সাভারে ভূত আতঙ্কে দ্বিতীয় দিনেও অসুস্থ অনেকে

সোমবার, ২৯ আগস্ট ২০১৬

সাভারে ভূত আতঙ্কে দ্বিতীয় দিনেও অসুস্থ অনেকে

জাহিদুর রহমান, সাভারঃ সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় রহস্যজনক ভূত আতঙ্কে বেশ কয়েকজন শ্রমিক দ্বিতীয় দিনের মতো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকালের মতো আজ রোববারও সকালে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের নরসিংহপুর এলাকায় ডেকো ডিজাইন লিমিটেড কারখানাটির পঞ্চম তলার বাথরুমে ‘কিছু একটা’ দেখতে পেয়ে দুই নারী কর্মী অজ্ঞান হয়ে যান।

সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ ওই দুই নারী শ্রমিককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকালের মতো একই ঘটনা পর কারখানায় ‘অস্বস্তি’ ছড়িয়ে পড়লে আজকের জন্যও কারখানাটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে মালিকপক্ষ।


ঘটনার সময় কারখানায় উপস্থিত জালাল মোল্লা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাঁচতলায় আবার ‘ভূত দেখে’ কারখানা থেকে শ্রমিকরা নিচে নামতে থাকেন। সঙ্গে তিনিও নেমে আসেন। ওই শ্রমিক আরো জানান, তিনি সাড়ে তিন বছর ধরে ওই কারখানায় কাজ করছেন, কোনোদিনই এমন কিছু শোনেননি।

কারখানার নারী শ্রমিক নূর নাহার বেগম জানান, তিনি ভূতের কথা শুনে নিচে নেমে এসেছেন। কিন্তু নিজে কিছু দেখতে পাননি।

ঘটনার পরপরই আশুলিয়ার শিল্প পুলিশ এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ ১-এর পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান এ প্রতিনিধিকে  জানান, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পুরো বিষয়টিই গুজব মনে হয়েছে আমাদের কাছে। তবে কী কারণে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে তা আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ ছাড়া যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন রয়েছে।’

আর আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী আবদুল হান্নান জানান, ‘এটা গুজব। গতকাল দুর্বলতার কারণে বেশ কয়েকজন শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর কারখানাটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আজ রোববার সকালে কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য প্রবেশ করে শ্রমিকরা। পরে দুজন নারীশ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে যান।

কাজী আবদুল হান্নান আরো জানান, এর আগে ডেকো ডিজাইন গার্মেন্টসে গতকাল দুপুরে ভূত আতঙ্কে ৫৩ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, আর বাকিরা নারীশ্রমিক। ঘটনার পরে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নারী ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থদের প্রায় সবাইকে গতকালই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নারী ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান সবুজ বলেন, গতকাল ও আজ মিলিয়ে ডেকো গার্মেন্টস কারখানা থেকে অনেকেই চিকিৎসা নিতে এসেছেন। যার অধিকাংশই নারী। এবং এদের সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দুর্বলতার কারণে নারী শ্রমিকদের গণহিস্টিরিয়া হয়েছে বলে জানান ওই চিকিৎসক।

আর ডেকো ডিজাইন কারখানার উৎপাদন কর্মকর্তা (প্রোডাকশন ম্যানেজার) খলিলুর রহমান বলেন, ‘পর পর দুদিন কারখানাটিতে ভূতের গুজব ছড়াল। বিষয়টি আসলে কী বা কারা এই গুজব ছড়িয়েছে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / আগস্ট ২৯, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৯ আগস্ট ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com