সব চলে গেছে অদক্ষ আমলা আর লোভী রাজনীতিকদের হাতে

শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৪

সব চলে গেছে অদক্ষ আমলা আর লোভী রাজনীতিকদের হাতে

কুলদীপ নায়ার

 


 

Ganoকাশ্মীরে দুটি বালককে হত্যা করা হয়েছে। উদ্ভট একটি ঘটনা। একটি সাদা রঙের গাড়িকে ভুল করে এমনটা করা হয়েছে, যার সামনে-পেছনে ছিল সন্ত্রাসীরা। চলে যাওয়ার সময় ১১৫টির বেশি গুলি করা হয়েছে গাড়িতে। গাড়ির একমাত্র জীবিত যাত্রী একটি ছেলে বলেছে, কী নিরবচ্ছিন্ন উন্মত্ততা চালানো হয়েছে, এমনকি গাড়িটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়া পর্যন্ত।সেনারা ভুল স্বীকার করেছে। কোনো রকম সময় না দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে চলেছে আক্রমণ। একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান, যা ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বের করে আনতে পারে সত্য। অবশ্য এখন পর্যন্ত বের করা সম্ভব হয়নি কে কাকে হত্যা করেছে। সম্ভবত এর বড় কোনো চিত্র শীঘ্রই উন্মুক্ত হবে না।

 সত্য হচ্ছে, নয়াদিল্লি চায় না মূল ঘটনা বেরিয়ে আসুক। এ ঘটনা থেকে দুটি বিষয় বেরিয়ে এসেছে। একটি হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহার এবং দ্বিতীয়ত, দ্রুততম পদ্ধতিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপত্যকার উন্মত্ততার স্বর ছিল উচ্চ ও পরিষ্কার। কিন্তু এটি একবারেই নতুন নয়। প্রশাসনের শৈথিল্যও নয়। কিন্তু নতুনটা হচ্ছে, এখানে প্রশাসনের কঠোরতা ও শিথিলতার ব্যবধান খুব কম। ব্যাধি খুব জটিল।উন্নতির বিষয় হচ্ছে, মানুষ দ্বিধান্বিত সেনাবাহিনীর মান নিয়ে। সেনাদের পেশাদারিকে তারা বেশ অপছন্দ করেছে। কারণ এটি আনাড়ি প্রশাসনকে সমর্থন করেছে। তবে এখনো নজিরবিহীন বন্যার সময় সেনাদের সহযোগিতার কথা মানুষ প্রাণভরে স্মরণ করে।সেনারা শুধুই তাদের উদ্ধার করেনি বা তাদের জিনিসপত্র রক্ষা করেনি, বন্যায় তাদের হাজার হাজার মানুষকে চিকিৎসা প্রদান করেছে। এটি এমনকি তাদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছে বেশ কয়েক সপ্তাহ এবং বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকার বাসিন্দাদের কাছে সেনারা সহযোগিতার জন্য পৌঁছেছে। সন্দেহ নেই, তাদের উপস্থিতি কিছুটা হলেও সমস্যা থেকে নিবৃত্ত করেছে। কিন্তু তাদের উপস্থিতি সমালোচনার জন্ম দেয়। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয় মেনে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওমর ফারুক আবদুল্লাহ বস্তুত চেষ্টা করছেন রাজ্যে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করতে। এখনো যখন সেনাদের ব্যবহার করা হচ্ছে দমন-পীড়নে, নয়াদিল্লি স্বাভাবিকভাবেই ভাগীদার হচ্ছে বদনামের। শ্রীনগর ও নয়াদিল্লি দুই-ই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক আগে থেকেই আনুপাতিক হারে অনেক বেশি সেনানির্ভর। তারা এটি নিশ্চিত করবে যে, সেনা ব্যবহার করা হচ্ছে সীমান্ত রক্ষায়, রাজ্যের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নয়। এটি গণতন্ত্রের অস্বীকৃতি, যে জন্য আমাদের লজ্জায় পড়তে হয়। সংবিধান, যা দেশকে বিধি মোতাবেক পরিচালিত করে, ধর্ম-বর্ণ-পরিচয় নির্বিশেষে সব নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে।

