লাতিন আমেরিকায় জিকার ভয়ে গর্ভপাতের হিড়িক

শুক্রবার, ২৪ জুন ২০১৬

লাতিন আমেরিকায় জিকার ভয়ে গর্ভপাতের হিড়িক

শনিবার রিপোর্টঃ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে জিকা ভাইরাসের আশঙ্কায় মহিলাদের মধ্যে গর্ভপাত ”ব্যাপক হারে” বেড়ে গেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ব্রাজিলে গর্ভপাত চাওয়ার হার বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে, এবং লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে এ হার এক তৃতীয়াংশ বেড়েছে।


এসব দেশের সরকার মেয়েদের অন্তস্বত্তা না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ জিকার সংক্রমণ হলে এসব নারীর অপরিণত মস্তিস্কের সন্তান জন্ম দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ষাটটি দেশ এবং এলাকায় মশাবাহিত জিকা সংক্রমণের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

এই ভাইরাসের সংক্রমণে মাইক্রোসেফালি রোগে আক্রান্ত হয়েছে দেড় হাজারের বেশি শিশু।

জিকার কারণে গর্ভপাতের বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব

লাতিন আমেরিকার অনেক দেশেই গর্ভপাত অবৈধ। কাজেই মহিলারা সেখানে বেসরকারিভাবে যারা গর্ভপাত করে তাদের দ্বারস্থ হন।

এরকম একটি প্রতিষ্ঠান উইমেন অন ওয়েব নারীদের অনলাইনে পরামর্শ এবং গর্ভপাতের বড়ি দিয়ে থাকে। এরা খুবই বড় একটি প্রতিষ্ঠান।

যারা জিকা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছে তারা উইমেন অন ওয়েবের সঙ্গে কথা বলে জেনেছে ২০১৫ সালের ১৭ই নভেম্বর জিকা সম্পর্কে আমেরিকাব্যাপী স্বাস্থ্য সংস্থার হুঁশিয়ারির আগে ৫ বছরে কত গর্ভপাতের অনুরোধ তারা পেত।

অস্বাভাবিক শিশুর জন্ম ঠেকাতে এমনকী অনিরাপদ গর্ভপাতের পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক গর্ভবতী নারী।

অস্বাভাবিক শিশুর জন্ম ঠেকাতে এমনকী অনিরাপদ গর্ভপাতের পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক গর্ভবতী নারী।

ওই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তারা গর্ভপাতের গড় হার সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করে এবং ওই ধারণার ওপর ভিত্তি করে এবং আসলে গর্ভপাতের কত অনুরোধ বর্তমানে আসছে তা বিশ্লেষণ করে তারা দেখেন ব্রাজিল আর একুয়াডোরে গর্ভপাতের হার দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গেছে।

পেরুর এক মহিলা উইমেন অন ওয়েবকে বলেন, ”আমি খুবই উদ্বিগ্ন। আমি দুমাসের অন্তস্বত্তা আর পেরুতে জিকা ধরা পড়েছে। আমি অসুস্থ শিশুর জন্ম দিতে চাই না। আমি গর্ভপাত করাতে চাই- আমি খুবই ভয়ে অাছি।”

মশার কামড় থেকে জিকা সংক্রমণের হুঁশিয়ারি দেয় প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন

মশার কামড় থেকে জিকা সংক্রমণের হুঁশিয়ারি দেয় প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন

ভেনেজুয়েলার আর এক গর্ভবতী নারী বলেন, ”চারদিন আগে আমার জিকা হয়েছিল। আমি বাচ্চা ভালবাসি, কিন্তু চাই না আমার বাচ্চা অসুস্থতা নিয়ে জন্মাক। দয়া করে আমাকে গর্ভপাত ঘটাতে সাহায্য করুন।”

গবেষক ড: ক্যাথরিন এইকেন বলছেন, ”সরকারগুলো গর্ভধারণ না করার পরামর্শ দিচ্ছে। অন্যদিকে ভীত নারীরা উপায় না দেখে গর্ভপাতের ব্যবস্থা নিজেরাই করছে। গোটা এলাকায় গর্ভপাত বিপুল সংখ্যায় বেড়ে গেছে।”

তিনি বলেছেন এসব দেশে মেয়েরা ভয়, উদ্বেগ আর ত্রাসের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, কিন্তু ”ফাঁকা বুলির” বাইরে তাদের জন্য সরকারি সাহায্য নেই।

গবেষক দলের আরেকজন সদস্য বলেছেন মেয়েরা অনিরাপদভাবে গর্ভপাতের যে পথ বেছে নিচ্ছে তাতে তাদের নিজেদের জীবনের জন্য তৈরি হচ্ছে নানাধরনের ঝুঁকি। সুত্রঃবিবিসি

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা / জুন ২৪,২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ জুন ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com