সব কিছু যদি একজনকে দেখতে হয়, তাহলে এই বহরের দরকার কি?

রবিবার, ১০ মে ২০২০

সব কিছু যদি একজনকে দেখতে হয়, তাহলে এই বহরের দরকার কি?

Muktoবর্তমান ক্ষমতাশীন বাংলাদেশ সরকার ক্ষমতায় আসার শুরু থেকেই দেখছি, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা তার চেয়ে অনেক বেশী ভূমিকা রাখছেন। বলা যায় সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। দেশে নির্বাচন নিয়ে কথা নাই বললাম। এই নির্বাচনের প্রতিফলন যদি সরকারের ভিতরেও প্রতিফলিত হয় তা হবে ভয়াবহ, বিপদজনক। আমি জানি না বর্তমান কোন সংসদ সদস্য বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন কিনা যে, তিনি সত্যিকার অর্থে তাঁর এলাকার জনগনের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। যদি কেউ বলেনও তাহলে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, গায়ের জোড়ে পাহাড় ঠেলা যায় তা সরানো যায় না। পাহাড়ের জায়গায় পাহাড় থাকে ক্লান্ত হবেন যিনি ঠেলা দিয়ে নিজেকে জাহির করতে চান, তিনি।

নির্বাচনের দিন কোন ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের চোখে পরার মত উপস্থিতি ঘটলে সেটা বারবার ইলেক্ট্রোনিক্স মিডিয়ায় সংবাদে দেখানো হত। দেশবাসীও হয়তো নিজেদের শান্তনা দিতে মেনে নিয়ে সরকারের এই একটি বিষয় প্রশংসা করতে পারতো। তা ঘটেনি বলেই যত সমস্যা চুপ করে মেনে নিচ্ছে হয়তো উপরের মহল। ভোটার বিহীন নির্বাচনে নির্বাচিতদের নিয়ে সরকার গঠন করা হলেও সংসদ সদস্যদের মনে হয় কেউই অথর্ব বলছে না। যেখানে জনপ্রতিনিধিদের স্থানীয় জনগনের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ নেই সেখানে সরকার শত চাইলেও জনগনের ভাগ্য বদলাতে ব্যর্থ হবে। দেশকে যতই আমরা সিঙ্গাপুর আর নিউইয়র্ক বানাই না কেন এসব ভোগ করে নিজেদের গর্বিত হবার মানুষ গুলোর যদি ভাগ্য না বদলায় তাহলে সব কিছুই হবে অর্থহীন।


প্রয়োজনে সংসদ সদস্যদের দিয়ে সংসদ চালানো হচ্ছে ঠিক আছে। কিন্তু মন্ত্রী পরিষদের সদস্য নির্বাচনে আরো একটু যাচাই বাছাই করে করা যায় না? প্রতিটি মন্ত্রী যদি তাদের সঠিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ না হতেন তাহলে তারা এক সময় বাদ পড়েন কেন এর উত্তর রাষ্ট্র প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীই দিতে পারবেন। মাঝে মধ্যে দেশের কোন সমস্যায় বর্তমান মন্ত্রীপরিষদের বিভিন্ন সদস্যদের এমন সব উদ্ভট বক্তব্য শুনি যাতে ভাবতে অবাক লাগে শেখ হাসিনার মন্ত্রীপরিষদে এসব লোক কি করে স্থান পায়। সত্যিকার অর্থে যদি বলি, শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে একসময় বিরোধী দল প্রয়োজন হবে না, এরাই যথেষ্ট হবে।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বইটি পড়ে আমি বঙ্গবন্ধুর উদারতায় এতটাই মুগ্ধ হয়েছি যে, এ পর্যন্ত আমার ভাবতেই অবাক লেগেছে শেখ হাসিনা তাঁর কন্যা হিসেবে কিভাবে দেশ চালাচ্ছেন। যদিও দীর্ঘ সময় দেশ চালানোর পর অতীতের ভুল গুলো কাটিয়ে যথেষ্ট কনফিডেন্স নিয়ে কথা বলছেন এবং কাজ করছেন এখন, যা দেখে বা শুনে ভালো লাগে। প্রশংসাও করি সরকার প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার। কিন্তু সরকারের মন্ত্রীরা যদি নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হন তাহলে কি দরকার তাদের দিয়ে এই বহর বাড়িয়ে খরচের বোঝা বাড়ানো?

