লন্ডনে বসে অপমান করবে, সেটা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০১৫

লন্ডনে বসে অপমান করবে, সেটা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

লন্ডনঃ যুক্তরাজ্য সফরকালে স্থানীয় বিএনপির বিক্ষোভে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ডেমোনস্ট্রেশন (বিক্ষোভ) কীসের জন্য? স্থলসীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি তার প্রতিবাদে? সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি তার প্রতিবাদে? লন্ডনে বসে অপমান করবে, সেটা হবে না।

 রবিবার লন্ডনের পিকাডেলির পার্ক লেইন শেরাটন হোটেলে এক সংবর্ধনায় বক্তব্য দিতে গিযে় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলাদেশে স্বৈরাচারের পতন, গণতন্ত্রায়ণ, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে অবদান এবং সর্বশেষ ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়নের সম্মাননা হিসেবে যুক্তরাজ্য আওযা়মী লীগ ওই সংবর্ধনার আযো়জন করে।


প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওযা়র সময় ওই হোটেলের সামনে যুক্তরাজ্য বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী বিক্ষোভ করেন। মাথায় কালো কাপড় বেধে ব্যানার ও পোস্টার নিযে় নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। পুলিশ এ সময় বিক্ষোভকারীদের ঘিরে রাখে। নিরাপত্তা বেষ্টনী মধ্যে বিএনপির বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

এর আগে গত শুক্রবার এবং শনিবার প্রধানমন্ত্রী যে হোটেলে অবস্থান করছেন (পশ্চিম লন্ডনের হিলটন পার্ক লেইন) তার সামনেও একইভাবে বিক্ষোভ করেছে বিএনপি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একদিকে আমাদের যেমন ন্যাচারাল ক্যালামিটিজ (প্রাকৃতিক দুর্যোগ) আছে, সেইসঙ্গে আমাদের ম্যান মেইড ক্যালামিটিজও (মানুষ সৃষ্ট দুর্যোগ) আছে। দুটোই আমাদের মোকাবিলা করতে হয়। জ্বালাও, পোডা়ও, খুন, হত্যা-আর তার মূল হোতা তো এখানেই বসে আছে’।

untitled

যুক্তরাজ্য বিএনপির বিক্ষোপ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বিএনপির চেযা়রপারসন খালেদা জিযা়র সাক্ষাৎ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কীসের এত তোষামোদি?
আওযা়মী লীগ সভানেত্রী আরও বলেন, এতিমের অর্থ যারা চুরি করে খেযে়ছে, বাসে আগুন দিযে় যারা মানুষ পুডি়যে় মেরেছে এবং যারা হুকুম দিযে় এগুলো করিযে়ছে, তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে।

যুক্তরাজ্য আওযা়মী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি মানপত্র পাঠ করেন প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী। যুক্তরাজ্য আওযা়মী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল ও ক্রেস্ট উপহার দিযে় শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত প্রশংসা পাওযা়র যোগ্যতা তাঁর নেই। তিনি বলেন, ‘বাবার কন্যা হিসেবে আমি গর্বিত। কারণ আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমার এর চাইতে বড় কিছু পাওযা়র নেই’।
১৯৭৫ ও ২০০৭ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তাঁর প্রতি যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের ভালোবাসা ও অবদানের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য এখন তাঁর কাছে আরও আপন। কারণ তাঁর বোনঝি টিউলিপ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হযে়ছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন কন্যা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হওযা়য় একজন বাঙালি হিসেবে তিনি গর্বিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় চার কোটি ৫৭ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক রযে়ছে বাংলাদেশে। আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষার পাশাপাশি নিশ্চিত হযে়ছে খাদ্য নিরাপত্তা। নেপালে ভূমিকম্প দুর্গত মানুষদের তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল সহায়তা দেওযা় হযে়ছে। নেপাল চাইলে বাংলাদেশ এক লাখ মেট্রিকটন চাল সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে বিরোধ মীমাংসা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতের কোনো সরকার এমনটা কল্পনাও করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান এবং নেপাল যোগাযোগ ক্ষেত্রে যে সমঝোতা করেছে তা সবার জন্য উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ভৌগোলিক অবস্থার কারণে বাংলাদেশের যে গুরুত্ব রযে়ছে সেটিকে কাজে লাগিযে় দেশের উন্নতি করাই লক্ষ্য বলে জানান শেখ হাসিনা। দারিদ্র্যকে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিযা়র অভিন্ন শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দারিদ্র্য মোকাবিলায় সবাইকে কাজ করতে হবে। শুধু নিজেদের কথা নয়। প্রতিবেশীদের কথাও ভাবতে হবে।

Hasina tulip

বোনঝি টিউলিপকে ফুলের তোড়া দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশের পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে বলে জানিযে়ছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৬০ ভাগে নামিযে় এনেছি। হতদরিদ্রের সংখ্যা ৭ ভাগে নেমে এসেছে। এসব বিষযে় শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গডে় তোলার লক্ষ্যে ২০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্দিষ্ট করা হযে়ছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গৃহহীন, ভূমিহীন কোনো মানুষ থাকবে না। এ ব্যাপারে প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নির্দেশ দেওযা় আছে। গৃহহীন, ভূমিহারা মানুষ থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি তাঁদের সরকারি অর্থে বাডি় করে দেবেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বোনঝি টিউলিপসহ উপস্থিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি লেবার দলের মাইক গ্যাপস, জো স্টিভেনস, ওযে়স স্ট্রিটিং ও কনজারভেটিভ দলের এমপি পল স্কালির হাতে ফুলের তোডা় ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইংরেজি সংস্করণ তুলে দিযে় অভিনন্দন জানান। এ সময় টিউলিপ বলেন, ‘কখনো ভাবিনি এ রকম একটি অনুষ্ঠানে নিজের খালার হাত থেকে ফুল নেব। আপনাদের দোযা় ও সমর্থন ছাডা় আমি ব্রিটিশ এমপি হতে পারতাম না।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওযা়জেদ জয়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিযা়র আলম ও যুক্তরাজ্য আওযা়মী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোযা়রুজ্জামান চৌধুরী।


শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ১৬ জুন ২০১৫

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com