হরতাল অবরোধে বাগেরহাটে মৎস্য কেনা বেচায় ধ্বস

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০১৫

হরতাল অবরোধে বাগেরহাটে মৎস্য কেনা বেচায় ধ্বস

 

Bagবাগেরহাটঃ বিএনপির ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাগেরহাটের দুটি মাছ বিক্রয় কেন্দ্রে সাদা মাছ কেনাবেচায় মারাত্মক ধ্বস নেমে এসেছে। টানা অবরোধের কারণে এই দুটি কেন্দ্রে মাছের আমদানি অস্বাভাবিকহারে কমে যাওয়ায় বেচাকেনা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।


প্রতিদিন এই দুটি মৎস্য আড়তে অন্তত দুইশ টন মাছ কেনাবেচা হয়ে থাকে। এই মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। অবরোধের ফলে পরিবহণ সংকট দেখা দেয়ায় অনেক ব্যবসায়ীকে ঝুঁকি নিয়ে কিছু মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে হচ্ছে। ফলে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত চাষী ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়তে হচ্ছে। তাই তারা অবিলম্বে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের রক্ষা করতে বিএনপির ডাকা অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই আড়ৎ দুটি থেকে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মোকামে মাছ রপ্তানী হয়ে থাকে।

রোববার বিকেলে দক্ষিণাঞ্চলের সাদা মাছের সবচেয়ে বড় বিক্রয় কেন্দ্র বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুর এবং ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী ও চাষীদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সুন্দরবন মৎস্য আড়ৎ এর সত্ত্বাধিকারী এবং বারাকপুর মৎস্য আড়ৎ সমিতির সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুর মৎস্য আড়তে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ টন সাদা মাছ বেচাকেনা হয়ে থাকে। যা টাকার পরিমানে এক থেকে দেড় কোটি টাকা। কিন্তু বিএনপি’র অবরোধ শুরু হওয়ার পর তা ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। এইভাবে অবরোধ চলতে থাকলে চাষী ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়বে বলে তিনি আশংকা করছেন।

মামা ভাগ্নে মৎস্য আড়ৎ এর সত্ত্বাধিকারী আবুল কালাম বলেন, বিএনপির ডাকা অবরোধের কারণে চাষী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবাই এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। অবরোধে মাছের নায্যমূল্য না পওয়ার আশংকায় অনেক চাষী তার খামার থেকে মাছ শিকার বন্ধ রেখেছেন। এই কারণে আড়তে মাছের আমদানি অস্বাভাবিকহারে কমে গেছে।

ব্যবসায়ীরা আল মামুন ও শাহ জালাল বলেন, চট্টগ্রাম ও ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছে আমরা মাছ সরবরাহ করে থাকি। কিন্তু অবরোধের কারনে পরিবহণ নিয়মিত না চলাচল করায় মাছ বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো হরতাল অবরোধ দিলেই আমাদের দারুন সমস্যায় পড়তে হয়। মাছ বিক্রি করতে না পারায় আয় কমে গেছে। এভাবে অবরোধ চলতে থাকলে ধার দেনা হয়ে পড়বে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

সোনার বাংলা মৎস্য আড়ৎ এর সত্ত্বাধিকারী ও বারাকপুর মৎস্য আড়ৎ সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, টানা অবরোধের কারনে বাইরের ব্যবসায়ীরা এখানে আসতে পারছেন না। চাষীরাও মাছের নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশায় মাছ কম ধরছেন। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাদা মাছ বাজারজাত হয়ে থাকে। সব মিলিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের এই আড়ৎ দুটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। তাই তারা এই মৎস্য শিল্পে জড়িতদের রক্ষা করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের এই ধরনের কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com