সম্মেলনকে ঘিরে চাঁদপুরে আ.লীগ নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ

শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি ২০১৬

সম্মেলনকে ঘিরে চাঁদপুরে আ.লীগ নেতাদের দৌড়-ঝাঁপ

রাজনীতিচাঁদপুর: একযুগ পর আগামী ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে ডজনখানেক নেতার দৌড়-ঝাঁপ শুরু হয়েছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাসহ শীর্ষ নেতাদের পদভারে জেলা আওয়ামী লীগ অফিসসহ নেতাদের ব্যক্তিগত অফিসগুলো সরগরম হয়ে উঠছে।

দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারি দল আওয়ামী লীগের চাঁদপুর জেলা সম্মেলনকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবারের সম্মেলনে এক যুগের নেতৃত্বের পরিবর্তন হতে পারে। অপরদিকে, দলটিকে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে সাংগঠনিকভাবে মজবুত ভিতে নতুন নেতৃত্বের আদলে দাঁড় করাতে তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে। ফলে দলটির মাঠ পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যাচ্ছে।


তবে সব কিছুকে ছাড়িয়ে জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে চলছে নানা সমীকরণ। ফলে সমীকরণকে সামনে রেখে প্রভাবশালী প্রার্থীরা কাউন্সিলে নিজদের জয় নিশ্চিত করতে প্যারালাল প্রার্থীসহ নতুন নতুন মুখ সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে। এজন্য জেলার শীর্ষ নেতাদের বাসা-বাড়িতে উপজেলা নেতাদের গোপন বৈঠক অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

আগামী ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জেলা সম্মেলনে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ড. শামছুল হক ভূঁইয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউসুফ গাজী, ওচমান গনি পাটোয়ারী, পৌর মেয়র ও চাঁদপুর শহর সভাপতি নাছির উদ্দিন আহম্মেদ, ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপু ও সাবেক কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা ফজলুল হক প্রার্থী হচ্ছেন বলে তাদের ঘনিষ্টজনসহ দলটির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জানা গেছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাড. জহিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটোয়ারী, মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, ডা. হারুনুর রশিদ সাগর ও ইঞ্জি. শফিকুর রহমানের নাম শোনা গেছে। শেষ পর্যন্ত প্রার্থীর সংখ্যা আরো বাড়তে পাড়ে বলে তৃণমূল নেতারা জানিয়েছেন।

তৃণমূলের অনেকে নেতাকর্মী বলছেন, সম্মেলনের দিন নির্বাচন না সিলেকসন হবে তা অনেকটাই ঘোলাটে হয়ে আছে। এজন্য কাউন্সিলররা পছন্দের প্রার্থীদের নাম বলতে পরছেন না। তারা বলছেন, সম্মেলনকে ঘিরে দলটিতে নতুন মেরুকরণ হওয়ার ইঙ্গিত থাকায় মাঠপর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে সংঘাত সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কেন্দ্রের মাধ্যমে জেলা কমিটি ঘোষণা হতে পারে।

আবার কেউ কেউ বলছেন, কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের কমিটিতে যুগ্ম-সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্যসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা চাঁদপুরের হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নাটকীয়তা হতে পারে সম্মেলনকে ঘিরে। ফলে যেভাবে সর্বশেষ ৩ বছরের জন্য ২০০৫ সালে ২৬ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছিল সেভাবে হলেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

জেলা নেতারা বলছে, ওই কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। তবে সভাপতি পদে ভোটের গড়মিল হওয়ায় ফলাফল স্থগিত রাখেন নির্বাচন পরিচালনা সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ থেকে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করলে সভাপতি মনোনীত হন ড. শামছুল হক ভূঁইয়া।

এদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছেন। অ্যাড. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া জানান, সাবেক জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও ৯০ দশকের সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের নেতাসহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করায় এবার তৃণমূলের ভোটে জেলা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে তিনি পুরো আশাবাদী।

জেলা বিএমএর সভাপতি ডা. হারুনুর রশিদ সাগর স্থানীয় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হচ্ছেন।

সভাপতি প্রার্থী আলহাজ ওচমান গনি পাটোয়ারী জানান, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন। ফলে ভোটাভুটি কিংবা কেন্দ্রিয়ভাবে ঘোষিত কমিটি হোক, তাতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি সভাপতি প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান।

সাবেক কেন্দ্রিয় যুবলীগ নেতা ফজলুল হক জানান, জীবনের এই সময়ে এসে সভাপতির বিকল্প অন্য কিছু ভাবছেন না তিনি। তবে মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক কেন্দ্রিয় যুবলীগের এই নেতা জেলার প্রভাবশালী এক নেতার ইচ্ছায় প্যারালাল প্রার্থী হচ্ছেন। যাতে ভোটের সমীকরণে অন্য সভাপতি প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত হয়।

সুজিত রায় নন্দী জানান, বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকায় জেলা কমিটি থাকার কোনো ইচ্ছা তার নেই।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের অপর একটি অংশ বলছে, শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনির ভাই ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপুই জেলা সভাপতি হচ্ছেন। এমন ইঙ্গিতের প্রেক্ষিতে ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপু জানান, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আছেন এবং থাকবেন। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন? এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৬ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী। উদ্বোধক ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু এবং প্রধান বক্তা সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আবদুল জলিল।

২০০৫ সালের সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। তবে সভাপতি পদে ভোটের হিসাব গড়মিল হওয়ায় ফলাফল স্থগিত রাখেন নির্বাচন পরিচালনা সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ থেকে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করলে সভাপতি মনোনীত হন ড. শামছুল হক ভূঁইয়া।

গত ২১ নভেম্বর কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় মেয়াদোত্তীর্ণ চাঁদপুর জেলাসহ ১৪টি জেলার জেলা সম্মেলন গত ৩০ ডিসেম্বর শেষ করার নির্দেশ থাকলে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়। ফলে গত ১০ জানুয়ারি গণভবনে কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী সভায় দলের সভানেত্রীর নির্দেশে আগামী ২৬ জানুয়ারি চাঁদপুরসহ অপর জেলাগুলোর সম্মেলন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

৭৩টি সাংগঠনিক কমিটির ভোটে আগামী মার্চে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। সে আলোকেই মেয়াদোত্তীর্ণ চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আগামী ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে এখনো জেলার অধিকাংশ অঙ্গ-সংগঠনের সম্মেলন শেষ হয়নি। কেবল দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশ থাকায় স্বল্পসময়ের মধ্যে জেলা সম্মেলন শেষ হচ্ছে। আর এ সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ এক যুগের নেতৃত্বের অবসান হচ্ছে।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / ১৫ জানুয়ারি ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com