ধারাবাহিক উপন্যাস

রূপসার রূপসী / ৭

সপ্তম পর্ব

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০

রূপসার রূপসী / ৭
অলংকরণঃ মামুন হোসাইন

সোমবার যথাসময়ে আমেরিকান দূতাবাসে এসে রাজু তার ভিসা পাসপোর্ট গ্রহণ করল। ভিসা অফিসার রাজুর হাতে পাসপোর্ট এবং বড় একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে বলল, এই প্যাকেটের মধ্যে আপনার ভিসা রয়েছে।কোনমতেই এই প্যাকেটটি খোলা যাবে না।একমাত্র আমেরিকায় ঢোকার পর সেখানকার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্যাকেটটি খুলবে।রাজু তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্যাকেটটি নিয়ে দূতাবাস থেকে বেরিয়ে পড়ল। খুশীতে ডগমগ রাজু। স্বপনের রাজ্য আমেরিকায় ঢোকার চাবিকাঠি তার হাতের মুঠোয়।
দূতাবাস পার হয়েই সে তার মোবাইল ফোন কানে তুলল। মোবাইলের অন্য প্রান্ত থেকে মিষ্টি গলায় ভেসে এলো;
হ্যালো, কে রাজু ?
হ্যাঁ আমি রাজু । তুমি কি করছ বেবী ?
না, কিছু না। বসে বসে তোমার কথা ভাবছিলাম। আজকে তো তোমার ভিসা পিক আপ করার কথা । কি করেছ ?
হ্যাঁ করেছি।
কনগ্রালেচুলেশান।
থ্যাংক য়্যু , রাজু জবাব দিল।
লায়লা মুখে কনগ্রালেচুলেশান বললেও মনে হলো কথাটি তার কলিজা ছিঁড়ে বেরিয়ে এসেছে। তবুও খুব কষ্ট করে আবার জিজ্ঞেস করল, তা কবে যাচ্ছ?
এখনও সিদ্ধান্ত নেইনি। কেবল মাত্র ভিসা পেলাম। বড় ভাইকে টেলিফোনে জানাব দেখি সে কি বলে ?
ও তাই, তুমি কি আজকেই খুলনা ফিরতে চাও ?
না কাল বিকালে  ফিরব। ঢাকায় কিছু কাজ আছে।তাছাড়া টিকিটের জন্য ট্রাভেলিং এজেন্সির সাথে কথা বলতে হবে।
তুমি কি সরাসরি খুলনা যাবে ? নাকি রাজশাহী আসবে।
কথায় একটু টান টান দিয়ে বলল, রাজশাহী তো যেতে হবে। বলতে বলতে রাজু রাস্তার ফুটপাথ দিয়ে হাঁটতেছিল এমন সময়    একটা সিএনজি পাশ দিয়ে যেতে যেতে ড্রাইভার রাজুকে জিজ্ঞেস করল, যাবেন নাকি স্যার,
রাজু মোবাইলে কথা বলতে বলতে ড্রাইভারের জবাব দিল, হ্যাঁ যাব।
সিএনজিটি সামনে গিয়ে দাঁড়াল রাজু সিএনজিতে উঠে পড়ল।
ড্রাইভার জিজ্ঞেস করল; কোথায় যাবেন স্যার ?
মৌচাক মার্কেট।
ভট ভট করে সিএনজি সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। লায়লা মোবাইলে কি বলছে রাজু কিছুই শুনতে পাচ্ছে না। তখন সে লায়লাকে বলল, বেবী সিএনজির শব্দে কিছুই শোনা যাচ্ছে না।তোমাকে একটু পরে কল দেই?
