সাংবাদিক মাহফুজের উপর হামলাকারী ট্যাক্সি ড্রাইভারের বিরুদ্ধে মামলা

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০১৫

সাংবাদিক মাহফুজের  উপর হামলাকারী  ট্যাক্সি ড্রাইভারের বিরুদ্ধে  মামলা

 

এনা, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বর্ণমালার সম্পাদক ও বাংলা টিভি চ্যানেল ‘একাত্তর টিভি’র যুক্তরাষ্ট্র ব্যুরো প্রধান মাহফুজুর রহমানের উপর হামলাকারী বাংলাদেশি ট্যক্সি ক্যাব ড্রাইভার মাহদী ফারুককে গ্রেফতারে পর তাকে জামিন দিয়েছে । এদিকে কুইন্সের ১১৫ প্রিসেন্টর কাছ থেকে প্রাপ্ত ‘অ্যসাল্ট’ (হামলা)-র অভিযোগকে আমলে নিয়ে কুইন্স ডিস্ট্রিক এটর্নী অফিসের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের একটি ক্রিমিনাল কোর্ট ক্যাবী মাহদী ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। যার ডকেট নম্বর ২০১৫কিউএন০৩২০১৪। নিউইয়র্ক স্টেট বাদী হয়ে এই মামলাটি করেছে। ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারক মাহফুজুর রহমানের পক্ষে অর্ডার অব প্রটেকশন জারী করেছেন যাতে ট্যক্সি ক্যাব ড্রাইভার মাহদী ফারুক বর্ণমালা সম্পাদক মাহফুজুর রহমানের কোন ক্ষতি করতে না পারেন।


ট্যক্সি ড্রাইভার মাহদী ফারুক

ট্যক্সি ড্রাইভার মাহদী ফারুক

এদিকে সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান বার্তা সংস্থা এনা‘কে জানিয়েছেন, তার উপর হামলাকারীর বিরুদ্ধে তিনি মামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি ম্যানহাটানের একটি প্রসিদ্ধ ল‘ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১টা বেজে ৪০ মিনিটের সময় জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারির সামনে এ ঘটনা ঘটে। মাহফুজুর রহমান জানান, ঐ সময় তিনি তার পত্রিকা ডেলিভারি দেয়ার জন্য জ্যাকসন হাইটসে আসেন। তিনি আরো বলেন, খামারবাড়ি গ্রোসারির সামনে থেকে একটি গাড়ি চলে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। আগে থেকেই আমি তা লক্ষ্য করি এবং সিগন্যাল দিয়ে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকি। গাড়িতে চলে যাবার পর আমি আমার গাড়িটি পার্ক করি। এ সময় লেফট সাইড থেকে এসে এক বাংলাদেশী ক্যাব ড্রাইভার আমাকে বলে যে, আমি এই পার্কিংটির জন্য অপেক্ষা করছিলাম, আপনি পার্কিংটা নিয়ে গেলেন কেন? আমি ট্যাক্সি ড্রাইভারকে উদ্দেশ্য করে বললাম, আমি কোন ইল্লিগ্যাল কাজ করিনি। নিয়ম অনুযায়ীই পার্কিং করেছি। তারপরেও আমি ঐ লোককে বললাম এখানে বেশিক্ষণ থাকবো না। পত্রিকা ডেলিভারি দিয়েই ৫ মিনিটের মধ্যে চলে যাবো। কিন্তু ঐ লোকটি কোন কথা শুনার চেষ্টা করলো না। ভুলভাল ইংরেজীতে বলতে থাকলো, হু অ্যই এম-ডু ইউ নো? তারপর সে আমার মায়ের নামে গালাগাল শুরু করে দিলো। স্বাভাবিকভাবেই আমি গাড়ী থেকে নেমে তাকে গালাগালি করার হেতু জানতে চাইলে, কোন উত্তর না দিয়ে গাড়ী থেকে বের হয়ে লোকটি সজোরে আমার বুকে ঘুষি মারে। ঘটনায় কিংকর্তব্য বিমূঢ় হলেও তখন আমি তার গাড়ির নাম্বার সংগ্রহের জন্য ছবি তুলতে গাড়ীর সামনে যাই। এক পর্যায়ে সে আমার পায়ের উপর দিয়ে তার ইয়েলো ট্যাক্সিটি তুলে দিলে আমি ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাই। পালিয়ে যাবার সময় সে পার্ক করা আরো একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। রাস্তায় পড়ে গেলে তার গাড়িটি আমার মাথায়েও আঘাত করে। আল্লাহর রহমত যে আমি বেঁচে গিয়েছি। মাহফুজুর রহমান আরো জানান, ঐ সময় আমার সাথে আমার স্ত্রীও ছিলেন। কোন কিছু চিন্তার করার আগেই আমি ৯১১ কল করি। পুলিশ আসার পর আমি ঘটনা বর্ণনা করি এবং গাড়ির নাম্বর প্লেট দিই। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন তরুণও পুলিশকে ঘটনার বর্ণনা দেন। এরপর এ্যাম্বুলেন্সে করে আমাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেইখানে দুই দিন চিকিৎসা দেয়ার পর আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়। যদিও এখনো আমার বুকে এবং পায়ে ব্যাথা রয়েছে। অন্য আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, যে ট্যাক্সি ড্রাইভার সাংবাদিক মাহফুজুর রহমানের উপর হামলা করেছিলেন তার নাম ফারুক চৌধুরী। ঘটনাস্থল থেকে ফারুক চৌধুরী পালিয়ে গেলেও বেশিক্ষণ নিরাপদে থাকতে পারেনি। গাড়ি নাম্বার প্লেট নিয়ে ঠিকানা বের করে পুলিশ তার গ্যারেজ ও বাড়িতে হানা দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ফারুক চৌধুরী ঐ রাতেই ১১৫ প্রিসেন্টে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। জানা যায়, পর দিন ফারুক চৌধুরী জামিনে ফিরে এসেছেন। থানায় রিপোর্ট নম্বর হচ্ছে ৪৮০৯ এবং লেখা রয়েছে এ্যাসাল্ট থার্টি।

