স্কুলে স্কুলে বই উৎসব

শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০১৫

স্কুলে স্কুলে বই উৎসব

Back to schoolঢাকা থেকে নিজামুল হকঃ নতুন বছরের শুরুটাই ছিল উৎসবের । আর সকালে এ উৎসব ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রতিটি স্কুলে। উৎসবের একটাই কারণ শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনই খালি হাতে স্কুলে এসে নতুন বই পাওয়া। এবার সারাদেশে সরকার প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিচ্ছে বিনামূল্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের নতুন বই।

দু’দিন আগেই প্রকাশ হয়েছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী এবং জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল। এ কারণে ঘরে ঘরে ছিল আনন্দ। হাতে নতুন বই পাওয়ার উচ্ছ্বাস এ আনন্দকে যেন আরো বাড়িয়ে দেয়। জামায়াতের ডাকা হরতাল উপেক্ষা করেই গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উত্সব। এছাড়া দেশের প্রতিটি স্কুলে নিজেদের উদ্যোগে পালিত হয় বই উৎসব


সরেজমিনে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, প্রাথমিক স্তরের বেশিরভাগ শিশুই এসেছে বাবা-মায়ের সাথে। সরকারিভাবে ঘোষণা দিয়ে এই বই উত্সবের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা বই নেয়ার জন্য সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। খাতায় হাজিরা দিয়ে বই সংগ্রহ করে। শিশুরা নতুন বই পাওয়ার সাথে সাথে আনন্দে নেচে ওঠে। পরে তা বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয়। গতকাল বছরের প্রথম দিনে ক্লাস ছিল না, তবে অনেক শিক্ষার্থী বই নিয়ে নতুন ক্লাসে যায়। আনন্দের জোয়ারে ভেসে যায় ছোটদের ক্যাম্পাস। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী আয়শা জানায়, ‘নতুন বইয়ে গন্ধ নিতে নিতে বাড়ি এসেছি। নতুন বইয়ে মলাট দিয়ে কাল বই নিয়ে স্কুলে যাবো।’

গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠপর্যায়ের বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার সময়ও শিক্ষার্থীরা টাকা দিয়ে বই কিনতো। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০১০ সাল থেকে প্রথম শ্রেণি হতে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এখন কেউ বলতে পারবে না যে তারা আর বই পায় না।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, দাখিল ও দাখিল ভোকেশনাল, মাধ্যমিক, এসএসসি ভোকেশনালে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৪ জন। এদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে ৩২ কোটি ৫৮ লাখ ৭৯ হাজার ৬৭৪ কপি বই। একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানসহ এবার পাঠ্যবই মুদ্রণের কার্যাদেশ পেয়েছে মোট ২৩৮টি প্রতিষ্ঠান।

এবারই প্রথমবারের মতো ৯ম শ্রেণিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয় চালু হয়েছে। এছাড়া প্রথমবারে মতো ৮ম শ্রেণিতে কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং ৯ম শ্রেণিতে ক্যারিয়ার শিক্ষা চালু হয়েছে। আর প্রথমবারের মতো ইবতেদায়ী স্তরের সকল বই চার রঙে ছাপা হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যপুস্তক দেয়া হচ্ছে। ওই বছরের পয়লা জানুয়ারি থেকে সারাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্সব করে বই দেয়া হচ্ছে। প্রায় ১৭ বছর পর ২০১২ সালে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করা হয়। নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে মাধ্যমিক স্তরে সাতটি পাঠ্যপুস্তক নতুনভাবে তৈরি করা হয়। একই সময়ে প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক স্তরের বাংলা ব্যাকরণ, ইংরেজি গ্রামার ও দ্রুতপঠন পুস্তকও বিনামূল্যে দেয়া শুরু হয়। এছাড়া ওই বছর প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ শ্রেণিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয় চালু হয়। তবে অনেক স্কুলে কম বই সরবরাহ করার ফলে শিক্ষার্থীরা সব বই পায়নি। তবে এবার বইয়ের কোন সংকট হবে না বলে আশা করছে এনসিটিবি কর্তৃপক্ষ।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com