রিপাবলিকান বিতর্ক আক্রমণের লক্ষ্য এবার রুবিও

সোমবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

রিপাবলিকান বিতর্ক  আক্রমণের লক্ষ্য এবার রুবিও

নিউ হ্যাম্পশায়ারঃ আগামিকাল ৯ ফেব্রুয়ারি, নিউ হ্যাম্পশায়ারে অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন নির্বাচন-প্রক্রিয়ার পরবর্তী প্রাক্-নির্বাচনী ভোট। তার আগে গত শনিবার অনুষ্ঠিত হলো রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের সর্বশেষ বিতর্ক।

এই বিতর্ক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশ ও নিউ জার্সির চলতি গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টির জন্য। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত আইওয়া ককাসে তাঁরা দুজনেই বেধড়ক মার খেয়ে নিজেদের তাবৎ ডিম জমা রেখেছেন নিউ হ্যাম্পশায়ারের ঝুড়িতে। জনমত এগিয়ে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সিনেটর টেড ক্রুজ তাঁদের অতি দক্ষিণপন্থী ও আক্রমণাত্মক অবস্থানের কারণে গোড়া থেকে রিপাবলিকান ‘এস্টাবলিশমেন্ট’-এর সমর্থন হারিয়েছেন। এই দুজনের বদলে ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতৃত্ব খুব ভরসা করেছিল জেব বুশের ওপর, কিন্তু বিস্তর অর্থ ব্যয়ের পরেও তিনি কিছুতেই পেরে উঠছেন না। সে কারণে ওয়াশিংটনের রিপাবলিকান নেতৃত্ব এখন নজর দিয়েছে তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী মার্কো রুবিওর ওপর।


রুবিওকে পর্যুদস্ত না করা গেলে সরে দাঁড়াতে হতে পারে বুশ ও ক্রিস্টিকে। সেই হিসাবে বিতর্কের গোড়া থেকেই আক্রান্ত হলেন রুবিও, আর সে আক্রমণে নেতৃত্ব দিলেন ক্রিস ক্রিস্টি। বয়সে তরুণ ও দেখতে বালকসুলভ রুবিওকে ক্রিস্টি এর আগে ‘বুদ্বুদে থাকা বালক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। গতকালের বিতর্কে ঠিক সে কথা না বললেও ক্রিস স্পষ্ট পরিহাসে জানালেন, এই নবীন সিনেটর এতটা অনভিজ্ঞ যে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কোনো উল্লেখযোগ্য অর্জনই নেই। রুবিওর দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও বললেন, ‘নিজের সিদ্ধান্তের জন্য দায়বদ্ধ হবে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত তুমি আজ পর্যন্ত একবারও নেওনি। প্রতিদিন সকালে উঠে তোমার মাথায় ঘোরে আজ তুমি কী ভাষণ দেবে, যা তোমার হয়ে কেউ লিখে রাখবে।’

কথাটা যে একদম মিথ্যা নয়, রুবিও নিজেই তার প্রমাণ দিলেন। ওবামার মতো রুবিও একজন অনভিজ্ঞ রাজনীতিক, তাঁর হাতে রাষ্ট্রের ভার দেওয়া যায় না, ক্রিস্টির এই তিরস্কারের জবাবে রুবিও সরোষে বললেন, ‘ওবামাকে যারা অনভিজ্ঞ ভাবে, তারা ভুল করছে। ওবামা ঠিক জানে সে কী চায়, সে চায় আমেরিকাকে বদলে দিতে। কোনো যতি ছাড়া পাল্টা শেল হানলেন ক্রিস্টি। ‘ওই তো, তুমি আবার শেখানো কথা বলছ।’ যেন হাইস্কুলের কোনো ছাত্রকে পড়া শেখাচ্ছেন, এভাবে কিঞ্চিৎ উপহাসের সুরে ক্রিস্টি বললেন, ‘ব্যাপারটা কি জানো মার্কো, তুমি যখন প্রেসিডেন্ট হবে, অন্যের বলে দেওয়া ৩০ সেকেন্ডের বুলি কপচে তুমি পার পাবে না।’
ব্যাপারটা রীতিমতো প্রহসনে পরিণত হয় যখন একমুহূর্ত পরেই রুবিও ‘ওবামা ঠিক জানে সে কী করছে,’ সে কথা অক্ষরে অক্ষরে পুনরাবৃত্তি করেন। দুই হাতে তুলে অতি উৎফুল্ল ক্রিস্টি বলে ওঠেন, ‘ওই তো, ওই তো, সেই শেখানো ২৫ সেকেন্ডের বুলি।’

আইওয়া ককাসে সর্বাধিক ভোট পেয়ে এক নম্বরে থাকা টেড ক্রুজ ও তাঁর নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিতর্কে হাড্ডাহাড্ডি লড়বেন, এমন আশা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা দুজনেই একধরনের ‘অলিখিত সন্ধি’ করে একে ওপরের ওপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকেন।

শনিবারের এই নরম-গরম বিতর্কের ফলে মঙ্গলবারের প্রাইমারির ফলাফলে যে বড় ধরনের হেরফের হবে, তা মনে হয় না। রুবিও হয়তো তার্কিক হিসেবে নিজের সুনাম কিঞ্চিৎ খুইয়েছেন, কিন্তু প্রতিযোগিতায় তাঁর তৃতীয় অবস্থানের পরিবর্তন না হওয়ার কথা। ৩৫ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ট্রাম্প, তাঁর চেয়ে ১০ শতাংশ কম সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থায় ক্রুজ। তাঁদের অবস্থাও অপরিবর্তিত। বুশ আইওতে পেয়েছিলেন মাত্র ২ শতাংশ ভোট। এই মুহূর্তে নিউ হ্যাম্পশায়ারে তাঁর সমর্থনের পরিমাণ ১০ শতাংশ। তিনি যদি রুবিওর চেয়ে খুব বেশি খারাপ করেন, তাহলে তাঁকে হয়তো সরে দাঁড়াতে হবে। বাকি দুই গভর্নর—ক্রিস ক্রিস্টি ও জন কেইশিচ—যাঁদের নির্বাচনী তহবিল প্রায় শূন্যের কোঠায়, মঙ্গলবারের পর টিকে থাকবেন, খুব আশাবাদী কেউও সে কথা আর বলেন না। একই কথা বেন কারসনের ব্যাপারে।

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা/ ০৮ ফে্ব্রুয়ারি ২০১৬

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com