সুন্দরবনের লোকালয়ে বাঘের উপদ্রপঃ বিনিদ্র রজনী কাটছে গ্রামবাসীর

শুক্রবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

সুন্দরবনের লোকালয়ে  বাঘের উপদ্রপঃ বিনিদ্র রজনী কাটছে গ্রামবাসীর

আবু হোসাইন সুমন, মংলা, বাগেরহাটঃ  সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মংলা উপজেলার  বরইতলা ও আশপাশের কয়েক গ্রামে হঠাৎ করে বাঘের উৎপাত বেড়ে গেছে। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রায় রাতেই হানা দিচ্ছে লোকালয়ে। বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে গরু, হরিণ, কুকুর ছাগলসহ গবাদিপশু ধরে নিয়ে যাচ্ছে। লোকালয়ে এলেই বনবিভাগ ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং গ্রামবাসী বিকট শব্দ সৃষ্টি করে বাঘকে বনে তাড়িয়ে দিচ্ছে। এক  মাসের বেশি সময় ধরে এখানকার কয়েক গ্রামের মানুষ বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, বাঘের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী, বনবিভাগ ও টাইগার টিমের সদস্যরা পালাক্রমে রাতভর পাহার দিচ্ছে। বাঘ-আতঙ্কে সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের রাস্তাঘাট ও বাজার জনশূন্য হয়ে পড়ে। ঘরের দরজা বন্ধ করে সবাই অবস্থান নেয় ঘরে। পায়খানা-প্রসাব করার জন্য তারা সন্ধ্যার পর ঘরের বাহির হতে পারছে না। এ ছাড়া এসব গ্রামের লোকজনের থাকার ঘরগুলো খুবই দুর্বল। অনেক পুরোনো ও কাঠপাটের বেড়া দিয়ে তৈরি। বাঘের থাবায় তা যেকোনো সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। তাই তারা জানমাল রক্ষায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন-রাত পার করছে। আর বাঘের ভয়ে আতঙ্কিত বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ বাঘের উৎপাত সবচেয়ে বেশি বেড়ে গেছে বিশেষ করে বরইতলা ফরেস্ট ক্যাম্প এলাকায়।


ক্যাম্পের আশপাশ দিয়ে বাঘের চলাফেরায় বনবিভাগের লোকজন ভয়ে রাত কাটাচ্ছে। আর বনবিভাগের সদস্যদের বসবাসের ঘরও খুব নাজুক। তাই বনবিভাগসহ লোকালয়ে কয়েক হাজার মানুষের বিনিদ্র রাত কাটছে। এখানকার লোকজন রাতে ঘরের মধ্যে আলো না জ্বালিয়ে ঘরের বাইরে, উঠানে বাতি জ্বালিয়ে রাখছে, যাতে বাঘ এলে দেখা যায়। আর ওই এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় সেখানকার মানুষের মধ্যে আতঙ্কটা আরো বেশি। তারপর বাঘ রক্ষা ও সাধারণ লোকজনের জানমাল রক্ষায় রাতের বেলায় পালাক্রমে পাহারা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদের  সদস্য ইমরান বিশ্বাস  বলেন, বাঘের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রাতে বাঘ এসে গোশালা থেকে গরু, ছাগল ,মহিষসহ অন্যান্য পশু ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, বাঘ লোকালয়ে ঢুকে পড়লে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ওই এলাকায় বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া বাঘ লোকালয়ে ঢোকার খবর পেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ও শব্দের সৃষ্টি করে বনে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন, বনবিভাগ ও টাইগার টিমের সদস্যরা পর্যায়ত্রুমে পাহারার ব্যবস্থা করেছে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:২১ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com