সুনামগঞ্জে সাংবাদিক আমিনুল ইসলামের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার হুমকি

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০১৫

সুনামগঞ্জে সাংবাদিক আমিনুল ইসলামের হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার হুমকি

 

সুনামগঞ্জ: সাংবাদিক যে হাতে তার সম্পর্কে সংবাদ লিখেছেন সে হাতের কব্জি কেটে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন সুনামগঞ্জ শহরের এক যুবক। শুধু তাই নয়, দুনিয়া থেকে গায়েব করে দেয়ার কথাও বলেছেন।


sunamganj_71614গত ২৭ জুলাই বিকেল পাঁচটার দিকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের আরপিননগর এলাকায় সোনালী ব্যাংক পয়েন্টে প্রকাশ্য জনসম্মুখে এ হুমকি দেয়া হয়েছে দৈনিক সুনামকণ্ঠ পত্রিকার ক্রাইমচিফ আমিনুল ইসলামকে।

আরমানুল সিদ্দিক মান্না নামের ‘ডন’ চেহারার ওই যুবক সাংবাদিক আমিনুলকে তার অফিসে যাওয়ার সময় পথরোধ করেন। এরপর সেখানে দাঁড় করিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও নিজেকে শহরের ডন হিসেবে দম্ভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখনো আমার ক্ষমতা দেখিস নি। আমি শহরের ডন। আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি করার মজা তুই বুঝবি। তুই যে হাতে লিখিস সে হাতের কব্জি আমি কেটে নিয়ে যাব।’

এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ও দ্রুত বিচারসহ বেশি কয়েকটি মামলার আসামি ওই যুবক হুমকি দিয়ে আরো বলেন, ‘যতো তাড়াতাড়ি পারিস অফিস থেকে ভাগ। আমাকে চিনস? তোকে দুনিয়া থেকে গায়েব করে দিব। তুই রাস্তা দিয়ে চলাচল করিস না। শিগগিরই তোর অফিস জ্বালিয়ে দিব। আমি কী জিনিস তুই বুঝবি।’

‘বড় বড় সাংবাদিককে তিনি টাকা দিয়ে পোষেন’ এমন দাবি করে ওই যুবক আরো বলেন, ‘তোকে যেন দ্বিতীয় বার এই এলাকার কোনো রাস্তায় না দেখি। শহরের সব বড় বড় সাংবাদিক কে আমি পোষি, আমার কাছে শহরের কোনো নেতার টাইম নাই। এদের কে আমি নেতা বানাই।’

এ ঘটনার পরে রাতেই সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে মঙ্গলবার সকালে র‌্যাব-৯ (সিপিসি ৩) কোম্পানিতে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম দৈনিক সুনামকণ্ঠ ছাড়াও নিউজ পোর্টাল বাংলামেইল ও জাতীয় দৈনিক ভোরের পাতার সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরমানুল সিদ্দিক মান্না নামের ওই যুবক শহরের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, চাঁদাবাজি আর নানা অনৈকিক কাজের অভিযোগে দায়ের করা বেশ কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এদিকে, সাংবাদিক আমিনুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দেয়ায় সুনামগঞ্জ শহরে কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে মান্নাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ বলেছেন, ‘হুমকির বিষয়টি অবগত হয়েছি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন রাতে জেলা শহরের তাহিরপুরের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করার অভিযোগে আরমানুল ছিদ্দিক মান্নার বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। রাতেই বিশেষ অভিযানকালে সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সংক্রান্ত আমিনুল ইসলামের করা প্রতিবেদন পরদিন ১১ জুন স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়াও সদর উপজেলার ধোপাজান নদীতে মান্নার লোকদের বেপরোয়া চাঁদাবাজী নিয়ে গত ২ জুলাই সুনামকণ্ঠ পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব ছাড়াও শহরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী মান্নাকে ধরতে পুলিশের বেশ কয়েকটি অভিযানের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

আরমানুল ছিদ্দিক মান্নার বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। বছর দেড়েক আগে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে মান্নার প্রতিপক্ষ গ্রুপ তাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা পেলেও তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেমে থাকে নি।

কদিন আগে শহরের ময়নার পয়েন্টে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে চাইলে সে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বুভির পয়েন্টে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। সেখান থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ২৯ জুলাই ২০১৫

  •  

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ২:৫২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com