ধারাবাহিক উপন্যাস

রূপসার রূপসী / ৬

ষষ্ঠ পর্ব

শনিবার, ২৭ জুন ২০২০

রূপসার রূপসী / ৬
অলংকরণঃ মামুন হোসাইন

বারিধারা । আমেরিকান দূতাবাস । তা শ’ তিনেক লোক বসে আছে হলরুমে।আমেরিকা গমনেচ্ছু ডিভি,  ভ্রমণ , বিজনেস বিভিন্ন ভিসার ইন্টারভিউ দিতে এসেছে এসব লোকজন।  ইন্টারভিউ দিয়ে কেউ হাসিমুখে বের হচ্ছে, কেউ মলিন মুখে বের হচ্ছে। যাদের ইন্টারভিউ ভাল হয়েছে তারা এবং ভিসা পাবার সম্ভাবনা রয়েছে তারাই শুধু হাসিমুখে বের হয়ে আসছে । বাকিরা মলিন মুখে বের হয়ে আসছে। রাজুও ভিসা পাবার প্রত্যাশায় আজ এখানে ইন্টারভিউ দিতে এসেছে।তার সিরিয়াল নাম্বার ৫১২।সিরিয়াল নম্বর অনুযায়ী লোকজনের ডাক পড়ছে।রাজুর বুকের মধ্যে ধড়ফড় ধড়ফড়  করছে কখন  তার ডাক পড়ে। দ্বিধাদন্ডে ভুগতে ভুগতে বিষন্ন মনে  এদিক সেদিক ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে সে। এমন  সময়  অল্প বয়স্ক এক মহিলা দু’টো বালক নিয়ে এসে হলরুমে ঢুকলো। একজন দুই বা আড়াই বছর অন্যজন চার বা পাঁচ বছর বয়স হবে তাদের। ছোট বালকটিকে সে স্টলারে বসিয়ে সেটি আস্তে আস্তে ঠেলছে আর অন্যটা তার পিছু পিছু হাঁটছে। তাকে কিছুটা বিব্রত লাগছে। হলরুমে দাঁড়িয়ে এদিক সেদিক তাঁকিয়ে নিজেকে একটু সামলিয়ে নিল। রাজু যেখানে বসে আছে তার ঠিক দু’পাশে দুটো সীট খালি দেখে মহিলা আস্তে আস্তে স্টলারটি ঠেলতে ঠেলতে  সেদিক এগিয়ে এসে রাজুর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ এখানে কি কেউ আছেন ভাই ?
না, কেউ নেই। আপনি বসতে  পারেন।
রাজু জবাব দিল।রাজু মাঝের চেয়ারটি ছেড়ে পাশেরটিতে বসে সরে বসল।তাতে মহিলা দুটো সীটই পাশাপাশি পেয়ে গেল। নিজে একটা চেয়ারে বসে বড় ছেলেটা বলল, তুমি এখানে বস বাবা ! ছোট ছেলেটা স্টলারেই রইল। ছেলেটাকে বসিয়ে মনে হলো মহিলা একটু স্বস্তি পেল। একা একা বলে উঠল ,বাপরে বাপ, কত রকম চেক। জুতা খোল, মোজা খোল, বোরকা খোল, ব্যাগের ভিতর কি আছে? এখানে আসার আগে ব্যাগটি অন্য কোথাও রেখেছিলে কিনা? ব্যাগ নিজে বহন করে নিয়ে এসেছ কিনা? হাজারটা প্রশ্ন। বাচ্চার দুধের বোতলটাও তিনবার চেক করল। যেন দূতাবাস বিধ্বংসি বোমা সব গুলো লুকানো রয়েছ আমার ব্যাগের মধ্যে।
এমন সময় বড় ছেলেটা রাজুর পাশ ঘেঁষে দাঁড়াল।রাজু তাকে আদর করে জিজ্ঞেস করল, কি নাম তোমার ?
আমার নাম সুমন আর ছোট্ট ভাইয়ার নাম সুজন।
ভারী সুন্দর তো !
আমার আব্বু আমাদের  নাম রেখেছেন।সে আমেরিকা থাকে। আমরাও আমেরিকা যাব।
তাই নাকি?
হ্যাঁ , আমার আম্মুও যাবে।
তোমার বয়স কত ?
সুমন তার মায়ের দিকে তাকাল তারপর  ডান হাতের  চারটি আঙুল উঁচিয়ে দেখালো এবং মুখেও বলল, ‘চার’।
