সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে পূনরায় নৌযান চলাচল শুরু

বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৫

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে পূনরায় নৌযান চলাচল শুরু

 

মংলা, বাগেরহাটঃ সুন্দরবনে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবির পর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা শ্যালা নদীতে বুধবার সকাল থেকে পূনরায় নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। নৌপথটি বন্ধ থাকায় মংলা বন্দর ও শেলা নদীর আশেপাশে নৌযান জটের কারনে বুধবার সকালে শুধুমাত্র সুন্দরবনের শেলা নদীর মূখে আটকে পড়া নৌযানগুলো মংলা বন্দরে ঢুকেছে কিন্তু মংলা বন্দরের পশুর নদীতে অবস্থান নেয়া পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বার্জগুলো দেশের কোথাও ছেড়ে যেতে পারেনি। তবে এই পথে বৃহষ্পতিবার থেকে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছে নৌযান শ্রমিকরা। গত ২৭ দিনে মংলা বন্দরের পশুর নদী ও তার আশেপাশে অন্তত পাঁচ শতাধিক নৌযান আটকে পড়ে।


মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথটি পূনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের এই পথ দিয়ে শুধুমাত্র দিনের বেলায় নৌযান চলাচল করবে। তবে এই পথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরুর হুমকির পর বিকেলে আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে মংলা বন্দরের যোগাযোগ স্থাপনকারী ওই নৌপথটি পূনরায় চালুর ঘোষণা দেয়।

গত ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ডুবির পর সরকার এই পথ দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মংলা উপজেলা শাখার সভাপতি আনোয়ার চৌধুরী সকালে এ প্রতিনিধিকে  বলেন, গত ২৭ দিনে মংলা বন্দরের পশুর নদীতে প্রায় পাঁচ শতাধিক এবং বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীতে শতাধিক নৌযান আটকা পড়ে। এই পথটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই দুই দিক থেকে নৌযান চলাচল কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই কারণে বুধবার সকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীতে অবস্থান নেয়া শতাধিক নৌযানের মধ্যে ৬৫টি নৌযান মংলা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। তবে জটের কারনে মংলা বন্দরের পশুর নদীতে পণ্য নিয়ে অবস্থান করা নৌযানগুলো এখনো দেশের কোথাও ছেড়ে যেতে পারেনি। তবে বৃহষ্পতিবার থেকে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছি।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলম সকালেএ প্রতিনিধিকে বলেন, সুন্দরবনের এই নৌপথটি পুনরায় চালু করে দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আন্তর্জাতিক মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথটি পূনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের এই পথ দিয়ে শুধুমাত্র দিনের বেলায় সীমিত আকারে নৌযান চলাচল করবে। তবে এই পথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ থাকবে। সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচলের সময় যে কোন দূর্ঘটনা এড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

মংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমা মো. হাসান বলেন, ২৭ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সকাল থেকে সীমিত আকারে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল শুরু করেছে। নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় মংলা বন্দর ও তার আশেপাশের নদীতে কয়েকশ নৌযান আটকে পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। মংলা বন্দরের পণ্য পরিবহণ করা লাইটারেজ জাহাজগুলো যাতে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণ করতে না পারে এবং তাদের যানের ফিটনেস আছে কিনা তা কোস্টগার্ড তদারকি করবে। বর্তমানে মংলা বন্দরে সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামালবাহী চারটি, ইউরিয়া সারবাহী তিনটি এবং একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ অবস্থান করছে। আজ নতুন আরও তিনটি জাহাজ বন্দরের নোঙ্গর কথা রয়েছে। বন্দরে অবস্থান নেয়া জাহাজগুলোতে পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com