সিরাজগঞ্জে বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত তাঁতীরা

সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৫

সিরাজগঞ্জে বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত তাঁতীরা

 

ইউসুফ দেওয়ান রাজু, সিরাজগঞ্জঃ বাঙালির আদি আবহনে মাততে বরাবরের মতো আর মাত্র কয়েকদিন পরেই আসছে বাংলা নববর্ষ, পহেলা বৈশাখ। সব ধর্মের মানুষ বিভেদ ভুলে উৎসবের এদিন সবাই মিশবে এক কাতারে। আর এ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের হাজার-হাজার তাঁতী দিনরাত এখন নানা রঙ্গের বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।


পাশ্চাত্যের আধুনিক পোশাক ও খাবার ছেড়ে প্রত্যেকের পরনেই থাকবে বাঙালিআনা রং-বেরঙয়ের বাহারী পোশাক। ঘরে-ঘরে রান্না হবে পানতা-ইলিশ, নানান পদের ভর্তা, পায়েশসহ নানা রকম মিষ্টান্ন। এদিন পুরুষের পছন্দ যেমন পাঞ্জাবি, পাজামা, ধুতি ও ফতুয়া। তেমনী নারীদের প্রজাপতি, ঢাক, ডোল, কুলা, ঘুড়িসহ বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতীক সম্বলিত নকশা করা লাল পের, সাদা শাড়ি লাগবেই। এজন্য এই শাড়ির ব্যাপক চাহিদার কারণে সিরাজগঞ্জের হাজার-হাজার তাঁতী দিনরাত এখন নানা রঙের বৈশাখী শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। যাতে এবার থাকছে আরও নতুনত্ব। ৩শ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা মূল্যের এসব শাড়ি ইতোমধ্যেই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান দখল করে নেয়ায় আর্থিক লাভবানে দীর্ঘ দিনের চলমান হরতাল অবরোধে ধস নামা এ ব্যবসা এখন চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। এদিকে ভারতের তৈরীকৃত শাড়ির তুলনায় এখানকার শাড়িতে আধুনিক ডিজাইন ও উন্নত মানের হওয়ায় এ উৎসবে রপ্তানি হবে শত কোটি টাকার শাড়ি বলে আশাবাদ তাঁতীদের।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এলাকার তাঁতে উৎপাদিত বৈশাখী কটন, জামদানি, সিল্ক, চোষা, ব্লক ও স্কিনপ্রিন্ট শাড়ির ব্যাপক চাহিদা এবার ভারতে। কারণ এসব বস্ত্র সে দেশের সুতি কাপড়ের চেয়ে উন্নত, টেকশই, আধুনিক নকাশা এবং কমমূল্য হবার কারণে কোটি-কোটি টাকার শাড়ি এবারের বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে এলাকায় যেসব শাড়ি ১৫শ টাকা দিয়ে তৈরি হয়। ওইসব জামদানি শাড়ি ভারতে বিক্রি হচ্ছে ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকায়।

এ কারণে তাঁতীদের এখন ভাগ্য খুলে দিয়েছে বলে জানালেন, জাতীয় কারুশিল্পী পুরস্কারপ্রাপ্ত জেলার এনায়েতপুর থানার খামার গ্রামের ‘টাঙ্গাইল তাঁত বাজার’ কারখানার মালিক আফজাল হোসেন লাভলু এবং তোফাজ্জল হোসেন বাবুল। তারা জানান, বৈশাখ উপলক্ষে ভারতের ব্যাপারীরা তাদের কাছে কোটি টাকার শাড়ি চেয়েছিল। কিন্তু ভারতে বাংলা টাকার মান বেড়ে যাওয়ায় লাভ একটু কম হবে। তবে চাহিদা গত বছরের চেয়ে বেশি। তাদের এবার প্রায় ৩০ লাখ টাকার শাড়ি ভারতের ব্যাপারীরা এসে কিনে নিয়ে গেছে।

এদিকে, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তাঁত বিশেষজ্ঞ আকতারুজ্জামান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ একুশে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আলামিন এবং কাপড় ব্যবসায়ী ফজলুল হক ডনু জানান, শুল্কমুক্তভাবে এ দেশীয় তাঁত বস্ত্র ভারতীয় বাজারে প্রবেশের দাবি সিরাজগঞ্জের তাঁতীদের দীর্ঘদিনের হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু সিরাজগঞ্জ থেকেই গত ঈদ ও বৈশাখ মিলে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার তাঁত বস্ত্র ভারতে রপ্তানি হয়েছে। আর এ ধারা আগামীতে আরো অব্যাহত থাকবে। তাই ভারত সহ অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা থাকলে তাঁতীদের পাশাপাশি সরকারও বেশি রাজস্ব পেত।

বৈশাখী শাড়ি তৈরির এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫ শতাধিক স্কিনপ্রিন্ট কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রতি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে নকশা হচ্ছে ৪ শতাধিক শাড়ি। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে আরো প্রায় ৫ হাজার মানুষের। এ কারখানার সঙ্গে সম্পৃক্ত এনায়েতপুরের গোপীনাথপুর গ্রামের সৈয়দ হোসেন ও আনোয়ার হোসেন জানান, গত ৬ বছর ধরে শুরু হওয়া এ ব্যবসায় এবার সবচেয়ে চাহিদা বেশি। ২০ টাকা করে প্রতি শাড়ি স্কিনপ্রিন্ট করে প্রতিদিন গড়ে তারা হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

 

শনিবাবের চিঠি / আটলান্টা / ১৩ এপ্রিল ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com