আচ্ছা । আল্লাহ হাফিজ। নিজের দিকে খেয়াল রেখো ।
রাজুও বলল, আল্লাহ হাফিজ।
মৌচাক মার্কেটের সামনেই আল আমিন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের তিন তলার একটি রুমে বোডিং সীট নিয়েছে রাজু। হোটেল রুমে এসে পোর্টফলিও রেখেই বেড়িয়ে পড়ল বাজারে।বাজার ঘুরে ঘুরে কয়েকটা ট্রাভেলিং এজেন্সিতে  টিকিট সংক্রান্ত খোঁজ খবর নিল। প্রায় প্রত্যেকেই একই ভাড়ার কথা জানাল। মৌচাক মার্কেট থেকে লায়লার জন্য দুই সেট শালওয়ার কামিজ,একটা হ্যান্ড ব্যাগ,দুই জোড়া ব্রেসিয়ার,একটি বিদেশী পারফিউম কিনে সে হোটেল রুমে ফিরল। হোটেল রুমে ফিরে লায়লার জন্য তার মনটা ছটফট করে উঠল। ছুটতে ইচ্ছা করল তার কাছে। সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে কল করে জিজ্ঞেস করল রাজশাহীগামী কোন ট্রেন রাতে আছে কিনা ? স্টেশন মাস্টার জানাল রাত এগারটায় পদ্মা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং সকাল আটটায় রাজশাহী পৌঁছবে।রাজু রাতের ট্রেনেই রাজশাহী যাবার সিদ্ধান্ত নিল ।
লায়লার আজকের প্রথম ক্লাশটা সকাল সাড়ে আটটায়। ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধুয়ে  বাথরুম সেরে কেবল রুমে এসেছে।   লায়লার সাড়া পেয়ে বিউটি জিজ্ঞেস করল, তোর কি আজ সকালে ক্লাশ।
সে হ্যাঁ জবাব দিয়ে নাস্তা করার উদ্দেশ্যে ডাইনিং রুমের দিকে পা বাড়িয়েছে ঠিক এমন সময় আয়া এসে বলল;
আপা আপনার একজন গেস্ট এসেছে। সে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করেছে।
আর্লি ইন দ্যা মর্নিং কে আসতে পারে ?  মনের মাঝে একটা প্রশ্ন দাঁনা বেঁধে উঠল । সে ডাইনিংএ না যেয়ে সরাসরি গেস্টরুমে চলে গেল।
নির্জন নিরিবিলি গেস্ট রুম। রুমের তিন দিকে তিনটি লেদার সোফা মাঝখানে একটি টি টেবিল আর তার ঠিক সোজাসুজি উপরে রয়েছে একটি সিলিং ফ্যান।টেবিলের উপরে দৈনিক, মাসিক সাপ্তাহিক বিভিন্ন পত্রিকা, ম্যাগাজিন ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।পাশে একটি আলমারি সেখানেও  দেশি বিদেশী বিভিন্ন লেখকের বই পুস্তক রয়েছে থরে থরে সাজানো।
এই গেস্টরুমে রাজু আজ নতুন আসেনি। রুমের প্রতিটি জানালা- দরজা , ইট-সুরকি তার পরিচিত। আজকে সেই সব চেনা বস্তুগুলো কেমন যেন অচেনা অচেনা লাগছে। সে টেবিল থেকে একটা ম্যাগাজিন তুলে নিয়ে তা উল্টায়ে পাল্টায়ে দেখছে। এমন সময় মৃদু পায়ে লায়লা সেখানে উপস্থিত হলো।
রুমে এক পা দিয়েই লায়লা থমকে দাঁড়ালো । সে নিজের চোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছিল না।
লায়লার মানষিক বিপর্যয় দেখে রাজু তাকে স্বাভাবিক করতে সোফা থেকে চট করে উঠেই তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, তুমি অমন করে কি ভাবছ বেবী আমি রাজু সত্যিই তোমার রাজু।
না, না। আমি তা ভাবছিনা। ভাবছি গতকাল তুমি যখন বললে, তোমার ভিসা হয়ে গেছে । তখনই তোমার ঐ চাঁদ মুখটা দেখতে আমি বড়ই অস্থির হয়ে পড়েছিলাম।মনে হচ্ছিল তুমি আমাকে দেখা না দিয়েই ঐ পথে আমেরিকা উড়ে যাবে।আর সে তুমি রাত পোহাতেই আমার চোখের সামনে, হাতের কাছে। এ কেমন করে সম্ভব হলো বলে লায়লার আঁখি ছল ছলিয়ে উঠল।
দূর পাগলি ! তোমার সাথে দেখা না করে আমি কি যেতে পারি ? বলেই রাজু দুবাহু দিয়ে লায়লাকে জড়িয়ে ধরে লায়লার মুখটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দুই অধরে দু টি চুমু এঁকে দিল।
বাহু বন্ধনে থেকেই লায়লা বলল, তাহলে কালকে বললে না কেন আজ তুমি রাজশাহী আসবে ?