বর্তমান এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রী বা অন্য কোন ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয়ের যে দূরত্ব দেখতে পাচ্ছি তাতে দেশ চলছে কিভাবে সেটাও প্রশ্ন বোধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবকিছুতে যদি প্রধানমন্ত্রীকেই দেখতে হয় বা বলতে হয় তাহলে এতসব মন্ত্রী রেখে তাদের খরচের বাজেট বাড়িয়ে দেশবাসীর কি লাভ, জানি না।

করোনা ভাইরাস যেখানে সারা পৃথিবীতে মহামারীর রূপ নিয়েছে সেখানে বাংলাদেশে মন্ত্রী সচিব বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অসামঞ্জস্য কথা শুনে অবাকই লাগে। পৃথিবীর বড়বড় দেশ গুলো এবং নেতৃবৃন্দ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে আমার মনে হয় এধরনের বাচাল প্রকৃতির ব্যর্থ লোক গুলো বাদ দিয়ে আরো দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে (প্রধানমন্ত্রীর) উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে তাদের পরামর্শে দেশ চালাতে পারেন। এখন কোন দলীয় পরিচয়ে দেশ চালানো ঠিক হবে কিনা জানি না।

বঙ্গবন্ধু যেভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে গণজাগরণ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছিলেন শেখ হাসিনার এখন সেই সময় এবং সুযোগ এসেছে জাতির কাছে যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা হিসেবে প্রমাণ দেবার। আমার মনে হয় এখন চাইলেই তিনি দলীয় স্বার্থ বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে পারেন, যাতে করে দলমত নির্বিশেষে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মহামারী মোকাবেলা করতে পারেন।

বর্তমান এই দুর্যোগপূর্ণ মূহুর্তে প্রধানমন্ত্রী তা না করলে প্রতিদিন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ভাষ্যমতে দেশে চোরের সংখ্যাই বাড়ার সংবাদ পাবেন। দেশ নিয়ে এখন আর তামাশা করার সময়  নেই, দেশবাসীকেও এতটা বোকা ভাবার সুযোগ নেই। আমরা স্বাধীনতার সময়কার লোক সংখ্যা সাত কোটির সাথে বর্তমান বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের মেলালে বুঝতে হবে আমরা এখনও বোকার রাজ্যে বাস করছি।

আমি সরকারের বিরোধীতা করছি না, করছি সমালোচনা। এই সমালোচনাকে আশা করি অপরাধ নিবেন না। কারণ প্রবাসে বসে স্বার্থপরের মত নিজের স্বজনদের অবস্থার কথা ভাবলেও মন খারাপ হয়। সেই স্বজনরাই আমাদের দেশের জনসাধারণ।

আমার আশা ও বিশ্বাস দলে এখন আর কাউকে চৌর্যবৃত্তির কোন সুযোগ না দিয়ে ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে যেভাবে কঠিন ও বাস্তব বক্তব্য দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন সেই ভাবে আপনার জনপ্রতিনিধিদের বেলায়ও হতে হবে। প্রশ্ন আমার একটাই, কেন আজ দেশে জনসাধারণের দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সেবা কাজ করতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের প্রতিনিধিরা ঘরে থাকবে? কেন আর্মি বা পুলিশ রাস্তায় অবস্থানের প্রয়োজন হবে? বিষয়টি যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করা হবে ততই দেশের ও দেশবাসীর মঙ্গল মনে করি।

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ মে ১০, ২০২০
————
পি.আর. প্ল্যাসিড, জাপান প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:২৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১০ মে ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com