লক্ষ্মীপুরে পশুর হাটে ইজারাদারের ইচ্ছামতো হাসিল আদায়

সোমবার, ১৯ জুলাই ২০২১

লক্ষ্মীপুরে পশুর হাটে ইজারাদারের ইচ্ছামতো হাসিল আদায়
স্থানীয় একটি পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রতাদের উপচে পড়া ভিড় [ ছবিঃ সুলতানা মাসুমা ]

আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে  লক্ষীপুর জেলার  পশুর হাটগুলোতে ইজারাদারেরা ইচ্ছামতো অতিরিক্ত হাসিল আদায় করছেন। তাঁরা সরকারি কোন  নীতিমালার ধার ধারছেন না। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি গরু বা মহিষ  ২০০ টাকা এবং  প্রতিটি ছাগল বা ভেড়া  মাত্র ৫০ টাকা হাসিল দেয়ার কথা। আর তা দেবেন ক্রেতা। কিন্তু বিক্রেতার কাছ থেকেও হাসিল আদায় করা হচ্ছে। সরকার  নির্ধারিত হাসিলের চেয়ে ২৫গুণ বেশী হাসিলের টাক্যা  আদায় করছে হাট ইজারাদাররা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে হাট-বাজার ইজারা দেয়া হয়নি। তবুও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেক  নেতা তাদের ইচ্ছেমতো স্কুল কলেজ মাঠ দখল করে এমনকি চলাচলের রাস্তা মহাসড়ক দখল করে কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে মাত্রাতিরিক্ত হাসিলের টাকা আদায় করছে।


এছাড়া কোনো কোনো হাটে হাসিলের পাশাপাশি নেয়া হয় মাঠ ভাড়াও। কোরবানি ছাড়া জেলার ৫টি উপজেলা ও ১টি থানায় সাপ্তাহিক প্রায় ২৫০টি ছোট বড় হাট ও বাজারে পশু কেনাবেচা হয়। কোরবানি উপলক্ষে পশু বিক্রির বাজারের সংখ্যা আরো বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আর ওইসব হাটে চলে মনমতো হাসিল আদায়ের মহোৎসব।

নিমানুযায়ী টোল ঘরে কিংবা হাটের কোন এক যায়গায় জেলা প্রশাসক নির্ধারিত গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া কিংবা অন্যান্য পশু বিক্রির হাসিলের পরিমাণ উল্লেখ করে তালিকা টানিয়ে দেয়ার বিধান থাকলেও সেই তালিকা কোনো হাট-বাজারে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে ক্রেতারা জানেন না ক্রয় বা কেনা পশুর সরকার নির্ধারিত হাসিল কত? এবার পৃথিবীব্যাপী মহামারী কোভিড বা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে লকডাউনের আওতায় থাকায় গরুর হাট, বাজারকে প্রশাসন কর্তৃক ইজারা না দেওয়ায় যে যার মত ক্রেতা-বিক্রেতাকে চাপ প্রয়োগ করে হাসিল আদায় করছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন পশু বিক্রির হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাসিল বাণিজ্যের মহা উৎসব চলছে। কোন কোন বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান  স্কুল মাঠ  কিংবা যান চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ত সড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুরে এই পশুর হাট। সদর উপজেলাসহ কয়েকটি গরুর বাজার ঘুরে ও চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারীর গরুরহাটে হাসিল আদায়ে দেখা গেছে নানা অনিয়ম। মো. মোকলেছ নামে এক ব্যক্তি ৪৬ হাজার ৫০০ টাকায় একটি গরু কেনেন। তার কাছ থেকে হাসিল রাখা হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা। ৭০ হাজার টাকার গরুতে আড়াই হাজার  থেকে তিন হাজার টাকা, ১ লাখ টাকা এবং তদুর্ধ দামের গরুতে দিতে হয় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাসিল। কোন কোন ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়কেই হাসিল দিতে হয়। এদিকে ছাগল ভেড়ার বাজারে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় হাসিল করছে আয়োজকরা। অথচ সরকারি রেট রয়েছ এ ৫০ টাকা।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এদিকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে উপজেলা প্রশাসন জানেন। তাহলে হাসিলের বিষয়টি জানেন কে?

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:৪২ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৯ জুলাই ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com