আজকে যে আসা হবে তেমন কোন ধারণাই ছিল না।হোটেল রুমে যখন ফিরলাম তখন দেখি যে কাজের জন্য সময় চেয়েছিলাম তা সন্ধ্যার আগেই শেষ করে ফেলেছি ।তখনই  রেলওয়ে স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানলাম পদ্মা এক্সপ্রেস রাত এগারটায় ঢাকা থেকে ছেড়ে সকাল আটটায় রাজশাহী পৌঁছবে ।তাই আর অপেক্ষা না করে চলে এলাম।
তারপরে যখন সিদ্ধান্ত নিলে আসছো জানালে তো পারতে ।
তোমাকে সারপ্রাইস দিব বলে।
হলো তো তোমার সারপ্রাইস ? সারপ্রাইজদিতে গিয়ে যদি একটা ইনসিডেন্ট ঘটত ?
না, ঘটবে না।
হয়েছে ! তা হলে এবার  ছাড় কেউ দেখে ফেলবে, লায়লা বলল।
রাজু তাকে ছেড়ে দিয়ে দু জনই পাশাপাশি বসে পড়ল। রাজু তখন পোর্টফলিও খুলে হলুদ রঙের একটা খাম লায়লার হাতে তুলে দিয়ে বলল, এই নাও তোমার ভিসা।
দেখি দেখি বলে সে খামের মুখটা খুলতে গেলে রাজু বলল,
না, না। ওটা খোলা যাবে না।দেখনা খামের মুখে লেখা রয়েছে, ডু নট ওপেন । ইউএস ইমিগ্রশন অথরিটি ওনলি।
তাই নাকি ? লায়লা জিজ্ঞেস করল।তাহলে তুমি আমেরিকা যাচ্ছ ?
তাইতো মনে হচ্ছে। তবে আমি একা নয় সঙ্গে তোমাকেও নিয়ে যাবো।
লায়লা আবেগে জিজ্ঞেস করল আমাকে ! কি ভাবে ? জিজ্ঞেস করল লায়লা।
আমি যাওয়ার পর তোমার জন্য বউ হিসেবে  এ্যাপ্লাই করব। তখন তুমিও চলে যাবে। তারপর তুমি-আমি দুইজনে সুখের নীড় গড়ব ঐ সুদুর মার্কিন মুল্লুকে।
আমাদের তো এখনও বিয়েই হয়নি তুমি এ্যাপ্লাই করবে কিভাবে ?
আরে বিয়ে হবে না ? হবে তো ।
যখন হবে  তখন। তুমি কি নাস্তা করেছ? জিজ্ঞেস করল লায়লা।
না, করিনি। রাজু জবাব দিয়ে জিজ্ঞেস করল তোমার আজকের ক্লাশটা কি খুব ইমপর্টেন্ট লায়লা ?
কেন ? ও কথা জিজ্ঞেস করছ কেন ?
