সিরিয়ায় পাঁচ বছরে ১৩ হাজার লোককে ‘গণ-ফাঁসি’

মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

সিরিয়ায় পাঁচ বছরে ১৩ হাজার লোককে ‘গণ-ফাঁসি’

শনিবার রিপোর্টঃ অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের রিপোর্টটি তৈরি করেছে গত ছয় বছর ধরে আশি জনের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। এদের মধ্যে সায়ডানায়া কারাগারের সাবেক বন্দী যেমন আছেন, তেমনি আছেন ঐ জেলখানায় রক্ষী হিসেবে হিসেবে কাজ করেছেন এমন কয়েকজন।

রিপোর্টে অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করছে, গণহারে এই ফাঁসির ঘটনাগুলো ঘটেছে ২০১১ সাল হতে ২০১৫ সালের মধ্যে। অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালেরএকজন গবেষক ডায়ানা সিমান বলেন, জেলখানায় যাদের রাখা হতো, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক, এবং মূলত প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরোধিতা করার কারণেই তাদের জেলে ভরা হয়।


ডায়ানা সীমান বলছেন, গত ছয় বছর ধরে আমরা আমরা বহু বেসামরিক মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছি, যাদের সিরিয়ার সরকারের বিরোধী বলে গণ্য করা হয়। এরা সিরিয়ায় সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, বা হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। সায়েড্-নায়া কারাগারে এবং সিরিয়ার অন্যান্য জায়গায় এধরণের লোকজনকেই শাস্তি দেয়া হচ্ছে। সেখানে তাদের রাখা হচ্ছে খুবই অমানবিক পরিবেশে। তাদের ওপর বন্দী অবস্থায় নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তাদের অনাহারে রাখা হচ্ছে, চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না এবং ফাঁসিতে ঝোলানো হচ্ছে।

ওমর আল শোগরে - বন্দীত্বের আগে-পরে ছবিঃ অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল

ওমর আল শোগরে – বন্দীত্বের আগে-পরে ছবিঃ অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল

রিপোর্টে বলা হয়, প্রতি সপ্তাহে, কখনো কখনো সপ্তাহে দুবার করে বিশ হতে পঞ্চাশ জন বন্দীকে নিয়ে গিয়ে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। দামেস্কের উত্তরে এক গোপন জায়গায় এদের ফাঁসি দেয়া হতো।

সেখানে নেয়ার আগে অল্পক্ষণের জন্য বন্দীদের নিয়ে যাওয়া হতো একটি সামরিক আদালতে। সেখানে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ করে ফেলা হতো তাদের বিচার।

অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের ডায়ানা সীমান দাবি করছেন, এভাবে গণহারে যে লোকজনকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে, সেটা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের জ্ঞাতসারেই ঘটেছে।

তিনি বলেন, “সায়েড্-নায়া জেলখানার সাবেক রক্ষী এবং কর্মকর্তাদের দেয়া বিবরণ থেকে আমরা বলতে পারি, সিরিয়ার সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানেই এই গণহারে ফাঁসি দেয়া হচ্ছে। ফাঁসি দেয়ার আগে তাদের কোন সামরিক আদালতে মাত্র দুই তিন মিনিটের জন্য হাজির করা হয়। কাজেই ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানদন্ডের কিছুই এসব আদালতে মানা হয় না। সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর অধীনে চলে এসব আদালত এবং এরা কি করছে তা অবশ্যই প্রেসিডেন্টের কাছে পরবর্তীতে জানায়।” বিবিসি

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০১৭

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:৩২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com