সেভ করে ভারতে পালাতে গিয়ে ধর্ষক সাইফুর গ্রেপ্তার

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

সেভ করে  ভারতে পালাতে গিয়ে  ধর্ষক সাইফুর গ্রেপ্তার
সেভ করার আগে-পরে আসামি সাইফুর রহমান

সিলেট মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের মামলার আসামি সাইফুর রহমান ভারতে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। গোফ দাঁড়ি কেটে সেভ করে  পূর্বের রূপ পরিবর্তন করে পালাতে চেয়েছিলেন সাইফুল- এমনটা জানিয়েছে পুলিশ।

আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার দিকে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা নোয়ারাই খেয়াঘাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার সাইফুর রহমান সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার সোনাপুরের চান্দাইপাড়ার মো. তাহিদ মিয়ার ছেলে। সাইফুর অস্ত্র মামলারও আসামি। ঘটনার দিন রাত ৩টার দিকে এমসি কলেজের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা ও একটি চাকু, দুটি লোহার পাইপ, প্লাসসহ বিভিন্ন জিনিস জব্দ করে পুলিশ।

প্রযুক্তির সহায়তায় সীমান্ত এলাকার দিকে আসামি সাইফুর রহমানের অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে এএসপি বিল্লাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ছবিতে সাইফুরের দাঁড়ি ছিল। তিনি দাঁড়ি-গোফ সেভ করে  মুখে মাস্ক লাগিয়ে খেয়াঘাটে যান। পরনে ছিল টি-শার্ট ও প্যান্ট। ভোরে সীমান্ত এলাকায় পৌঁছান। হয়তো সীমান্ত এলাকায় গিয়ে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা ছিল।

এসআই হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ছাতক উপজেলার সুরমা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় নজরদারি করছিল। সাইফুরকে ভোর ছয়টা থেকে খেয়াঘাট পার হয়ে অপেক্ষা করতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তখন তাকে নাম জিজ্ঞেস করা হয়। এতে তিনি সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তাকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। থানায় তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

—————————

আরো পড়ুনঃ  নাইজেরিয়ায় ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড আইন পাস

—————————

অন্যদিকে মামলার ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে হবিগঞ্জের মাধবপুরের মনতলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

এর আগে ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নির্যাতনের শিকার ওই বধূর স্বামী বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে নগরীর শাহপরাণ থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন- এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাছুম, রবিউল হাসান, তারেক আহমদ ও অর্জুন। এজাহারভুক্ত আসামিদের সবাই আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের অনুসারী এবং ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানা গেছে।

গেল শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির এক নারি স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসেন। এ সময় ছাত্রলীগকর্মী এম. সাইফুর রহমান ও শাহ মাহবুবুর রহমান রনির নেতৃত্বে স্বামী ও স্ত্রীকে পার্শ্ববর্তী কলেজ ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায় আসামিরা। পরে সেখানে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে তারা।

এসময় ছাত্রলীগকর্মীরা ওই তরুণীর স্বামীর নিজস্ব গাড়িটও ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গাড়ি উদ্ধার করে।

শনিবারের চিঠি /  আটলান্টা / সেপ্টেম্বর ২৭,২০২০

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:২০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com