খুব ইমপর্টেন্ট না হলে চল আমরা বাইরে নাস্তা করি, রাজু বলল।
তোমার কি আমাকে নিয়ে নাস্তা খেতে খুব ইচ্ছে করছে ? লায়লা জিজ্ঞেস করল।
হ্যাঁ , চলো।
ঠিক আছে চলো , লায়লা সম্মতি দিল।
তোমার ক্লাশের কোন ক্ষতি হবে না তো? রাজু আবারও জিজ্ঞেস করল।
না, হবে  না। আমি আর মিনু একই সাবজেক্টে পড়ি। তার কাছ থেকে আমি জেনে নিব।
যাবে তা হলে , তবে একটু দাঁড়াও, রাজু বলল।
আবার দাঁড়াবো কেন? লায়লা জিজ্ঞেস করল।
আরে দাঁড়াও না সোহাগের  সুরে রাজু বলল । সে ব্যাগ থেকে একটা প্যাকেট বের করল এবং বলল, নাও এই প্যাকেটটা রুমে রেখে এসো।
কেন ঐ প্যাকেটে কি আছে ? নাকি ওটাতেও তোমার কওশন সাইন আছে , খোলা যাবে না।
না, তা নাই। রাজু জবাব দিল।
তবে দেখি বলে লায়লা প্যাকেটটি হাতে নিয়ে খুলে সেখান  থেকে শালওয়ার কামিজসহ অন্যান্য সামগ্রী বের করতে লাগল। বাহ্‌ ! শালওয়ার কামিজগুলো তো বেশ চমৎকার , পারফিউমটা খুলে একটু স্প্রে করে ঘ্রাণ নিয়ে বলল, দারুণ গন্ধ । লায়লা জিজ্ঞেস করল এগুলো কার ?
আমার নানির ।
তোমার নানির ? সে বুড়ি তো পটল তুলেছে কবে ?
তা হলে তার নাত বউর ।
নাতি তো এখনও বিয়েই করেনি।
তা হলে তোমার ।
মিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করল , আমার ? তুমি এসব আবার কিনতে গেল কেন ? ক দিন আগেই তো কিনলে কয়টা।
তোমার যখন পছন্দ হয়েছে আর কথা না বাড়িয়ে ঝট পট রুমে রেখে চট পট চলে আসো। আমার খুব ক্ষুদা পেয়েছে।
যাচ্ছি বাবা যাচ্ছি বলে গার্মেন্টস গুলো আবার প্যাকেটে ভরে তা নিয়ে লায়লা দ্রুত পায়ে রুমের দিকে গেল।
লায়লা রুমে ঢুকেই তার মোবাইল ফোনটায় ডায়াল করল। মোবাইলের ঐ প্রান্তে রয়েছে মিনতি।
হ্যালো মিনু ?
হ্যাঁ, লায়লা । সকাল সকাল কি ব্যাপার?
না, ব্যাপার কিছু না।শোন, আমি না আজ সকালের ক্লাশে যাচ্ছি না। তুই যাচ্ছিস তো ?
কেন ? তোর কি শরীর খারাপ।
না, শরীর খারাপ নয়, মন ।
মানে ?
জানিস ? রাজু আমেরিকা যাচ্ছে ।
মিনতি এবার গলা টেনে বলল,  এ্যা তু ক্যা বলরাহা ?  রাজু ? মানে দুলাভাই ?
ফাজলামো রাখ । যা বলছি শোন । ও না ডিভি পেয়েছে!  গতকাল সে ইউএস এ্যামবাসি থেকে ভিসা নিয়ে এসেছে । আমাদের গেস্ট রুমে বসে আছে।আমরা নাস্তা করতে বাইরে যাচ্ছি। তাই আমার ক্লাশে যাওয়া হবেনা। তুই নোটগুলো ভালোভাবে তুলিস। আমি পরে তোর কাছ থেকে নিয়ে নিব।
ডোন্ট ওয়ারি , বি কুল । আই উয়িল টেকিং কেয়ার ইউ।
থ্যাংক ইউ মিনু।
তোকে ওয়েলকাম।
স্বাভাবিক টাইমের চেয়ে একটু বেশী টাইম নিয়ে লায়লা বের হয়ে এলো ।হাতে একটা ক্যামেরা।
রাজু জিজ্ঞেস করল, কি ব্যাপার এত লেট করলে যে ?