রাজু তার সাথে কথোপকথনে খুশী হয়ে প্রশংসা করে বলল, ইউ আর এ স্মার্ট ফেলো।
একজন অপরিচিত লোকের কাছে ছেলের এমন প্রশংসা শুনে মহিলা সে দিকে মিষ্টি হাসি দিয়ে তাকাল।
এ সময়ে রাজু তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনারা আমেরিকা যাচ্ছেন বুঝি?
হ্যাঁ , আমার সাহেব ডালাস থাকেন । বছর তিনেক আগে আমাদের জন্য এ্যাপ্লিকেশান করেছিল। কতদিন পর আজকে ডাক পড়ল।
আপনাদের বাসা কি ঢাকায় ?
না, না। আমাদের বাড়ি কুমিল্লা। ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টের  উল্টো দিকে আমাদের বাসা।
আপনার ? মহিলা জিজ্ঞেস করল রাজুকে।
আমাদের খুলনা।
ও আচ্ছা। আমার এক চাচা খুলনার খালিশপুরে নিউজ প্রিন্ট মিলে চাকরি করতেন।সে মিল বন্দ হয়ে যাওয়ায় তার চাকরিও চলে গেছে। তিনি এখনও খালিশপুরে থাকেন। বাবার সাথে আমরা কয়েকবার খুলনা গিয়েছি। মংলা পোর্টে গিয়েছি।
তাই ?
হ্যাঁ, আপনাদের খুলনায় অনেক কিছু দর্শনীয় আছে। রূপসা নদী পার হয়ে আমরা বাগেরহাটে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলি (রাঃ) র মাযার, খাঞ্জালী দিঘি, ঘোড়া দিঘি অনেক ঐতিহাসিক নির্দশন দেখেছি।
ও আচ্ছা ! বাগেরহাট একটি ঐতিহাসিক শহর। হযরত খানজাহান আলি (রাঃ)র খলিফাতাবাদ পরগনার রাজধানী ছিল এই বাগেরহাট।। তার বিস্তৃতি ছিল নড়াইলের নলদি পর্যন্ত।
তাই নাকি ? আমরা সাতক্ষীরাও গিয়েছি সেখানে টেরাকোটা পঞ্চরত্ন মন্দির দেখে ভালই লেগেছে।
বাহ ! আপনি দেখি খুলানার অনেক জায়গাই ঘুরেছেন।
হ্যাঁ । আমি ভুগোলের ছাত্রী ছিলাম কিনা দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থান ঘুরে ঘুরে দেখতে আমার ভাল লাগে।আমার বাবাও তাই।
অধিকাংশ মেয়েরাই বাবার চারিত্রিক বৈশিষ্ট পেয়ে থাকে।
আমারও তাই মনে হয়।
জানেন ? আমরা সুন্দরবনেও গিয়েছি। অবশ্য তা বাবার সাথে নয়, আমার সাহেবের সাথে।আমাদের বিয়ের প্রথম বছর। ওয়ার্ল্ড ফেমাস ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবন।
আমরা কেবল  নব দম্পতি। আমাদের বিয়ের সময় চাচাজান ছিলেন অসুস্থ্য। তিনি বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। চাচি ও চাচাত ভাইবোনেরা গিয়েছিল। বিয়ের কিছুদিন পরেই চাচাজান জামাই অর্থাৎ   আমার সাহেবকে দেখার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমাদের খুলনা যাবার জন্য তিনি বাবাকে টেলিফোনে বলতে লাগলেন।খুলনা যাবার কথা শুনে আমার সাহেব সুন্দরবন ভ্রমনের আগ্রহ জানাল। আমি তা বাবাকে জানালাম। বাবা জানালেন চাচাজানকে। চাচাজান সুন্দরবন ভ্রমনের সব ব্যবস্থা করে আমাদের খবর দিলেন। আমি, আমার সাহেব , ছোট ভাই সাহেদ ও দেবর রিপন একদিন খুলনা গিয়ে পৌঁছলাম।
