লক্ষ্মীপুরে জনবলের ঘাটতিতে সদর হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত

বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

লক্ষ্মীপুরে জনবলের ঘাটতিতে সদর হাসপাতালে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত
ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গাফ্ফার বলেছেন, জনবলের ঘাটতির কারণে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে কাংখিত সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ১০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন দ্বিগুণের বেশী রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে, তাই ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও সকল রোগীকে পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয় না। তিনি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, বৃহস্পতিবার, সকাল ৮:৩০ টায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), লক্ষ্মীপুরের মধ্যে আয়োজিত অনলাইনভিত্তিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। “করোনাসংকটে স্বাস্থ্য সেবার সার্বিক চিত্র, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়: প্রেক্ষিত লক্ষ্মীপুর সদর”শীর্ষক এ মতবিনিময় সভায় করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ, বাস্তবায়ন এবং চ্যালেঞ্জ বিষয়ে আলোচনা হয়। সনাক, লক্ষ্মীপুরের সভাপতি প্রফেসর জেড এম ফারুকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ার হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন বলেন, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে, যা খুব চ্যালেঞ্জিং। তিনি আরো বলেন, একাধিকবার লোকবলের চাহিদা দেওয়া স্বত্বেও পর্যাপ্ত লোকবল না পাওয়ায় সেবা প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে। করোনার স্যাম্পল কালেকশনে একজন সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টির আলোকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য সিভিল সার্জনের মোবাইল নাম্বার দেয়া হয়েছে। সেখানে লোকজন অভিযোগ জানালে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিভিন্ন সীমবদ্ধতা থাকা স্বত্ত্বেও করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দৈনিক গড়ে ৮০০ থেকে ১০০০ রোগীর সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যা চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, কোন সেবাপ্রার্থী সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হলে এবং তৎক্ষণাৎ তাকে অবহিত করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিআইবি চট্টগ্রামের ক্লাস্টার কোঅর্ডিনেটর মোঃ জসিম উদ্দিন লক্ষ্মীপুরের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সনাক-টিআইবি’র কাজে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে সকল ভালো উদ্যোগ রয়েছে, নিশ্চয়ই লক্ষ্মীপুর তার গর্বিত অংশীদার। তিনি বলেন, সার্বিকভাবে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের আন্তরিকতার উপর অনেক কিছু নির্ভও করে। যদি আমরা আরেকটু আন্তরিক হই তাহলে নিশ্চয় কাংখিতমানের সেবা প্রদান করতে পারবো। তিনি লক্ষ্মীপুরের স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে বলে ।


 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৯ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com