আমি তো ক্লাশে যাচ্ছিনে তাই মিনতির সাথে মোবাইলে কথা বললাম। সে যেন নোট গুলো ভাল ভাবে তোলে  পরে আমি তার কাছ থেকে নিয়ে নিব।
ও আচ্ছা। চল, চল।
তোমার হাতে ওটা কি ?
ক্যামেরা।
আমরা যাচ্ছি নাস্তা করতে তুমি ছবি তুলবে কখন ?
চলার পথে কয়েকটা তুলে রাখব। তোমার প্রতিটি মূহূর্তই আমি এখন ধরে রাখতে চাই বলতে বলতে সে রুমের মধ্যে ঢুকল।
রাজুর ল্যাগেজ পোর্টফলিওর দিকে  তাকিয়ে লায়লা বলল, তোমার ওগুলো আমার রুমে রেখে গেলে তো পারতে ?
না, তা দরকার নেই। আমি ঐ পথে আমার হলে যাব।
ঠিক আছে চলো।
মন্নুজান হল থেকে বের হয়েই ওরা দু জন রাস্তার ফুটপাথ দিয়ে পাশাপাশি হাঁটতে লাগল। চলতি পথে এক রিকশাওয়ালা জিজ্ঞেস করল, আপা যাবেন নাকি কোথাও ?
রাজু লায়লার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল রিকশা নিবে নাকি ?
না, রিকশার লাগবে কেন ? আমরা তো সামনে ঐ রেস্তোরায় যাব লায়লা তর্জনী উঁচিয়ে বলল।
রাজু রিকশাওয়ালাকে বলল না, দরকার হবেনা।
রাজু ও লায়লা ধীর পায়ে ক্যাম্পাসের সামনে মতিহার রেস্তোরায় গিয়ে ঢুকলো।
রাজু কাউন্টারে জিজ্ঞেস করল, আপনাদের কোন কেবিন খালি আছে ?
ক্যাশিয়ার বেল টিপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে একজন বেয়ারা এসে উপস্থিত হলো। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন কোন কেবিন খালি আছে কিনা ? সে জবাব দিল আছে। সে রাজুর দিকে তাকিয়ে বলল, আসেন স্যার আসেন।রাজু ও লায়লা তাকে অনুসরণ করল। সে একটি কেবিনে ঢুকে চেয়ার টেবিল মুছে দিয়ে রাজু ও লায়লাকে কেবিনে ঢুকতে অনুরোধ জানাল। রাজু ও লায়লা ভিতরে গিয়ে বসলে বেয়ারা  জিজ্ঞেস করল, আপনাদের কি দিব?
রাজু লায়লার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল কি খাবে ?
আমার নিজস্ব কোন চয়েস নাই। তুমি যা খাবে তাই অর্ডার দাও।
ডিম পরোটা ? নাকি সন্দেশ পরোটা ? না ভাজিভুজি অন্য কিছু ?