আমরা যেদিন খুলনা পৌঁছলাম তার পরের দিনি সুন্দরবন ভ্রমণে রওয়ানা দিলাম। ট্যুরিজম থেকে আগেই বলা হয়েছিল  আমাদের সাথে রাজশাহীর আরেকটা ফ্যামিলিও যাবে ।  যথারীতি  ঐ ফ্যামিলি ট্যুরিজমের লঞ্চে এসে পৌঁছেছে। আমরা চারজন আর রাজশাহীর ফ্যামিলিতে ছিল  চার জন মোট আট জনের এই ভ্রমণ দল নিয়ে  রূপসার খানজাহান আলি সেতুর নীচ থেকে আমাদের লঞ্চটি রাত ন’টায় সুন্দরবনের উদ্দ্যেশে যাত্রা করল।
রূপসা, শিবসা, পশুর , কচিখালি, নীল ডুমুর আরো নাম নাজানা কত নদ-নদী পেরিয়ে সকাল ন’টায় আমরা পৌঁছলাম সুমতি। মাঝে- মধ্যে দু’ একটা জেলে নৌকা ছাড়া কোথাও কোন জনমানব নেই। নেই মোবাইল নেটওয়ার্ক । চার পাশে থরে থরে সাজানো বনভূমি।
সুন্দরবনের যে মাটি্তে আমরা প্রথম পা রেখেছিলাম সম্ভবত সে স্থানের নাম ছিল আন্ধারমানিক। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ঐ দিন আমরা বনে ঢুকলাম না। লঞ্চ নোঙর করল তীর ছেড়ে খানিকটা দূরে। আমরা সবাই মিলে আরেকটা ট্রলারে চড়ে রেঞ্জ অফিসে গেলাম। সেখান থেকে আগ্নেয় অস্ত্রসহ একজন বনরক্ষী আমাদের সঙ্গী হলেন।
পরের দিন গেলাম কচিখালি। দেখা মিললো নানা রঙ আর বহু জাতের ছত্রাকের । সহজ কথায় যাকে বলে ব্যাঙের ছাতা। তার পর নামলাম ডিমের চরে। নামটা যেমন , চরটাও তেমন । চরটি উপর থেকে দেখতে  ঠিক ডিমের মতো । মনে হয় এজন্যই এর নাম হয়েছে ডিমের চর । সেখান থেকে আমরা গেলাম জামতলা বীচে। জামতলা বীচের কাশবনের  এলোমেলো পথধরে আমরা সবাই হাঁটছি উদ্দেশ্য কটকা ফরেস্ট জোন যাব। কটকায় নাকি বাঘের দেখা মেলে। এমন সময় গাইড সতর্ক করে দিল একা একা যেন কেউ নদীর তীরে না যাই।কারণটা জানলাম সেখানে রয়েছে চোরাবালি মরণ ফাঁদ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল পড়ুয়া সেখানকার চোরাবালির ফাঁদে আটকে পড়ে হারিয়ে গিয়েছিল। তাদের নামাঙ্কিত সাইনবোর্ড গুলোও দেখতে পেলাম। অবশেষে আর হাঁটা হলো না। সবাই ফিরে এসে ট্রলারে চেপে কটকায় পৌঁছালাম। সারি সারি কেওড়া গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। জোয়ারের পানি তখনও বন থেকে নামছে। হাটু সমান কাদা মাড়িয়ে আমরা হাঁটছি তো হাঁটছি। অনেক  খোঁজাখুঁজি করেও মামুর দেখা পেলাম না।
মামু ? আপনার মামা সুন্দরবনে চাকরি করেন বুঝি ? একটা উৎসুক জিজ্ঞাসা রাজুর ।
না, না। আমার মামা নয়।
তবে?
আপনি জানেন না? সুন্দরবনে শিকারী,নিকারী, বাওয়ালী, মৌয়াল প্রভৃতি পেশাজীবী মানুষেরা বনে জঙ্গলে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের নাম উচ্চারণ করে না। তাকে তারা মামু বলে সম্বোধন করে বলে মহিলা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল।