 একটি কদর্য পরিস্থিতি হচ্ছে, যুবকশ্রেণীর লোকজনের ওপর নজর রাখা যাচ্ছে না। সন্ত্রাসবাদীদের দায়ী করা যেতে পারে মগজ ধোলাই কিংবা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য। মানুষের উপলব্ধি হচ্ছে, নয়াদিল্লির হাত লুকিয়ে আছে যুবকশ্রেণীর পেছনে। এ ধারণা প্রগাঢ় হয়, যখন কোনো ঘটনা কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রকাশ পায় না। এর সবই স্বচ্ছতার দাবি রাখে, বিশেষ করে যখন কোনো তদন্ত আলোর মুখ দেখে না কিংবা আদালতে তা অকপটে স্বীকার্য হয় না। লোকপালের মতো একটি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে বিদ্যমান নয়। আমাদের এখন রাজনৈতিক দলগুলোর সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। বস্তুত, তারা হচ্ছে এমন, যারা পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করে চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে। হায়, এটি বেশ বড় ধরনের বিচ্যুতি। তারা রাজনৈতিক রণকৌশলের সঙ্গে যুক্ত। দলগুলো মাঝে মাঝে দেশের জরুরি প্রয়োজনীয়তার কথা ভুলে যায়। অনেক অপাঙ্ক্তেয় বিষয়ও সামনে নিয়ে আসা হয়। অথচ স্বাধীনতার মুহূর্তে ভেদাভেদবিহীন উন্নতির শপথ নেওয়া হয়েছিল। আমি আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই, এটি উপর মহল থেকে বলা হয়ে থাকে যে, স্বাধীনতা সারা দেশের মানুষের জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও চাকরি আনবে। মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, ধনীরা সব মানুষের জিম্মাদার হবে। পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু, যিনি স্বাধীনতার আরেক অনুসরণীয়, বলেছেন সমাজতন্ত্রের কথা। নেহরু, যিনি ১৭ বছর দেশ শাসন করেছেন, প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, সরকারি খাত মূলত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে, যেন ছোটখাটো ইন্ডাস্ট্রিগুলো প্রেরণা লাভ করে। কিন্তু সবকিছু চলে গেছে বাকির খাতায় অদক্ষ আমলাতন্ত্র আর লোভী রাজনীতিকদের হাতে। পরবর্তী সরকারগুলো, কংগ্রেস বা বিজেপি নেতৃত্বাধীন অনেক ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এর খুব কমই পূরণ করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে করা এদের অঙ্গীকার মোটেই রাখা হয়নি। এর ফলে কী হয়েছে- ধনী হয়েছে আরও ধনী আর গরিব হয়েছে আরও গরিব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার নির্বাচনী প্রচারণায় অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। লোকসভায় ২৮২ আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছেন।

তার উচিত ছিল দেশকে রূপান্তর করতে কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া। তার ব্যাপ্তিকাল চলে যাচ্ছে। কিন্তু জনগণ আশার বিপরীতে আশা করেই চলেছে যে তিনি কিছু একটা করবেন।বোধগম্য বিষয় হচ্ছে, কাশ্মীর আরও সময় নেবে। কিন্তু মোদি প্রশাসন যেন অন্তত একটি পরিবর্তন আনে। আর্মড ফোর্সেস (স্পেশাল পাওয়ার) অ্যাক্ট পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। এটি গণতান্ত্রিক দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে দেবে একটি সন্দেহভাজনদের হত্যার সুদূরপ্রসারী ক্ষমতা। দুই বালকের হত্যা অন্তত সরকারকে তাড়না দেবে অন্যদিকে দৃষ্টি প্রসারিত করার। সৌজন্যে: বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৮:০১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com