সিটি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্ত না হওয়া লজ্জার

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০১৫

সিটি নির্বাচনের অনিয়ম তদন্ত না হওয়া লজ্জার

 

All-CC-md2015032209462720150425182204ঢাকা: ২৮ এপ্রিলের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগগুলোর পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত না হওয়া লজ্জার বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ডিক্যাব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।


 গিবসন জানান, নির্বাচনের দিন সকালে পোলিং এজেন্ট ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন। যেহেতু তখনও পর্যন্ত সহিংসতার কোনো ইঙ্গিত ছিল না তাই তিনি স্বাগত জানিয়েছিলেন।

৮ এপ্রিল ভোটের দিন সকাল ৯টা ৫ মিনিটে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছিলেন রাষ্ট্রদূত রবার্ট গিবসন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম দিনের শেষ সময় পর্যন্ত এভাবেই নির্বাচন চলবে। তবে সকালের পর পরিস্থিতি ক্রমেই পাল্টে যায়। আমরা সবাই জানি যে সকালের পর নির্বাচনে ব্যাঘাত ও হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটে এবং এক পর্যায়ে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এসব ব্যাঘাত ও হস্তক্ষেপের পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত হবে।’

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ ও ব্যাঘাতের প্রমাণ গণমাধ্যমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব অভিযোগের পূর্ণ তদন্ত না হওয়া লজ্জার।’

এরআগে গেল মে মাসে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব সংলাপে সিটি নির্বাচনে অনিয়মের স্বচ্ছ তদন্তের তাগিদ দিয়েছেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারমেন। আর তারও আগে এপ্রিলেই ওইসব অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে বিএনপি সব আলোচনায় যুক্ত থাকবে বলেও বৃহস্পতিবারের এই আলোচনা সভায় আশা প্রকাশ করেন রবার্ট গিবসন। গত মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। তিনি বলেছিলেন, ‘যে কোনো ইস্যু নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত আছে বিএনপি।’ রিপন সেদিন আরো বলেছিলেন, ‘বহির্বিশ্ব চায় বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসুক। আলোচনার মাধ্যমেই এই দুটি বড় রাজনৈতিক দল দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিএনপি বার বার সরকারকে আলোচনার জন্য আহ্বানও জানিয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা বিএনপির সেই আহ্বানে ছাড়া দেয়নি।’

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বছরপূর্তিকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের শুরুর দিক থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এরপর ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল দেয়া হলে ও বিএনপি সেই নির্বাচনে এলে রাজনৈতিক উত্তাপ কমে আসে। তবে ২৮ এপ্রিল ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও ভোট চুরির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জন করার ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম থেকে বিএনপির সমর্থন পাওয়া মনজুর আলম। একইসঙ্গে রাজনীতি থেকেও অবসরে যান তিনি।

এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে একই অভিযোগ এনে ঢাকা থেকেও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা আসে বিএনপির পক্ষে থেকে।

বিএনপি কারচুপির অভিযোগ আনলেও আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষ্য, বিএনপির নির্বাচন বর্জনের এই সিদ্ধান্ত ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

তবে নির্বাচনের একদিন পর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জন করাকে তাদের ব্যক্তিগত বিষয় বলে অভিহিত করেছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। দুই একটি কেন্দ্র ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে বলেও মন্তব্য ছিল তার।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১১ জুন ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৪৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com