সাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় খালেদার দুই উপদেষ্টাকে অব্যাহতি

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৫

সাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় খালেদার দুই উপদেষ্টাকে অব্যাহতি

 

নিউইয়র্কঃ ছয় জন আমেরিকান কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুই উপদেষ্টা এবং বৈদেশিক বিষয়ক বিশেষ দূতকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন জাহিদ এফ সর্দার সাদী ও মজিবুর রহমান মজুমদার। মজিবুর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক। 


গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ফুডকোর্ট রেস্টুরেন্টে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এ কথা জানান।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, প্রবল আন্দোলনের মুখে সরকার দিশেহারা হয়ে অত্যাচার-নির্যাতনের পাশাপাশি আন্দোলনের কর্মী-সমর্থকদের বিভ্রান্ত করতে নানা রকম কূট-কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তারা বিএনপির বিরুদ্ধে বিরামহীন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতি আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আপনাদের মতো আমরাও গণমাধ্যমের সূত্রে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের কতিপয় সদস্যের একটি তথাকথিত বিবৃতির খবর জানতে পারি। পরক্ষণে আবার সংবাদ মাধ্যমের খবরেই জানা যায়, বিবৃতিটি সঠিক নয়। এটি ছিল ব্যক্তি বিশেষের রহস্যময় তৎপরতার ফসল। নিন্দনীয় এই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই জন প্রবাসী প্রতিনিধির সম্পৃক্ততার তথ্য জানাজানি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেন।

সে অনুযায়ী গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর নির্দিষ্ট একটি দায়িত্ব পালনের জন্য তাদেরকে সাময়িকভাবে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সেই নিয়োগ বাতিল করা হলো।

খোকা বলেন,‘ আমরা খুঁজে দেখার চেষ্টা করছি যে, মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের কথিত বিবৃতি জালিয়াতির এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির নিয়োগ বাতিলকৃত এই দুই ব্যক্তি সরকারের কোন ষড়যন্ত্রের অংশীদার হয়েছে কি না। ’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ওসমান ফারুককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে ওয়াশিংটন রয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে দেখা করছেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাদেক হোসেন খোকা বলেন, বাংলাদেশ আজ এক কঠিন দুঃসময় পার করছে। বর্তমান স্বৈরাচারী ও জুলুমবাজ সরকার যে কোনো মূল্যে অবৈধভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার অসৎ উদ্দেশ্যে দেশকে সংঘাতের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে তারা অবলীলায় ধ্বংস করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। খোকা বলেন, এসব বাহিনীর এক শ্রেণির দলবাজ এবং বিশেষ একটি এলাকার সদস্যরা প্রকাশ্যে নির্বিচারে গুলি করে নিরীহ জনসাধারণকে হত্যা করছে। বিজিবির সদস্যদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিরোধী দল দমনে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনসমূহের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়োজিত করা হয়েছে। 

খোকা বলেন, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানা রকম নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় চলছে নিয়ন্ত্রিত সম্প্রচার। সরকারের নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হওয়ায় একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভারতের বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ-এর সঙ্গে খালেদা জিয়ার টেলিফোন আলাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, অমিত শাহ খালেদা জিয়াকে ফোন করেছিলেন। দেশের যে দুটো গণমাধ্যমে (৭১ টিভি, চ্যানেল ২৪) অমিত শাহের বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। সেটা আসল অমিত শাহের কথা নয়। এই ঘটনা যদি মিথ্যা হতো তাহলে বিজেপির পক্ষ থেকেই বিবৃতি দেওয়া হতো। 

দেশের এই অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কী- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারকে অবশ্যই সংলাপের আহ্বান করতে হবে। না হয় সর্বদলীয় সরকার গঠন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। খোকা বলেন, দেশে যে অবস্থা বিরাজ করছে তা কোনভাবেই সুখকর নয়। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কীভাবে এমন নির্জলা মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছেন। তারেক রহমান ও বেগম জিয়া সম্পর্কে কটুক্তি করে প্রধানমন্ত্রী তার পদকেই কলঙ্কিত করছেন।

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:৩২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com