সালাহ উদ্দিনকে যেমন দেখে এলেন জনি

শুক্রবার, ২৯ মে ২০১৫

সালাহ উদ্দিনকে যেমন দেখে এলেন জনি

 

শনিবার রিপোর্টঃ বিএনপির নিখোঁজ যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে গত ১২ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং এ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর রহস্যজনকভাবে এক পার্কে আবির্ভূত হন। এরপর শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। যদিও সালাহ উদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার নিজ দল বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো বক্তব্য দেয়নি। নেতারাও কিছু বললে চাচ্ছেন না।


সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে শিলং গিয়েছিলেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি। সেখানে বেশ কিছু দিন অবস্থান করেন এবং কিছু সময়ের জন্য সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার সুযোগ পান। ঢাকায় ফেরার পর এ ব্যাপারে তার সঙ্গে বাংলামেইলের কথা হয়। তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট কিরণ শেখ

শনিবারের চিঠির পাঠকদের জন্য সে সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলোঃ

 সালাহ উদ্দিন আহমেদের খোঁজ নিতে আপনাকে কি দল থেকে পাঠানো হয়েছিল? আমাকে দল থেকে ভারতে পাঠানো হয়নি। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে সালাহ উদ্দিন আহমেদের খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম।

শিলংয়ে হঠাৎ আবির্ভাবের পর থেকেই দেখা যায়- গ্রামীণ চেকের একটি উলের চাদর সবসময়ই জড়িয়ে রেখেছেন সালাহ উদ্দিন। এই চাদর নিয়ে গণমাধ্যমেও আলোচনা হয়। পরে জানা যায়, এর সাথে সালাহ উদ্দিনের কতো আবেগ জড়িত! তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গিয়ে যে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিল সেখান থেকেই পাওয়া এটি। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘এই চাদর অনেক স্মৃতি বহন করছে। এখানে আমার একমাত্র সম্বল এটি। তাই সারাক্ষণ শরীরে জড়িয়ে রাখি। ভাবছি এই চাদর গায়ে জড়িয়েই দেশে ফিরব।’

সর্বক্ষণ ওই চাদর গায়ে জড়ানো সালাহ উদ্দিনকে কেমন দেখেছেন এ প্রশ্ন করা হয় জনিকে।

joniশিলংয়ে তার অবস্থা কেমন দেখলেন? তার অবস্থা বেশি ভালো না। তিনি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। কারণ তিনি কিডনি, চর্মরোগ ও প্রোস্টেটসহ কিছু সমস্যায় ভুগছেন। এইসব কারণে তাকে শিলংয়ে মিমহ্যানজ মেন্টাল হসপিটাল থেকে উন্নত চিকিৎসা করার জন্য নর্থ-ইস্ট ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল রিসার্চ সেন্টারে (নেগ্রিমস) স্থানান্তর করা হয়েছে। আর নেগ্রিমস হসপিটালে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে নেয়ার পর ওই হসপিটালের প্রশাসন তার সাথে আমাকে সাক্ষাৎ করতে দিলেও কথা বলার কোনো সুযোগ ছিল না।

 নিখোঁজ থাকার পর হঠাৎ শিলংয়ে তার দেখা পাওয়া যাওয়ার ব্যাপারে তিনি কি আপনাকে কিছু বলেছেন? শিলংয়ে মিমহ্যানজ মেন্টাল হসপিটালে আমি প্রথম যখন সালাহ উদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি তখন তিনি আমাকে বলেছেন, ‘তোমরা এসেছো?’ এই কথা বলার কারণও ছিল। কারণ তিনি মনে করেছিলেন আমার সঙ্গে ভাবি (তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ) এসেছেন। আমি তখন বললাম, ভাই আমি একাই এসেছি, ভাবি ভিসা পেলেই চলে আসবেন। তখন তিনি আমাকে বললেন, ‘ভারত সরকার, ভারতের প্রশাসন ও ভারতের চিকিৎসকদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ তারা আমাকে ভারতে আশ্রয় দিয়েছেন এবং চিকিৎসা দিচ্ছেন। আমি বাংলাদেশের জনগণের কাছেও কৃতজ্ঞ। কারণ তাদের দোয়াতেই আমি বেঁচে আছি।’ এই কথাগুলোর বাইয়ে সালাহ উদ্দিন আহমেদ আমাকে আর কিছু বলেননি। তাই এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।

সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে আপনার কত মিনিট কথা হয়েছে? হসপিটাল কর্তৃপক্ষ সালাহ উদ্দিন আহমেদের সাথে কথা বলার জন্য আমাকে ১০ মিনিট সময় দিয়েছিল। এই ১০ মিনিটের বাইরে আর কোনো কথা বলতে পারিনি।

১০ মিনিট তো অনেক সময়! সালাহ উদ্দিন আহমেদ ভাইয়ের সাথে আমার যখন দেখা হয় তখন আমরা দুই জন হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। ওই সময় দুই মিনিট কেউ কোনো কথা বলতে পারিনি। আর ওই দুই মিনিট দুই জনের চোখ দিয়ে শুধু জল পড়েছে। এরপর তিনি শুধু আমাকে একটি কথাই বলেছেন। আর সেটা হলো, ‘আমি ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ এবং বাংলাদেশের জনগণের দোয়াতে আমি বেঁচে আছি। আর আমি যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাংলাদেশে ফিরতে পারি এর জন্য সবাইকে দোয়া করতে বলবে।’

সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিষয়ে ভারত সরকার এখন কী করবে মনে হচ্ছে? অভিবাসন আইনভঙ্গ করার অভিযোগে সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা ভারত সরকারের কাছে প্রত্যাশা করছি সালাহ উদ্দিনের এই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য।

তাকে দেশে ফিরে আনার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো তৎপরতা চলানো হচ্ছে কি না? এই বিষয়টি আইনের বিষয়। আর এই বিষয়ে একমাত্র বিএনপির নীতিনির্ধারনী ফোরামের নেতারাই বলতে পারবেন। তাই এই বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে চাই না।

বাংলামেইলের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা / ২৯ মে ২০১৫ ।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:১৭ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৯ মে ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com