শওকত ওসমানের গল্প থেকে নির্মিত হলো ‘ফেরা’

সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৬

শওকত ওসমানের গল্প থেকে নির্মিত হলো ‘ফেরা’

%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8b%e0%a6%a6%e0%a6%a8কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের জনপ্রিয় ছোটগল্প ‘দুই মুসাফির’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফেরা’। চলচ্চিত্রটির পরিচালক মাইনুল শাহিদ। চলচ্চিত্রটিতে বাউল লালনের চরিত্রে জগন্ময় পাল, জোয়ার্দার চরিত্রে হীরা চৌধুরী ও মল্লিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন সেলিম শেখ। ‘নতুন চলচ্চিত্র নতুন নির্মাতা চলচ্চিত্র উৎসব’-এ অক্টোবর মাসে নির্বাচিত চারটি চলচ্চিত্রের অন্যতম ‘ফেরা’।

আগামী ২৮ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় চলচ্চিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে।


চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে নির্মাতা মাইনুল শাহিদ বলেন, ‘এক সময় গল্পটি মাধ্যমিকের সিলেবাসে ছিল। সেই সুবাদে গল্পটি প্রথম পড়া হয়। তখনই বিষয়বস্তু, আঙ্গিক ও বিন্যাসের কারণে মনে ধরে যায় গল্পটি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করার সময় গল্পটি চলচ্চিত্রায়ণের সুযোগ এসে যায়। গত বছর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের আড়িয়াল বিল ও পার্শ্ববর্তী সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন লোকেশনে চলচ্চিত্রটির শুটিং করা হয়। গল্পটির মূল ঠিক রেখে দৃশ্যায়নের প্রয়োজনে কিছু জায়গায় বদলে নিতে হয়েছে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একদিনে শুটিং শেষ করি। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরের মাঝামাঝি এসে সম্পাদনার কাজ শেষ করতে পেরেছি। সম্পাদনা শেষে চলচ্চিত্রটি দশ মিনিট দৈর্ঘ্যে নিয়ে আসি। চলচ্চিত্রটি নির্মাণে আমি আমার সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছি। অনেকস্থলেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারিনি।’

এই চলচ্চিত্রকার এর আগে যৌথভাবে আরো দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ও একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, “আমার আবেগমথিত এক স্বপ্নবাজির নাম ‘ফেরা’ চলচ্চিত্রটি । ব্যক্তিগত অর্থায়নে স্বল্প বাজেটে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ শুরু করি। পরে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন পাশে এসে দাঁড়ায়। চলচ্চিত্রটি নির্মাণে নানাভাবে যারা প্রেরণা ও সহযোগিতা করেছে তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

চলচ্চিত্রটির পরামর্শক হিসেবে ছিলেন রুহুল রবিন খান, সহকারী পরিচালক জান্নাতে নাঈম, চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনা শাহীন স্বাধীন। তা ছাড়া সঙ্গীতে সরদার হীরক রাজা, দোতরায় মোহাম্মদ নওফেল, সঙ্গীত পরিচালনায় মাহাবুবুল হক রোমান ও লাঠিয়াল চরিত্রে ছিলেন আসাদ জামান। সিনেমাটির ইংরেজি সাবটাইটেল করেছেন ফরহাদ হোসেন মাসুম, লোগো ও পোস্টার করেছেন সোহেল আশরাফ খান।

চলচ্চিত্রটির গল্পে দেখা যাবে, একদিনের জন্য পৃথিবীতে ফিরে আসার সুযোগ পান এক বাউল ও এক ভূস্বামী। উভয়েরই মৃত্যুর পর পৃথিবীতে কেটে গেছে কয়েক যুগ। ফিরে এসে জোয়ার্দার নিজের সম্পত্তি খুঁজতে গেলে সম্পত্তির বর্তমান মালিক মল্লিকের হাতে লাঞ্ছিত হন। এ সময় বাউল তাদের ঝগড়া মিটিয়ে দিয়ে গান শোনার আহ্বান জানান। বাউলের গান শুনে চারপাশ থেকে লোক সমাগম ঘটতে থাকে। জনতা বাউলের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে লালন ফকির পরিচয় দেন। বহু আগে থেকে নাম শুনে আসা মানুষটিকে কাছে পেয়ে জনতা তখন তাকে ছাড়তে চায় না। এভাবে অতীত-বর্তমানের সংঘর্ষে গল্পটি পরিণতি পায়। সূর্য ডুবতে থাকলে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে জোয়ার্দারকে আর তৃপ্ত ও দৃপ্ত পদক্ষেপে বাউলকে ফিরে যেতে দেখা যায়।

জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় দেখানো হবে ‘ফেরা’সহ তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র। সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র। নামমাত্র দর্শনীর বিনিময়ে দেখানো হবে মোট নতুন চারটি চলচ্চিত্র। এগুলো হচ্ছে, মোল্লা সাগর পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘দাদু’, মাসুম বিল্লাহর স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র ‘কমরেড’, ভিকি জাহেদের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মোমেন্টস’ ও মাইনুল শাহিদের ‘ফেরা’।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / অক্টোবর ২৪, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com