নাস্তার টেবিলে আসলে যে মেয়ে থাকত সর্বদা চঞ্চল । কথার খৈ ফুটত তার মুখে । বয়-বেয়ারা ব্যস্ত হয়ে পড়ত তার অর্ডার সামলাতে আর আজ সে মেয়ে নিরব। বয়-বেয়ারাও তার এই নিরবতা লক্ষ্য করল কিন্তু মুখে কিছু বলল না। রাজু যে আর কদিন বাদে বিদেশ চলে যাচ্ছে এই বিরহ ব্যাথায় লায়লার ভীষণ বিষন্ন । তার বাক শক্তি যেন হারিয়ে গেছে। রাজুর দিকে তাকিয়ে লায়লা বলল, দাও তোমার যা চয়েস।
ঠিক আছে আমাদের জন্য দুটো করে পরোটা এবং দু টো এগ পোজ দাও। পরে চাও দিবে । রাজু বেয়ারাকে অর্ডার দিল।
ওকে বলে বেয়ারা চলে গেল।
পরোটার একটা টুকরা ছিঁড়ে ডিমের পোজ নিতে নিতে রাজু বলল, বাড়িতে গিয়ে তোমার আমার ব্যাপারে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মাকে বলতে হবে। জানিনা তিনি ব্যাপারটা কিভাবে নিবেন ? তিনি যে ভাবেই নিক না কেন তাকে বলতেই হবে।
তিনি যদি মেনে না নেন ? লায়লা বলল।
না, না। আমার মা খুব লক্ষী এবং আমাকে খুব আদর করেন। আশা করি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধ করবেন না।
তোমার মা ? জিজ্ঞেস করল রাজু।
আমার মাও যে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধ যাবেন তা মনে হয়না।তা ছাড়া তিনি তো তোমার ব্যাপারে অনেকটা জানেন।তিনি অমত থাকলে নিশ্চয় আমাকে এতদিনে বলতেন।
তা হলে আর চিন্তা কী ? মিয়া বিবি রাজী ,তো ক্যা করেগা কাজী । রাজু খুশীতে টেবিল চাপড়িয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল।
এই তুমি কি কর, লায়লা তাকে ধমক দিয়ে বলল। রেস্তোরা ভরা মানুষ । তারা শুনলে কি বলবে ?
কে কি বলল না শুনলো তাতে আমাদের কিছু যায় আসে ?  তোমার ঐ মলিন মুখ দেখতে আমার ভালো লাগে না।একটু হাসতো ।
কই কোথায় আমার মলিন মুখ দেখলে তুমি ? লায়লা একটু মুচকি হাসতে চেষ্টা করল।
আমি আমেরিকা যাচ্ছি তুমি খুশী হবে তা না হয়ে মুখ মলিন করে আছো।
আমি বেজার না খুশী তুমি কি এখন তার বিচার করবে ? না খাবে ? তোমার নাকি খুব ক্ষুদা পেয়েছে? আমার মন খারাপ নয়, হলো তো। এবার তবে খাও লায়লা বলল ।
খাওয়া শেষ হতে না হতেই বেয়ারা এসে বিলটা টেবিলের পরে রেখে গেল এবং জিজ্ঞেস করল আপনাদের আর কিছু লাগবে?
রাজু লায়লার দিকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করল আর কিছু নিবে নাকি ?
সে জবাব দিল  না।
পরক্ষণে রাজু বেয়ারার দিকে তাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করল আমাদের চা ?
হ্যাঁ ।  আপানদের চা দিচ্ছি সে উত্তর দিল।
দু জনে নাস্তা করে কাউন্টারে বিল পরিশোধ করে বেরিয়ে পড়ল।
রেস্তোরা থেকে বেরিয়ে আবার হাঁটতে হাঁটতে হলের দিকে ফিরল। পথিমধ্যে লায়লা বিভিন্ন ভঙ্গিতে রাজুর কয়েকটা ছবি তুললো। রাজুও তুলল লায়লার কয়েকটা।রাজু লায়লাকে মন্নুজান হল পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে নিজ  হলের দিকে হেঁটে গেল।

চলবে …।


শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ জুলাই ০৪, ২০২০

লেখকের অন্যান্য বই অনলাইনে কিনতে এখানে ক্লিক করুনঃ রকমারি ডট কম

পরবর্তি পর্বের জন্য চোখ রাখুন শনিবারের চিঠির সাহিত্য পাতায় ।

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com