শঙ্কার মধ্যেই আজ চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন

রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১

শঙ্কার মধ্যেই আজ চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন
কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে যাচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা [ ছবিঃ সংগৃহীত ]

 

কোথাও সহিংসতার শঙ্কা, আবার কোথাও নির্বাচনি উৎসব-এমন অবস্থার মধ্যে চতুর্থ ধাপের ৮৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩৮টিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) এবং বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে কাগজের ব্যালটে ভোট নেওয়া হবে। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধাপের ৫৮টি জেলার ১১৮টি উপজেলায় শুক্রবার থেকে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সহিংসতার শঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী অন্তত ২১ জেলার ৩৮ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এত বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পরও অনেক উপজেলায় নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ভোটাররা। আবার কোথাও কোথাও নির্বাচন উৎসবে পরিণত হয়েছে। পাবনার আটঘরিয়া, নরসিংদীর রায়পুরা ও কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভায়ও আজ ভোটগ্রহণ হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।


নির্বাচনসংশ্লিষ্টরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দিন দিন সহিংসতার ঘটনা ও তীব্রতা দুই বেড়েছে। এর রেশ চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণের দিনে গড়াতে পারে। এর বড় কারণ হচ্ছে, এ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে নির্বাচনি এলাকাগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের পাহারায় পুলিশ ও আনসারের ২২ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ নির্বাচনে ৯ হাজার ২২৪টি ভোটকেন্দ্র ও ৪৯ হাজার ৮৩২টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটার রয়েছেন এক কোটি ৬২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬০ জন। তাদের মধ্যে ৮২ লাখ ৫১ হাজার ২১১ জন পুরুষ ও ৮০ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৯ জন নারী। এ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি ইউনিয়নে পুলিশের একটি মোবাইল ফোর্স ও প্রতি তিন ইউনিয়নে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স মাঠে রয়েছে। প্রতি উপজেলায় র‌্যাবের দুটি মোবাইল ও একটি স্ট্রাইকিং টিম রয়েছে। একইভাবে প্রতিটি উপজেলায় দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোবাইল ও এক প্লাটুন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে রয়েছে। যে কোনো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব সদস্য একযোগে কাজ করবেন। এছাড়া জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও রয়েছেন।

জানা গেছে, এ ধাপে ভোট ছাড়াই ৪৮ চেয়ারম্যানসহ ২৯৫ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান ৪৮, সংরক্ষিত সদস্য ১১২ ও সাধারণ সদস্য ১৩৫ জন রয়েছেন। বাকি পদগুলোতে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে তিন হাজার ৮১৪, সাধারণ সদস্য পদে ৩০ হাজার ১০৬ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে নয় হাজার ৫১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। তবে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটে না থাকলেও অনেক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অংশ নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

যে ২১ জেলায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন : আরও জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কায় ২১ জেলার ৩৮ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদার ভিত্তিতে এসব সদস্য মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে ইসি। জেলাগুলো হচ্ছে-বরিশাল, নাটোর, লালমনিরহাট, পটুয়াখালী, গোপালগঞ্জ, গাইবান্ধা, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম, মুন্সীগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ। আরও রয়েছে-চাঁদপুর, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ঠাকুরগাঁও, কিশোরগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও যশোর।

চট্টগ্রামের বেশিরভাগ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের তিন উপজেলার ২৭ ইউনিয়নে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব ইউনিয়নের ২৪৯ ভোট কেন্দ্রের অর্ধেকের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে পটিয়া আর কর্ণফুলীতে। পটিয়ার ১৫৬ কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কর্ণফুলীর ৩৯ কেন্দ্রের সবকটিই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। লোহাগাড়া উপজেলায় ২৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০টির মতো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা নিয়ে চিন্তিত বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিস। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসাবেই বিবেচনায় নিয়ে সেভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তবে সাধারণ ভোটাররা বলেছেন, প্রকাশ্যে সরকারদলীয় স্থানীয় এমপি বা সংসদ সদস্যরা কাজ না করলেও নেপথ্যে থেকে তারাই কলকাঠি নাড়ছেন। পছন্দের প্রার্থীকে জেতাতে তারা প্রশাসনকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা করছেন তারা। অন্যদিকে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ঠেকাতে বিদ্রোহীরাও অনেকটাই একাট্টা হয়ে পড়েছেন। এ কারণে নির্বাচনের দিন সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পটিয়ায় গত কয়েক দিনে বেশ কিছু ইউনিয়নে দুর্বৃত্তের আগুনে জ্বলেছে নৌকার ক্যাম্প। এ ঘটনায় জঙ্গলখাইন, ছনহরা ও কাশিয়াইশ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীদের পক্ষে তিনটি মামলা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ২:১০ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com