সবজির আড়ৎদার থেকে সবাই এখন ফেরিওয়ালা

রবিবার, ১৫ মার্চ ২০১৫

সবজির আড়ৎদার থেকে সবাই এখন ফেরিওয়ালা

 

রতন বালো, মুন্সিগঞ্জঃ পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের জন্য মাওয়া এলাকায় অধিগ্রহণকৃত জায়গাড় ক্ষতিপুরণের টাকা পাননি সেখানকার ১০৯ জন সবজি ব্যবসায়ী । পুনর্বাসন হয়নি ১৫ জন সব্জি আড়ৎদারের। শত আবেদন-নিবেদন করেও বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়ায় উদ্বাস্তর মতো পথে পথে জীবিকা নির্বাহ করছে তারা।


ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাওয়া এক নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ‘মাওয়া ঘাট সবজি কাঁচামাল আড়ৎ ব্যবসায়ী সমিতি’র ১ একর ৩০ শতাংশ জমিসহ অফিসঘর, ১১টি অবকাঠামো শেড অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ)। জায়গার মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা পেলেও ব্যবসায়ী সমিতির অফিস কার্যালয়সহ ১১টি অবকাঠামো শেডের ক্ষতিপূরণ এখনো মেলেনি। প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল নতুন আড়ৎ নির্মাণ করে সেখানে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা হবে। কিন্তু আড়তের জন্য জমি ঠিক হলেও এখনো সেখানে মাটি ভরাটের কাজই শুরু হয়নি। কবে জমির মাটি ভরাট করে আড়ৎ ও শেড নির্মাণ করা হবে তা কেউ জানে না। তাই বাধ্য হয়ে সবজি ব্যবসায়ীদেরকে খোলা আকাশের নীচে ফেরি করে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, পদ্মাসেতু নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের পর সমিতির আড়ৎকে (কেস নং-০৫/২০০৭-২০০৮) ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের জন্য বিবিএ থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসককে বলা হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন মাওয়া সবজি সমিতির নামে ক্ষতিপূরণের কোনো নোটিশ প্রদান করেনি। এর কারণ জানতে ক্ষতিগ্রস্তরা ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করেন। কিন্তু ৫ বছর ২ মাস পার হয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণের কোনো উদ্যোগ দেয়নি প্রশাসন।

Pad-11মাওয়াঘাট কাঠ-বালু, সবজি কাঁচামাল আড়ৎ ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ‘পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য সবজি আড়তের ভাড়াকৃত জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। জায়গার মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা পেলেও সমিতির অফিসঘরসহ ১১টি শেডের ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘জায়গাটি ভাড়া নিয়ে আমরা ১৫ জন আড়ৎদার ১০ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। স্থানীয়দের সবজির চাহিদা পূরণ করে পাশ্ববর্তী জেলা, উপজেলার হাট বাজারে সবজি সরবরাহ করি আমরা। কিন্তু আমাদের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না প্রশাসন।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে কয়েক দফায় আবেদন করার পরও জেলা প্রশাসক আমাদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাননি। বিবিএ ও সিসিডিবি (খ্রিস্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ) থেকে আমাদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা। কিন্তু কবে দেবে সে ব্যাপারে তারা কিছুই বলছে না।’

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘পদ্মাসেতু প্রকল্পের এপ্রোচ রোড নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে সবজি আড়তের জায়গা ছেড়ে দেয়ার জন্য মাইকিং করে জানানো হচ্ছে। কিন্তু পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কেউ জায়গা ছাড়বো না।’দেলোয়ার হোসেনের মতো আলী মিয়া, আবুল কাশেম মাদবর, মো. মোখলেছ শেখ, মো. জালাল মৃধা, মো. নোমান মিয়া, মো. দুলাল বেপারী, মো. সিরাজুল ইসলামসহ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত এখন সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে যাওয়ার ব্যাপারে চিন্তু-ভাবনা করছেন। এরইমধ্যে তারা প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত জীবন থাকতে আমরা জায়গা ছাড়বো না।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বাদলের সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘অধিগ্রহণের সময় কোনোক্রমে ভুল হয়ে থাকলে এবং আমাদের কাছে অভিযোগ নিয়ে এলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’ তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান  এ  প্রতিবেদকের কাছে।

 

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১৫ মার্চ ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৪:০৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৫ মার্চ ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com