সরকারি জমি দখল করে আওয়ামী লীগ অফিস

রবিবার, ১৪ জুন ২০১৫

সরকারি জমি দখল করে আওয়ামী লীগ অফিস

 

ঢাকাঃ জমি ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার। কিন্তু এই রাষ্ট্রের জমি দখল করেই নিজেদের কার্যালয় নির্মাণ করছে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলো। দখলদারিত্বে পিছিয়ে নেই নামে-বেনামে গজিয়ে ওঠা সব অখ্যাত প্রতিষ্ঠানও। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো।  জানা গেছে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবশালী এমপি-নেতারাই এ দখলদারিত্বে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। অনেক সময় দেখা গেছে, সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে এসব অফিসের সাইনবোর্ডও বদলে গেছে। সব মিলিয়ে অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরগুলো। সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সেখানে এখনো অব্যাহত রয়েছে সরকারি দলের অফিস তৈরির হিড়িক। আর বাড়তি হিসেবে যোগ হয়েছে নামসর্বস্ব সংগঠনের তৎপরতা। ২০০৯ সালের আগে অন্য কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের নামে যেসব অফিস ছিল,সেগুলো এখন হয়ে গেছে আওয়ামী লীগের।  


এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রের জমি দখল করে রাজনৈতিক দলের অফিস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারপরও প্রভাবশালীরা অহরহ এটি করে থাকেন। সিটি করপোরেশনের জমি দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দুই সিটিতে যারা নতুন নির্বাচিত মেয়র হয়ে এসেছেন তাদের উচিত এখন যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি আশা করেন, নতুন মেয়ররা এ সমস্যার প্রতিকারে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। 

ঢাকার কূটনৈতিক জোনও রেহাই পায়নি এ ধরনের দখলদারিত্ব থেকে। দূতাবাসের আশপাশের ফুটপাত দখল করে চলছে অফিস বানানোর তৎপরতা। রাজধানীর বারিধারায় মার্কিন দূতাবাসের পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে যুবলীগ অফিস। সেখানে ব্যানারে লেখা, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ অফিস, ঢাকা মহানগর উত্তর- সৌজন্যে বাবুল মৃধা। এ অফিসের কারণে দূতাবাসও অনেকটা অস্বস্তিতে রয়েছে। অভিজাত এলাকা গুলশান-২ নম্বর মোড়ে ফুটপাথ দখল করে উঠেছে আওয়ামী লীগ অফিস। আওয়ামী লীগের পাশাপাশি রয়েছে জাতীয় পার্টির অফিসও।  

এভাবেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রভাবশালী নেতাদের মদদে গত কয়েক বছরে ফুটপাথসহ সরকারি জায়গা দখল করেছে বিভিন্ন সংগঠন। গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক দলীয় কার্যালয়। কার্যালয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ, থানা আওয়ামী লীগ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধুর নামে ভুঁইফোড় সংগঠনের সাইনবোর্ডও। তবে অবৈধ দখলদারিত্বে শ্রমিক লীগের নামেই বেশি অফিস দেখা গেছে। কোথাও কোথাও অফিসের আশপাশে দোকান তুলে তা ভাড়া দিতে দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নামে এসব কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজিসহ রাতে চলে নানা অপকর্ম। সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে সরকারি জায়গা দখলের হিড়িক। সেখানে সরকারি জমি দখল করে জাতীয় শ্রমিক লীগের সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। স্থানীয় এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার ছবি ব্যবহার করে সাঁটানো হয়েছে এক বিশাল বিলবোর্ড। সড়ক দখল করে যাত্রাবাড়ী থানা এবং টিএনটি ভবনের পাশে সংগঠনের অফিস বানিয়েছে শ্রমিক লীগ। এ এলাকার ডেমরা রোডে ফ্লাইওভারের দুই পাশেই ছাত্রলীগ, যুবলীগের অফিস করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি জায়গায় নির্মিত হয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের অফিস। মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ ও ওলামা লীগের অফিসও রয়েছে এই সরকারি জায়গায়। অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় দলের নাম ভাঙিয়ে প্রতিদিনই অটোরিকশা, টেম্পো-লেগুনা ও লক্কড়-ঝক্কড় বাস থেকে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। তেজগাঁও রেলক্রসিংয়ের পাশে বানানো হয়েছে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ অফিস। মতিঝিলে জীবন বীমা ভবনের পাশে পাকা স্থাপনায় যুব শ্রমিক লীগের অফিস বসানো হয়েছে। মহাখালীর রেলগেট-সংলগ্ন উড়ালসড়কের নিচে রেলের জায়গায় পাকা স্থাপনা তৈরি করে ২০ নম্বর ওয়ার্ড শাখা আওয়ামী যুবলীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগ অফিস নির্মাণ করা হয়েছে।   

অভিযোগ রয়েছে, এ এলাকায় যুবলীগের নেতারা আশপাশের দোকান ও খাবারের ঘর থেকে মাসোয়ারা আদায় করেন। অন্যদিকে শ্রমিক লীগের নেতারা পরিবহন থেকে চাঁদা তোলেন। কুড়িল বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে রেলের জায়গায় শ্রমিক লীগের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি কার্যালয় বানানো হয়েছে। বনানীতে রেলের জায়গায় টিকিট কাউন্টারের পাশে অবৈধ কার্যালয় বানানো হয়েছে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও শহীদ শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের নামে। আগারগাঁও এলাকায় পাসপোর্ট অফিস-সংলগ্ন জায়গায় শেরেবাংলানগর থানা জাতীয় শ্রমিক লীগ ও পাশেই তৈরি করা হয় ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়। তেজগাঁও মধ্য বেগুনবাড়ীতে রাস্তার পাশে কার্যালয় বানিয়েছে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ।  পোস্তগোলায় বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতুর পাশে গড়ে তোলা হয়েছে জাতীয় শ্রমিক লীগের একটি কার্যালয়। স্থানীয় শ্রমিক লীগের নেতারা গ্যারেজ ও স্ট্যান্ড থেকে চাঁদা তোলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে শাহবাগে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর পাবলিক লাইব্রেরি ইউনিট শাখা, শিশুপার্কের জায়গায় ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ পার্ক এভিনিউ ইউনিট, বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের অফিস। জানা গেছে, সরকারি অনেক কাজই এ জমি দখলের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নিজেদের জমি হওয়া সত্ত্বেও এগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা সিটি করপোরেশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ।সুত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন’।

 শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১৪ জুন ২০১৫

 

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৪ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com