লন্ডনে তারেকের সাথে জর্জিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৬ অঙ্গরাজ্য বিএনপির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

বুধবার, ২৫ মে ২০১৬

লন্ডনে তারেকের সাথে জর্জিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৬ অঙ্গরাজ্য বিএনপির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক

নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি নিউজ : জর্জিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৬ অঙ্গ রাজ্যের ১৭ নেতার সাথে দু’দফায় ৯ ঘন্টা বৈঠক করলেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডনে দু’সপ্তাহ আগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জর্জিয়া ছাড়া অন্যান্য যারা ছিলেন, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া, ইলিনয়, ও ম্যাসেচুসেটস রাজ্যের সম্প্রতি গঠিত বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকরা এ বৈঠকে যোগ দেন। ভার্জিনিয়া তথা ওয়াশিংটন ডিসির সভাপতি ড. আশরাফ ছিলেন অনুপস্থিত। এ জন্যে ১৭ জনের এ বৈঠকের সমন্বয় করেছেন ইলিনয় অঙ্গরাজ্য বিএনপির নেতা শাহ মোজাম্মেল নান্টু। প্রথম দিন ৭ ঘন্টার বৈঠকে লন্ডনে বসবাসরত বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মহিবুর রহমানও ছিলেন। দ্বিতীয় দিনের দুই ঘন্টার বৈঠকে অবশ্য শুধু ৬ অঙ্গরাজ্যের সভাপতিরা ছিলেন তারেক রহমানের সাথে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক এহসানুল হক মিলনের তত্ত্বাবধানে কয়েক মাস আগে তুমুল প্রতিরোধের মুখে এবং অধিকাংশ নেতা-কর্মীর অনুপস্থিতিতে ফ্লোরিডা, নিউজার্সী অঙ্গরাজ্যেও কমিটি গঠনের মহড়া হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় অনুমোদন না পাওয়ায় এ দুটি রাজ্যের কেউই লন্ডনের ডাক পাননি। একইভাবে বিএনপির রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য থেকেও কেউ তারেকের আমন্ত্রণ পাননি। তবে, ঐ বৈঠকে অংশগ্রহণকারিদের কাছে থেকে নিউইয়র্ক রাজ্য শাখার সম্ভাব্য নেতৃত্বের একটি তালিকা সংগ্রহ করেছেন তারেক রহমান।


বৈঠকে অংশগ্রহণকারি একাধিক নেতা এনআরবি নিউজের এ সংবাদদাতাকে নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নিউজার্সী, কানেকটিকাট প্রভৃতি অঙ্গরাজ্যে বিএনপির কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু করা হবে। জুনের প্রথম সপ্তাহেই এহসানুল হক মিলন আসছেন। এসব অঙ্গরাজ্যের কমিটি হবার পরই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের ব্যাপারে তারেক রহমান চিন্তা-ভাবনা করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারি জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি নাহিদুল খান সাহেল এনআরবি নিউজকে বলেন, ‘৭ ঘন্টার টানা বৈঠকে আমাদের কথা অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন তারেক রহমান। প্রচন্ড ধৈর্য দেখেছি। একবারও বিরতি নেননি কিংবা কারো কথায় সামান্য বিরক্তিবোধ করেননি।’

বৈঠক থেকে কী মেসেজ নিয়ে এলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির এক সম্পাদক নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কোন দিক-নির্দেশনা পাইনি। তবে এখন থেকে আমরা তার সাথে সরাসরি যোগাযোগের অনুমতি পেয়েছি। যে কোন কাজে তিনি আমাদের সরাসরি নির্দেশনা দেবেন। কোন মাধ্যমের প্রয়োজন হবে না।’ তবে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজের নির্দেশ দেন তারেক রহমান-এ তথ্য জানান জর্জিয়া বিএনপির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অসহনীয় পরিস্থিতির আলোকে বিএনপির পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলেও তারেক রহমান বলেন।’

