শামসুর গল্প

শনিবার, ০৪ জুন ২০১৬

শামসুর গল্প

শামসুর গল্প

আদিত্য রহিম


 

Litearture 01একদিন গভীর রাতে বাড়ির গ্যারেজে নড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেল শামসু। সাবধানে দরজা খুলে উঁকি দিল সে। যা দেখল তাতে ভয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার জোগাড়। গ্যারেজে কারা যেন নড়াচড়া করছে, টুং টাং শব্দও আসছে। বুঝল, তার গাড়ির দফারফা করার ব্যবস্থা করছে চোরেরা। সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী থানায় ফোন করল সে। ‘ভাই এক্ষুনি কাউকে পাঠান, আমার বাড়িতে চোর ঢুকেছে।’

ওপাশ থেকে পুলিশের সদস্যটি বললেন, ‘দেখুন, এখন রাত ১টা। থানায় শুধু আমরা দু-চারজন আছি, বাড়তি কেউ না এলে তো আপনার বাড়িতে কাউকে পাঠানো যাবে না। এক কাজ করুন, দরজা বন্ধ করে বসে থাকুন, সময়-সুযোগ পেলে আমাদের কেউ যাবে আপনার ওখানে।’

শামসু ফোনটা রেখে দিয়ে এক থেকে ১০ পর্যন্ত গুনল। তারপর আবার ফোন করল থানায়। ‘হ্যালো, ভাই আমিই কিছুক্ষণ আগে ফোন করেছিলাম পুলিশ পাঠানোর জন্য। আপনাদের আর আসার দরকার নেই। গ্যারেজে দুটি লোক ঢুকেছিল, দুটিকেই গুলি করে মেরে ফেলেছি।’ এই বলে ফোন রেখে দিল সে। ১০ মিনিটও পেরোল না, সাইরেন বাজিয়ে দুটি পুলিশের গাড়ি চলে এলো, তারপর শামসুর গ্যারেজে ঢোকা দুই দুর্বৃত্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলল। পুলিশের এক সদস্য শামসুকে বলল, ‘আপনি না বলেছিলেন ওদের গুলি করে মেরে ফেলেছেন?’

শামসু বলল, ‘আপনারা না বলেছিলেন এখানে পাঠানোর মতো  থানায় কেউ নেই?’

► বহু বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে শামসু। কাজেকর্মে বেশ দক্ষ সে। এ কারণে বসরা তাকে যথেষ্ট পছন্দ করেন। তবে মনে একটা দুঃখ আছে শামসুর—অনেক দিন ধরে বেতন বাড়ানো হচ্ছে না। একদিন ঠিক করল, বেতন বাড়ানোর জন্য এবার চাপ দিতেই হবে। ভেবেচিন্তে একটি ফন্দি আঁটল সে। বসের রুমে ঢুকল। বস কাজ থেকে মুখ তুলে গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকালেন। ‘কী ব্যাপার শামসু?’

‘স্যার, আমি অনেক দিন ধরে আপনাদের ফার্মে চাকরি করছি। তবে আর মনে হয় পারব না।’

বস ভ্রু কুঁচকালেন। ‘সেকি! কেন পারবে না?’

‘বেশ কয়েকটি কম্পানি আমার পেছনে লেগেছে স্যার। এত দিন ধৈর্য ধরে থেকেছি, এবার আর না বলে পারলাম না। আপনারা যদি বেতন না বাড়ান তাহলে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত আমাকে নিতেই হবে।’

বস একটু চিন্তা করলেন। তারপর বললেন, ‘ঠিক আছে, তোমার কথাই থাকল। আগামী মাস থেকেই তোমার বেতন বাড়িয়ে দিলাম। খুশি তো?’

‘থ্যাংক ইউ স্যার’ বলে বেরিয়ে আসার উপক্রম করছিল শামসু, বস পেছন থেকে ডাকলেন। ‘আচ্ছা, কোন কোন কম্পানি তোমার পেছনে লেগেছে নামগুলো বলা যাবে?’

‘যাবে না কেন স্যার?’ একগাল হেসে বলল শামসু, ‘টেলিফোন কম্পানি, গ্যাস কম্পানি, বিদ্যুৎ কম্পানি…।’

► বনের মধ্যে শিকার করছিল দুই বন্ধু—শামসু আর মণ্টু। হঠাৎ মাটিতে একটি গর্ত চোখে পড়ল শামসুর। কাছে গিয়ে ভালোমতো নিরীক্ষণ করার পর মনে হলো, গর্তটা খুবই গভীর। একটি নুড়িপাথর নিয়ে ছুড়ে মারল সে, কিন্তু সেটি গর্তের তলায় গিয়ে পড়ার কোনো শব্দ শোনা গেল না। মণ্টু বলল, ‘মনে হচ্ছে গর্তটা খুবই গভীর। নুড়িপাথরটার চেয়ে ভারী কিছু ছুড়ে দেখা যাক।’ এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে ভারী একটি পাথর চোখে পড়ল তাদের। সেটি তুলে নিয়ে গর্তের মধ্যে ছুড়ে মারল শামসু। মুহূর্তের মধ্যে কোত্থেকে কে জানে, একটি ছাগল দৌড়ে এসে গর্তটার মধ্যে লাফ দিয়ে পড়ল। রীতিমতো হকচকিয়ে গেল দুই বন্ধু। ‘এটা কী হলো?’ বড় বড় চোখ করে বলল শামসু। ‘কোনো ভুতুড়ে কাণ্ড নয় তো?’

ঠিক তখনই একটা লোক দৌড়াতে দৌড়াতে এলো সেখানে। দুই বন্ধুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জিজ্ঞেস করল সে—‘আপনারা কি আমার ছাগলটাকে দেখেছেন কোথাও?’

‘হ্যাঁ’, শামসু বলল। ‘এই মাত্র একটি ছাগল দৌড়ে এসে ওই গর্তটার মধ্যে লাফ দিয়ে পড়ল। রহস্যময় ব্যাপার।’

‘তা তো হওয়ার কথা নয়’, লোকটা অবিশ্বাসভরে বলল, ‘আমি তো ওটাকে পাথরের সঙ্গে বেঁধে রেখে গিয়েছিলাম!’

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / জুন ০৪,২০১৬

আমাদের সাইডে আরো গল্প পড়তে ক্লিক করুণঃ
শনিবারের গল্প

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৪ জুন ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com