শিক্ষকের যৌনতার ঝড়ে বিধ্বস্ত ছাত্রী

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৫

শিক্ষকের যৌনতার ঝড়ে বিধ্বস্ত ছাত্রী

 

নারায়ণগঞ্জঃ তখন ঘনিয়ে এসেছে সন্ধ্যা। এক্ষুণি শেষ হবে প্রাইভেট পড়া। বাড়ি ফেরার তাড়া অনুভব করে কিশোরী ছাত্রীটি। কিন্তু এর মধ্যেই শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। প্রবল বৈরী বাতাস আর বৃষ্টিতে চারদিকে কেঁপে উঠছে। খানিকটা ভয় পেয়ে যায় সে। তবে সে ভয় তার সম্মানিত আর শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে নয়, বাইরের বৈরী প্রকৃতিকে।


কিন্তু কী আশ্চর্য! ঝড় তো দেখি বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেই। সে এক মহাতাণ্ডব। কিছুই মনে থাকেনা অসহায় মেয়েটির।

বাইরেই প্রকৃতি তখন বড় শান্ত। থেমে গেছে ঝড়। কিন্তু ঘর থেকে বেরুতে পারছে না বাড়ি ফেরার তাড়া অনুভব করা ছাত্রীটি। সে তখন রক্তাক্ত। পরনের জামায় ছোপ ছোপ রক্ত। সারা শরীর জুড়ে সীমাহীন যন্ত্রণা। এক অন্যরকম গৃহঝড়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে সে। ঘরের সেই তাণ্ডবের পর উধাও সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। অসহায়ের মতো ছাত্রীটির চোখে তখন ঝুমবর্ষা!

এ ঘটনা নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউপির মালিবাগ কেরামতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের।

গত ৩১ মার্চ বিকেলে কয়েকজন ছাত্রীকে নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন কেরামতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের জহিরুল হক নামে এক শিক্ষক। এক পর্যায়ে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। অন্য ছাত্রীরা বাড়ি ফিরতে পারলেও আটকে যায় শুধু নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী। এর মধ্যেই চারদিকে শুরু হয় প্রবল ঝড় বৃষ্টি। এ সুযোগ কাজে লাগায় শিক্ষক! প্রবল ঝড় বৃষ্টির মধ্যে যখন অন্ধকার হয়ে আসে চারদিকে, ঠিক তখনই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে ওই শিক্ষক। নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় নিরুপায় ওই ছাত্রী। এরপর যা হওয়ার তাই হয়।

এক সময় রক্তাক্ত অবস্থায় ছাত্রীকে কক্ষে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় শিক্ষক। খবর পেয়ে ছাত্রীর মা এসে মেয়েকে ভর্তি করায় ঢাকার মাতুয়াইলে মা ও শিশু ইনস্টিটিউটে।

ধর্ষক ও লম্পট শিক্ষক জহিরুল হক সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউপির কাজিরগাঁও গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে। তিনি বন্দর উপজেলা মুছাপুর ইউপির মালিবাগ কেরামতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্থায়ী শিক্ষক।

৩১ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে রাখে স্থানীয় প্রভাবশালী লোকজন। তবে শনিবার সকালে জানাজানি হয় ধর্ষণের এ ঘটনা।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মালিবাগ কেরামতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য বজলুর রহমান বলেন, স্কুলের বাইরে ঘটনা ঘটেছে। এজন্য স্কুলের পক্ষে উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে ওই শিক্ষককে বরখাস্ত করা হবে।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ০৪ এপ্রিল ২০১৫

 

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com