ইলিনয় অঙ্গরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নার্গিস আহমেদ ডেইজি ছিলেন একমাত্র মহিলা। বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি এনআরবি নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মত ৫টি দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার যোগ্যতা রাখেন আমাদের নেতা। তার কথা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। একটি শব্দও ছিল না, যা খন্ডন করা যায়। কিংবা কারো প্রতি বিদ্বেষের ছাপও দেখিনি। এমন নেতার সান্নিধ্য পেয়ে আমি অত্যন্ত অনুপ্রাণীত হয়েছি নবউদ্যমে কাজের।’

‘যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের ব্যাপারে আপাতত: কোন আগ্রহ দেখিনি। আমার মনে হয়েছে যে, সবগুলো রাজ্যের কমিটি গঠনের পরই সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হতে পারে’-উল্লেখ করেন ডেইজি। ‘কুশলাদি বিনিময়ই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। সেটি সফল হয়েছে’-উল্লেখ করেন ডেইজি।

বিএনপির রাজনীতির স্বার্থে কষ্টার্জিত অর্থের বিনিয়োগ ঘটিয়ে মূলধারায় সক্রিয় অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘অঙ্গরাজ্য কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় কোন দোষ নেই। তবে তাদের সমন্বয় ঘটানোর স্বার্থেই তো যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি হওয়া দরকার। বিশেষ করে, জাতিসংঘের এই সিটিতে বিএনপির ঝান্ডা সমুন্নত রাখতে হলে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিতদের সাংগঠনিক কাঠামোয় রাখার বিকল্প নেই।’ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দেলোয়ার আরো উল্লেখ করেন, ‘বর্তমানে সৃষ্ট এক ধরনের অভিমান বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির সুযোগ পাচ্ছে। আশা করছি, শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির এই নাজুক অবস্থা কাটিয়ে উঠতে নীতি-নির্দ্ধারকরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদল বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই কাজ করছি। আমার মত আরো অনেকের জীবন-যৌবন পেড়িয়ে পড়ন্ত বিকেলে। অথচ হাই কমান্ডের মূল্যায়ন নেই। কম্যুনিটিতে চাঁদাবাজ-ধান্দাবাজ হিসেবে পরিচিতরাই লন্ডনের ডাক পাচ্ছে, লন্ডনে গিয়ে নেতাকে ভুল তথ্য দিচ্ছে। এহেন অবস্থার অবসানে শীঘ্র সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার।’ উল্লেখ্য, ১/১১ তে গঠিত কেয়ারটেকার সরকারের আমলে তারেক রহমানকে গ্রেফতারের সংবাদ নিউইয়র্কে আসার সাথে সাথে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘তারেক রহমান মুক্তি পরিষদ’ গঠন করেছিলেন বিএনপির এই নেতা আকতার হোসেন বাদল। তখন থেকেই বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানের মুক্তির জন্যে মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বাদল বলেন, ‘শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকরা আজ দিকভ্রান্ত। ৩ বছর হলো যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এটি দ্রুত গঠন করা না হলে নিউইয়র্কে বিএনপির কর্মী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।’

ইতিমধ্যেই তার প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির তরুণ নেতা পারভেজ সাজ্জাদ। তিনি বলেন, ‘প্রবীন সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের পরও বিএনপির ব্যানারে কোন কর্মসূচি গৃহিত হয়নি। এ অবস্থায় আমি গঠন করেছি ‘শফিক-শওকত-মাহমুদুর মুক্তি পরিষদ।’ এই সংগঠনের ব্যানারে শফিক রেহমানের গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছি।’

দু’সপ্তাহ আগে বিএনপির নয়া কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার এসেছিলেন নিউইয়র্কে। ১০ দিন অবস্থান করেছেন। চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির ব্যানারে একটি অনুষ্ঠানের জন্যে। কিন্তু কেউ সাড়া দেননি।

শনিবারের চিঠি/আটলান্টা/ মে ২৫, ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৫ মে ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com