ও, তাই! আমি তো জানতাম না। বলল রাজু।
আপনি সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল দেখেছেন ?
আমার সুন্দরবনে যাওয়া হয়নি। কথায় আছে না,বাড়ির কাছের মানুষ হজ্ব পায় না।‘ আমার বেলায়ও হয়েছে তাই।
এমন সময় ছোট ছেলেটা স্টলারে মোড় দিয়ে উঠল। মহিলা বড় ছেলেটার উদ্দেশ্যে বলল, দেখতো সোনা ভাইয়ার ক্ষুদা পেয়েছ কিনা ? স্টলারের নিচে ফ্লাক্সে দুধ আছে সেখান তেকে একটু দাও।
সে চেয়ার ছেড়ে স্টলারের নিচে দুধ খুঁজতে লাগল।
বাড়ির কাছে থাকতে আপনি এমন একটা দর্শনীয় স্থান মিস করেছেন। সে কি ভাবা যায়। মহিলা রাজুর উদ্দ্যেশ্য বলল।
মহিলার কথায় রাজু যেন একটু লজ্জা পেল।
সে বলল, যাব, যাব বলে কয়েকবার প্লান করেছি আর যাওয়া হয়নি।
ব্যাপক প্রাণী বৈচিত্র্যে ভরপুর বলেশ্বর, ধানসাগর, রূপসা, পশুর, মেলাগং, হরিণঘাটা, দুধমুখি, কচিখালি কত শত নদ-নদীর পাশ ঘেঁসে সুন্দরি, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতাসহ আরও কত শত চেনা-অচেনা বৃক্ষরাজী লতা-গুল্মের অবস্থান সুন্দরবন।স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরণের পাখি, বানর,চিত্রা হরিণ, কুমির, সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল। সুন্দরবনে জালের মত ছড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ছোট ছোট দ্বীপ । যা না দেখলে মনে হয় জীবনের একটা অংশ বাকিই থেকে যেত। আমেরিকা যাবার পূর্বে পারলে একবার ঘুরে যাবেন বিশ্ববিখ্যাত ম্যানগ্রোভ বনভূমি আমাদের জাতীয় পার্ক সুন্দরবন। ইউনেস্কো কতৃর্ক বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে আমাদের সুন্দরবন।  এই যা, পাগলের মত আপনার সাথে শুধু গপ্পই  করে যাচ্ছি অথচ আপনার নামটা জানা হলো না।
আমার নাম রাজু। পুরো নাম আব্দুর রাজ্জাক।
ও আচ্ছা, আচ্ছা। আমি সাবিনা , মানে সাবিনা হাসান। বাচ্চাদের নাম তো জেনেছেন আগেই সুমন ও সুজন। আমার স্বামী ইকবাল হাসান তিনি ফ্লোরিডার ডালাসে আছেন।
আপনাদের ভিসা কি আজকে দিবে আপা ? জিজ্ঞেস করল রাজু ।
না, তাতো জানি না। দেখেন না এখানে ঢুকতে চেকিং এর নামে নাস্তনাবুদ করে ছাড়ছে। কত রকম চেক।
হ্যাঁ, আজকাল খুব কড়াকড়ি চেকিং করছে। দেখলেন না সেদিনও ফয়সাল শাহজাদ না কি নামের পাকিস্তানী এক সন্ত্রাসী নিউইয়র্কের টাইম স্কোয়ারে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে ধরা পড়ল। এই সব কারণেই এরা মুসলমানদের বিশ্বাস করেতে পারছে না।
অপরাধ করবে একজন আর সেজন্য যে তারা সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখবে তাতো ঠিক নয়। মহিলা আরো কিছু বলতে চেয়েছিল এমন সময় মাইক্রোফোনে ঘোষণা এলো নাম্বার ৫১২।