এদিকে তার উপর হামলার ঘটনার পর কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ টেলিফোনে তার শারিরীক অবস্থার খোঁজখবর নিয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করায় এবং অনেকেই হাসপাতালে গিয়ে তার প্রতি সহমর্মিতা জানানোয় মাহফুজুর রহমান সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমানের উপর হামলার ঘটনায় নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ও আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাব তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আজমল হোসেন কুনুও মাহফুজুর রহমানের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।

এ কেমন ববর্রতা? এ কেমন বর্বরতা? সভ্য দেশে, সভ্য সমাজে বসবাস করে এমন হিংস্র আচরণ কিভাবে করেন কোন কোন বাংলাদেশী? আইনের শাসনের এই আমেরিকায় কেউ আইনের উধ্বে নন জেনেও কেন দেশীয় স্টাইলে কেউ কেউ মাস্তানী করে নিজেকে জাহির করতে চান তাও বুঝতে পারছি না। আর অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়ার পথে কোন কোন মহল অপরাধীর পক্ষে ওকালতি করে তাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অহেতুক দাবী করে আইনের দৃষ্টিতে নিজেরাও অপরাধী হয়ে যাচ্ছেন তা কি বুঝতে পারেন না তারা?

শত ভাষার এই শহরে বাংলাদেশী ক্যাব ড্রাইভাররা তাদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সততার যে নজীর গড়েছেন তাতে আমাদের বুক ভরে যায় গর্বে। কিন্তু এই পেশারই একজন যখন অসভ্য শব্দ চয়ন করে জংলীপ্রাণীর মত ঝাপিঁয়ে পড়েন কারো উপর এবং তারপর তার গাড়ী উঠিয়ে দেন সেই মানুষটির উপর তখন আমরা ভাবতে পারি না ইয়েলো ক্যাব ড্রাইভার ‘ওসমান চৌধুরী’ যিনি লক্ষ ডলারের ডায়মন্ড তার যাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়ে নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশীদের মুখোজ্জল করেছেন তার কোন উত্তরসূরী হায়েনার মত আক্রমণ করে আহত করেন কাউকে। তার ইয়েলো ট্রাক্সি উঠিয়ে দেন কারো উপর। এমন বর্বর আচরণের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই আমাদের। তার পরও বলতে হয় ঘৃণা ঘৃনা এবং শুধু ঘৃণাই করা যায় এদেরকে।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ৬ জুলাই ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৬ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com