স্ত্রীসহ ৩ খুনের আসামী সেই পুলিশের এএসআই সৌমেন বরখাস্ত

সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

স্ত্রীসহ ৩ খুনের আসামী সেই পুলিশের এএসআই সৌমেন বরখাস্ত
সাময়িক বরখাস্তকৃত এএসআই সৌমেন রায় [ ছবিঃ সংগৃহীত ]

কুষ্টিয়ায় নারী, শিশুসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় খুলনার ফুলতলা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সৌমেন রায়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাঁকে একমাত্র আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত শাকিল খানের বাবা মেজবার রহমান।

রোববার রাতে মামলাটি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম।


এদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় আটক পুলিশ সদস্য এএসআই সৌমেন রায়কে  বিকেলে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় খুলনা রেঞ্জ পুলিশ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের দুজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ কুষ্টিয়ার এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম।

এএসআই সৌমেন গতকাল বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড় এলাকার একটি মার্কেটের সামনে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, স্ত্রীর শিশু ছেলেসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এএসআই সৌমেন রায় খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত। এর আগে তিনি কুষ্টিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

নিহত তিনজন হলেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাঁওতা গ্রামের বিকাশকর্মী শাকিল খান (৩৫), আসমা খাতুন (৩০) ও তাঁর ছেলে রবিন (৬)। নিহত আসমা এএসআই সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। দেড় বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়।

               তিনজনকে হত্যার পর সৌমেন রায় এই মার্কেটে ঢুকে পড়লে জনতা মার্কেট ঘিরে বিক্ষোভ করে [ ছবিঃ সংগৃহীত ]

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,গতকাল বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে একটি ভবন থেকে প্রথমে শিশু রবিন বের হলে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা এএসআই সৌমেন শিশুটির মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। এরপর তার মা আসমা খাতুন ও পরে তাদের সঙ্গে থাকা শাকিল নামের এক যুবককেও গুলি করেন সৌমেন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এসে সৌমেনকে ধাওয়া করলে এলাকাবাসীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন সৌমেন। সৌমেন দৌড়ে তিনতলা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।

এরপর লোকজন জড়ো হয়ে ওই ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আসমাকে মৃত ঘোষণা করেন। অস্ত্রোপচারকক্ষে গুলিবিদ্ধ শাকিল ও শিশু রবিনেরও মৃত্যু হয়। অন্যদিকে পুলিশ ওই ভবন থেকে অস্ত্রসহ এএসআই সৌমেনকে আটক করে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম জানান, সৌমেন রায় পুলিশের এএসআই। বর্তমানে তিনি খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত। এর আগে তিনি কুষ্টিয়ায় চাকরি করেছেন। পরকীয়ার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

সংশ্লিষ্ট সংবাদঃ কুষ্টিয়ায় দিবালোকে  শিশুসহ  ৩ জনকে গুলি করে হত্যা

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৪ জুন ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com