতিদিনের হরতাল-অবরোধে শিক্ষা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৫০ কোটি টাকা করে মোট ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। বছরে দু’টি খাতে ক্ষতির পরিমান দাঁড়ায় ৪ হাজার কোটি টাকা।

যাতায়াত খাতে দৈনিক ক্ষতির পরিমান ৬০ কোটি টাকা, ভ্রমণ খাতে এর পরিমান ৫০ কোটি টাকা। প্রডাকশন খাতে অবরোধে দৈনিক ক্ষতির পরিমান ১০০ কোটি টাকা। এক বছরে এ খাতে ক্ষতির পরিমান দাঁড়ায় ৪ হাজার কোটি টাকা।

বীমা খাতে দৈনিক ১৫ কোটি টাকা ছাড়াও অন্যান্য খাতে ক্ষতি হচ্ছে ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ হরতাল অবরোধের কারণে অর্থনীতিতে দৈনিক মোট ক্ষতি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ক্ষতি রোধে হরতাল অবরোধের বিকল্প কর্মসূচি দেয়ার আহ্বান জানায় বিআইএ।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী দুই বছরের বিআইএ’র কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বীমা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত কার্যক্রম, বীমা আইন বাস্তবায়নের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) সহযোগিতার পরিকল্পনা, বীমানীতির বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা, বীমা আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের বাধ্যতামূলকভাবে বীমার আওতায় আনা, বিআইএ’র নিজস্ব প্লটে ভবন নির্মাণ ছাড়াও বাংলাদেশের বীমা শিল্পকে বহিঃবিশ্বের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়াসহ আন্তর্জাতিকভাবে একটি ফেডারেশন গঠন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিআইএ।

এসময় অন্যদের মধ্যে নিটল ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান এ কে এম মনিরুল হক ছাড়াও নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিতি ছিলেন। সুত্রঃ বাংলা মেইল,

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com