শিক্ষকের আশীর্বাদ

শনিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

শিক্ষকের আশীর্বাদ
প্রচ্ছদঃ সংগৃহীত

সকালে মায়ের হাতে তড়িঘড়ি করে খেয়েই স্কুলপানে ছুঁটলো পরাগ।বাবা মায়ের খুব আদরের একমাত্র সন্তান।লেখাপড়ায় বেশ চৌকস।কোনোদিন ক্লাসে সেকেন্ড হয়নি।তবে যেমন পড়ালেখায় তেমনি দুস্টুমিতেও বেজায় পটু।ক্লাসে আজ গফুর স্যারের অংক খাতা দেখানোর কথা।প্রথম সাময়িকে পরাগ সবগুলোতেই একশো ছুঁইছুঁই মার্কস পেয়েছে।আশায় আছে এবার দ্বিতীয় সাময়িকের রেজাল্টেও বাজিমাত করবে পুরো স্কুলে।পরাগ এবার নাইনে বিজ্ঞান বিভাগে।

স্যার কয়েকজনের খাতা নাম ডেকে দেবার পর পরাগের সিরিয়াল এলো।২য় সাময়িকীকের অংক খাতার ফলাফল দেখার পর পরাগের চোখ কপালে।বিশ্বাসই করতে পারছেনা এটা ওর  খাতা।গফুর স্যারও বিশ্বাস করেনি পরাগ খারাপ করবে।পরাগ স্যারের কাছে খাতা নিয়ে গিয়ে রাগতস্বরে বললো-স্যার এইড্যা কি অইলো?আমিতো সবগুলাই অংক ঠিকমত করছিলাম।আমারে নাম্বার কম দিছেন ক্যা?


স্যার উত্তর দিলো-বাবা তুমি একটি অংক ভুল করেছ।চেক করে দেখো।এই যে বীজগণিতটা প্লাসের জায়গায় মাইনাস করেছ।আর সম্পাদ্যে বিশেষ বিবরণ লিখতে ভুল করেছ তো বাবা।পরাগ কোনোকিছুই মানতে নারাজ।স্যারের উপর রাগ করে হঠাৎ স্যারের কলার ধরে ফেললো।বললো আপনে আমার সাথে ষড়যন্ত্র করছেন।স্যার অবাক হয়ে খুব কষ্ট পেল মনে।এরকমটি কোনোদিন আশা করেনি তিনি।বড় করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো গফুর স্যার।

লেখা পাঠান
শনিবারের চিঠির সাহিত্য পাতায় প্রতি শনিবার  কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী প্রভৃতি প্রকাশিত হয় । আপনি লেখা  পাঠাতে চাইলে আপনার লেখা সংযুক্ত করে নিন্মের ইমেইল ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন। লেখার সঙ্গে অবশ্যই ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে হবে। ইমেইলঃ editor@thesaturdaynews.com
——————————————————————————————————–

……………তারপর পেরিয়ে গেল কতটি বছর।পরাগ সে স্কুল থেকে মাধ্যমিকে স্টার মার্কস পেয়ে জেলায় পঞ্চম হলো।উচ্চ মাধ্যমিকেও বোর্ডে তার স্থান ১৩ তম।ভর্তির সুযোগ পেল বুয়েটে।এত মেধাবী ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়েও বেশ নাম করলো।

বের হয়েই শুরু করলো বাহিরে উচ্চতর ডিগ্রী নেবার আবেদন।কিন্তু কোনো জায়গা থেকেই সেরকম রেসপন্স পাচ্ছিলোনা।নিরুপায় হয়ে সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে থাকলো।এত ভালো পরীক্ষা দিয়েও কোথাও চাকরি হচ্ছিলোনা পরাগের।এক এক করে তার বন্ধুরা প্রায় সবাই চাকরি পেয়ে গেছে।পরাগ চিন্তায় অস্থির।হঠাৎ তার এক বন্ধু বললো- দোস্ত জীবনে কোনো স্যারের সাথে এমন কিছু করিসনি তো যে স্যার তোর আচরনে কষ্ট পেয়েছে বা তোর বাবা মা?

মনে পড়লো সেই ক্লাস নাইনের গফুর স্যারের কথা।পরদিন সকালের ট্রেনে ঢাকা থেকে গ্রামে গেল পরাগ।কাঁদো কাঁদো চোখে দৌড়ে গেল গফুর স্যারের বাড়ি।স্যার শয্যাশায়ী, ভীষন অসুস্থ্য।কথা বলতে পারেনা।পরাগ স্যারের কাছে গিয়ে স্যারেন পা ধরে ক্ষমা চাইলো।স্যার কিছু বলতে পারলোনা ঠিকই কিন্তু তার চোখবেয়ে কয়েক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়লো।

ঢাকায় ফিরে পরাগ চাকরির খবর পত্রিকা দেখলো।এ সপ্তাহে তার দুটো চাকরির রেজাল্ট বের হবার কথা।রেজাল্ট দেখতে দেখতে পরাগের চোখ পড়লো তার নিজের রোলে।দুটোতেই সে মেধাতালিকায় প্রথমদিকে  এবং দুটোতেই তার চাকরি হয়েছে।সব কাগজ পত্র ঠিক করে জমা দিয়ে পরের সপ্তাহে মিষ্টি নিয়ে বাড়ি পৌঁছানোর আগেই গফুর স্যারের বাড়ি গেল পরাগ।নিরিবিলি বাড়িতে সবাই চুপচাপ।কেউ কোনো কথা বলছেনা,কারো মুখে হাসি নেই।পরাগের গ্রামের এক বন্ধু ওকে জানালো পরাগ ঢাকায় ফেরার পরদিনই গফুর স্যার দুনিয়া ছেড়ে বিদায় নিয়েছেন।পরাগ শুনেই কান্না ধরে রাখতে পারলোনা।শেষ সুসংবাদটাও স্যারকে দেয়া হলোনা পরাগের।

মানিকগঞ্জ,ঢাকা ।।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com