রাজু ঝট করে উঠে  দাঁড়িয়ে বলল, আপা আমার ডাক পড়েছে। পরে কথা হবে।
মহিলাও সঙ্গে সঙ্গে  বলে উঠলেন ঠিক আছে ভাই , গুড লাক ।
ইন্টারভিউ বোর্ডে বসে আছেন একজন বাঙালি। আরেকজন শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান। আমেরিকান ভদ্রলোক রাজুকে জিজ্ঞেস করছেন,হাউ আর য়্যু ? মিস্টার রাজু।
আই এ্যাম ফাইন। রাজু জবাব দিল।
এভার ইউ বিন ইন এ্যামেরিকা ?
নো আই এ্যাম নট।
ডু ইউ হ্যাব এ্যানি রিলেটিভ লিভস ইন এ্যামেরিকা ?
ইয়েস মাই ওলডার ব্রাদার লিভস ইন ইউএসএ। হি ইস এ্যান ইউনির্ভাসিটি টিসার ইন শিকাগো স্ট্রেট ইউনির্ভাসিটি।
রিয়েলী !
ইয়েস, রাজুও জবাব দিল।ইট ইজ নাইস !
রাজুর সাথে কথোপকথনে ভদ্রলোক বেশ খুশী হলেন। তখন তিনি হাস্যমুখে বললেন, ওয়েল মিস্টার রাজু য়্যু স্পিক গুড ইংলিশ।
রাজুও সঙ্গে সঙ্গে বলল, থ্যাংকস।
তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, আর য়্যু ম্যারেড ? মিস্টার রাজু।
নো, আই এ্যাম নট।
হ্যাভ ইউ এ্যানি কিডস ?
রাজু এবার থতমত খেয়ে গেল। এমন একটা অনভিপ্রেত প্রশ্ন আসতে  পারে সে ভাবতেও পারেনি। বিবাহপূর্ব যে সন্তানের জনক হওয়া যায় তা রাজুর জানা নেই।
বাঙালি ভদ্র লোকটা রাজুর অপ্রস্তত ভাবটা দেখে শ্বেতাঙ্গ ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে বললেন, হি ইজ নট রেডি ফর এ্যানসার ইওর কোশ্চেন, মিস্টার গ্রেরী। বিকামিং এ ফাদার অফ এ চাইল্ড উয়িথ আউট উয়িডলক ইস পসিবল অনলি ইন দ্যা ওয়েস্টার্ন কালচার। ইন এ কনজারভেটিভ কান্ট্রি লাইক বাংলাদেশ, নো ওয়ান ক্যান ইভেন ইমাজিন সাচ থিং।
মিস্টার গ্রেরী তখন তার দিকে তাকিয়ে বললেন, আই এ্যাম সরি মিস্টার আহমেদ। হি ডুয়িং ভেরী ওয়েল। টেক হিজ পাসপোর্ট এ্যান্ড গিভ হিম এ্যান এ্যাপার্টমেন্ট টু পিক আপ হিজ ভিসা, প্লিজ।
মিস্টার আহমেদ প্রত্যুত্তরে ওকে বলে রাজুকে বলল, আপনার পাসপোর্ট রেখে যান এবং আগামি সোমবার বেলা দু’টোয় এসে আপনার পাসপোর্ট এবং ভিসা নিয়ে যাবেন।
ইংরেজ ভদ্রলোকটি হাসিমুখে রাজুকে বলল, কনগ্রাচুলেশান মিস্টার রাজু।
রাজুও তার দিকে তাকিয়ে  থ্যাংক য়্যু ভেরী মাচ বলে হাসি মুখে ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে বেরিয়ে পড়ল ।

চলবে …।


শনিবারের চিঠি / আটলান্টা/ জুন ২৭, ২০২০

লেখকের অন্যান্য বই অনলাইনে কিনতে এখানে ক্লিক করুনঃ রকমারি ডট কম

পরবর্তি পর্বের জন্য চোখ রাখুন শনিবারের চিঠির সাহিত্য পাতায় ।  সপ্তম পর্ব প্রকাশ হবে  ০৪ জুলাই শনিবার।

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৭ জুন ২০২০

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com