সংসদে উত্তাল খালেদা

বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৫

সংসদে উত্তাল খালেদা

 

Khaসংসদ রিপোর্টারঃ দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন শুরু হয়েছে গতকাল সোমবার। হরতালে শুরু বছরের প্রথম অধিবেশনও শুরু হয়েছে বিএনপির ডাকা অবরোধের মধ্যে। মঙ্গলবার ছিল অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন। এ দিনের প্রায় পুরোটা সময়ই সংসদ উত্তাল ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমালোচনায়।


সরকারি দলের সাংসদদের সঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনায় মেতেছিলেন বিরোধীদলীয় সাংসদরাও। এ দিন সংসদে খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তার দাবি তো করা হয়েছেই, তাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল টাউট’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে তার বিচারও দাবি করেছেন কেউ কেউ।

দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এসব মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্যরা।

খালেদা জিয়াকে ‘টাউট’ আখ্যায়িত করে তাকে মানবতাবিরোধী ও রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রদ্রোহী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে তাকে বিচার করা হোক। যে অপরাধ তিনি করেছেন, সেটা ক্ষমার অযোগ্য।’

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের ফোন ইস্যুতে বেগম জিয়াকে ‘ইন্টারন্যাশনাল টাউট’ বলেন এই সাংসদ।

গত ৩ জানুয়ারি রাত থেকে গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ৩ জানুয়ারি রাত থেকে গেল রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে ছিল পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা। পুলিশ ভ্যান ও জলকামান দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছিল প্রতিবন্ধকতা। রোববার মধ্যরাতে সেসব সরানো হয়। তবে এখনো ওই কার্যালয়েই অবস্থান করছেন বেগম জিয়া।

মঙ্গলবার মাগরিবের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনি গোয়েন্দা পাঠান। কেন তিনি ওখানে থাকেন। সেখানে মজাটা কী?’

গত ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করতে গুলশান কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে পুলিশের বাধায় ব্যর্থ হন তিনি। তালাবদ্ধ গেটের ভেতর থেকেই দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেন বেগম জিয়া। মঙ্গলবার ছিল অবরোধের ১৫তম দিন। অবরোধের সময়টাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের কার্যত রাজপথে দেখা না গেলেও দুর্বৃত্তদের চোরাগোপ্তা হামলায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এই কর্মসূচির সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘খালেদা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। কোথাও অবরোধ নাই। বাস ট্রাক চলছে। জনগণ আমাদের শক্তি। জনগণ এগুলোকে সমর্থন করে না। সবই স্বাভাবিক। শুধু খালেদা জিয়ার ঘরে অবরোধ হচ্ছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনকে ব্যঙ্গ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, ‘কেন কষ্ট করছেন? কেন সুন্দর চেহারা নষ্ট করছেন? এখন আপনার চেহারা আয়নায় দেখেছেন? দু’একবার এসিড পড়লে চেহারার কী অবস্থা হয় দেখেছেন। ঘরে যান, আরামে ঘুমান। চার বছর সংগঠন গোছান। তারপর নির্বাচনে আসেন।’

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বেগম জিয়াকে নিয়ে রসিকতা করেছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও। তিনি বলেছেন হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে। মতিয়া বলেন, ‘ও পাগলা হ্যায়, সমঝানে ছে সমঝে না। চৈত্র মাসের মাসালা মাঘ মাসে বলবেন না। নিয়ম রক্ষার ইলেকশানও যদি বলেন, তাহলে নিয়ম হলো পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা। এখন আর কোনো কথা চলবে না।’

খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ করতেও লজ্জা হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারণ করতেও আমার লজ্জা হয়। কোনো ধর্ম তার কাছে নিরাপদ নয়। তিনি কোরআন শরীফ জ্বালিয়েছেন। তিনি মিথ্যাবাদী।’ৎ

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলের মতো কথা বললে হবে না। সন্ত্রাস বাংলাদেশের মাটিতে থাকতে পারে না। নীরবতা আনার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা করতে হবে। ভাষণ দিয়ে এড়িয়ে যাবেন, তা হবে না।’

খালেদাকে দমন কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়ে ওয়ার্কাস পার্টির সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘আমরা জানি তোমাদের উর্দি আছে। সেটা খালেদা জিয়ার শাড়িতে ঢাকা। তোমার পাকিস্তানি পোশাক খুলে আসো। আমরা দেখিয়ে দিতে চাই। একাত্তরে আমরা তোমাদের পরাজিত করেছি। তোমরা শতবার আমাদের সঙ্গে লড়াই করলেও তোমাদের পরাজিত করতে পারবো।’

সোমবার জিয়াউর রহমানের জন্মদিনে তার কবর জিয়ারত করতে না যাওয়াই বেগম জিয়াকে নিষ্ঠুর ও পাষাণ আখ্যায়িত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। খালেদা জিয়া খুনির কাতারে নাম লিখিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমায়ও তিনি হরতাল ও অবরোধ ডেকেছেন। লাখ লাখ মানুষ ইজতেমায় অংশ নিয়ে প্রমাণ করেছেন, তার অবরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রংপুরে ১৩ জানুয়ারি শিশুসহ ৫ জনকে পুড়িয়ে মেরেছেন। আজকেও উজিরপুরে একজন নিরাপরাধ হেলপারকে মেরেছেন।’

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে খালেদা ও ২০ দলের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তিনি নিজেও আগে বিশ্ব ইজতেমায় যেতেন। এবার তিনি অবরোধ, হরতাল তোলেননি। ঈদে মিলাদুন্নবীতেও অবরোধ ছিল। সে দিনটির প্রতিও সম্মান দেখাননি। সম্মান কাকে দেখাবে? ১৯ তারিখে জিয়াউর রহমানের জন্মদিন। তার বক্তৃতায় আমি কোথাও জিয়ার জন্মদিনের কথা দেখিনি। আমি যে কপি পেয়েছি, সেখানে জিয়ার কথা কোথাও নেই।’

‘তিনি গণতন্ত্র রক্ষা করবেন। জনগণকে হত্যা করে গণতন্ত্র রক্ষা করবেন কীভাবে? তার উদ্দেশ্য যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো ও তার ছেলেকে রক্ষা করা। দুর্নীতি করেছেন আপনি। এ মামলা থেকে নিজেকে রক্ষা ও মানি লন্ডারিং ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করাই তার ইস্যু। জনগণকে বাঁচানো তার ইস্যু না।’

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com