শেলা নদী বন্ধ থাকায় মংলা বন্দরে পণ্য খালাসে পরিবহণ সংকট

বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪

শেলা নদী বন্ধ থাকায় মংলা বন্দরে  পণ্য খালাসে পরিবহণ সংকট

images60GGWDS7মংলা, বাগেরহাটঃ সুন্দরবনের শেলা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির পর থেকে মংলা বন্দরে আসা পণ্যবাহী জাহাজের পণ্য খালাসে পরিবহণ সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে আমদানিকারকদের আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়তে হচ্ছে। সুন্দরবনের ভেতরের শেলা নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত নৌ-বাণিজ্য প্রটোকলভুক্ত মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল নাব্যতা হারানোর পর থেকে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ গত তিন বছর ধরে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিরোধীতা সত্ত্বেও সুন্দরবনের ভেতরের ওই রুটটি ব্যবহার করে আসছে।


মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কেএম আকতারুজ্জামান এ প্রতিনিধকে জানান, সুন্দরবনের শেলা নদীতে তেলের ট্যাংকার ডুবিতে বন্দরে জাহাজ আসা যাওয়ায় কোন অসুবিধা হচ্ছে না। বঙ্গোপসাগরের হিরণপয়েন্ট হয়ে পশুর নদীর হারবাড়িয়ায় পণ্যবাহী জাহাজগুলো নোঙ্গর করছে। বর্তমানে ইউরিয়া সার, গম ও ক্লিংকারবাহী (সিমেন্ট তৈরীর কাঁচামাল) মোট পাঁচটি জাহাজ বন্দরে অবস্থান করছে। কিন্তু বার্জ ও কার্গো সংকটের কারণে জাহাজগুলোকে পণ্য নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। এতে আমদানিকারকদের দিন যাচ্ছে আর জাহাজের ভাড়া বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের ভেতরের শেলা নদীর নৌপথটি বন্ধ ঘোষণার পর বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ আপতত সুপতির যে বিকল্প রুটটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সেটি বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে যেতে হবে। মংলা বন্দর থেকে যারা পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায় ওই বার্জ বা কার্গোর মাষ্টারদের ওই নৌপথটি একেবারেই অপরিচিত।

আমদানিকারক ট্রাস্ট শিপিং এজেন্টের সত্ত্বাধিকারী ফেরদৌস আহমেদ জানান, বন্দরের জাহাজ আগমনের পর নির্ধারিত সময়ে ওই জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা না গেলে আমদানিকারককে প্রতিদিন জাহাজের মালিককে চুক্তিবাদে অতিরিক্ত সর্বনিন্ম দশ হাজার ইউএস ডলার এবং বন্দরকে অন্তত সাতশ ডলার করে দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমানিকারক ও পরিবহণকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়তে হচ্ছে।

পণ্য পরিবহণের কাজে নিয়োজিত মেসার্স ইষ্টার্ণ ক্যারিয়্যারের প্রতিনিধি শাহ আলম তুহিন দুপুরে বাগেরহাট নিউজকে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) আমদানি করা প্রায় ৩৬ হাজার মেট্রিক টন সার নিয়ে বিপাকে পড়েছি। সুন্দরবনের ভেতরের শেলা নদী দিয়ে পণ্য পরিবহণ বন্ধ থাকায় প্রায় ছয়দিন ধরে মংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলের হারবাড়িয়া এলাকায় কার্গোতে ইউরিয়া সার নিয়ে বসে আছি। বিএডিসির আমদানি করা এই সার নিয়ে আমাকে আশুগঞ্জে পৌছে দিতে হবে। বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ যে রুট দিয়ে আমাদের পণ্য পরিবহণ করতে বলেছে তা আমাদের কাছে একেবারেই অপরিচিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ। আমার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তারপরও বাধ্য হয়ে বসে রয়েছি।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মংলা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আনোয়ার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত নৌ-বাণিজ্য প্রটোকলভুক্ত মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল নাব্যতা হারানোর পর থেকে বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ গত তিন বছর ধরে বিকল্প হিসেবে সুন্দরবনের ভেতরের শেলা নদী দিয়ে পণ্য পরিবহণসহ সব ধরনের নৌযান চলাচলের জন্য ব্যবহার করে আসছে। এই রুট দিয়ে প্রতিদিন ৯০ থেকে একশটি নৌযান চলাচল করে। কিন্তু গত মঙ্গলবার শেলা নদীতে তেলের ট্যাংকার ডুবির পর বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এই বিকল্প রুটটি বন্ধ ঘোষণা করে। ওই দিনের পর থেকে দেশের কোন স্থান থেকে পণ্যবাহী কার্গো, বার্জ, ট্যাংকারসহ কোন নৌযানই মংলা বন্দরে আসতেও পারছেনা যেতেও পারছেনা। ফলে মংলা বন্দরে আসা জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বঙ্গোপসাগরের সুপতি দিয়ে পণ্য পরিবহণের যে পরামর্শ দিয়েছেন তা একদিকে দুরত্ব অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ। যারা পণ্য পরিবহণ করে থাকেন তাদের কার্গো বা বার্জ বঙ্গোপসাগর দিয়ে চলাচলের অনুপোযোগি। পরিবহণ সংকটের কারনে শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। ফলে বন্দর সংশ্লিষ্টদের আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়তে হচ্ছে।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com