রাজশাহীতে শিক্ষার্থীর সততাঃ ফিরিয়ে দিলেন লাখ টাকা

শুক্রবার, ০৭ এপ্রিল ২০১৭

রাজশাহীতে শিক্ষার্থীর সততাঃ ফিরিয়ে দিলেন লাখ টাকা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতাঃ  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সুমি আরা খাতুন। বুধবার সকালে গিয়েছিলেন রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজারে। উদ্দেশ্য, কিছু কেনাকাটা করবেন। সাহেব বাজারে পৌঁছে সমবায় মার্কেটে কেনাকাটা করে আরডিএ মার্কেটে উষা ফ্যাশনের দোকানে যান বান্ধবীর ছেলের জন্য পোষাক কিনতে। সুমির হাতে আগের কেনাকাটার কিছু ব্যাগ ছিল। সুমি ব্যাগ গুলো উষা ফ্যাশনে রাখেন। কেনাকাটা শেষে ব্যাগগুলো নিয়ে চলে যান বান্ধবীর বাড়িতে।

বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে ব্যাগ থেকে পোষাক বের করতে গিয়ে পোষাকের বদলে সুমি পেলেন কয়েক ব্যান্ডেল ১০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোট। সুমির চক্ষু চড়কগাছ। অনেকক্ষণ বুঝতে পারছিলেন না এই টাকা তাঁর আসলো কিভাবে। পরে ধাতস্থ হলে তিনি বুঝতে পারলেন হয়ত কেনাকাটার সময়ে ভুলে কোন দোকান থেকে এসেছে টাকা গুলো।


পরে ব্যাগের ওপর থাকা উষা ফ্যাশনের দোকানের ফোন নম্বরে ফোন দিয়ে জানতে পারেন সুমির ব্যাগগুলো তাকে ফেরত দেওয়ার সময় ভুলক্রমে এক লক্ষ টাকা ভর্তি একটি ব্যাগ দিয়েছিলেন দোকানের কর্মচারীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর বিভাগে এসে টাকা গুলো নিয়ে যেতে বলেন সুমি। পরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষকদের উপস্থিতিতে উষা ফ্যাশনের মালিকের হাতে টাকাগুলো হস্তান্তর করেন সুমি। এভাবেই রাজশাহী মহাগরীর উষা ফ্যাশনের মালিক আশরাফুল আলম সেতু ফেরত পেলেন তার হারিয়ে যাওয়া এক লাখ টাকা।

জানতে চাইলে সুমি আরা খাতুন বলেন, আমার বান্ধবির ছেলের পোষাক কেনার জন্য সাহেব বাজারের সমবায় মার্কেটে কিছু কেনাকাটা করার পর উষা ফ্যাশনের দোকানে যাই। পোষাক কেনা শেষে আগের কেনাকাটার ব্যাগগুলোর সঙ্গে ভুলক্রমে তাদের এক লক্ষ টাকা ভর্তি ব্যাগটি আমার কাছে চলে আসে। পরে বান্ধবির বাড়িতে গিয়ে তার ছেলের পোষাক বের করতে গিয়ে দেখি ব্যাগে এক লক্ষ টাকা। দোকানের ব্যাগে যে মোবাইল নম্বর ছিল সে নাম্বারে ফোন করে তাদের গণিত বিভাগের অফিসে আসতে বলি। শিক্ষকদের উপস্থিতিতে প্রমাণ সাপেক্ষে টাকার প্রকৃত মালিককে ফেরত দিয়েছি।

উষা ফ্যাশনের মালিক আশরাফুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দিতে চাইলেও সুমি তা নিতে রাজি হননি। সুমি বলেন, টাকা গুলো আরেক জনের কষ্টের টাকা। সে টাকা আমি কেন নেব? টাকা গুলো ভুলে আমার কাছে চলে এসেছিল। এটা আমার কর্তব্য সেটাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেয়া। আমি তাই করেছি।

খোয়া যাওয়া অর্থ ফেরত পেয়ে ব্যবসায়ি আশরাফুল আলম সেতু যারপর নাই খুশি। তিনি বলেন, টাকা হারিয়ে যাবার পর চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। ভাবিনি যে টাকাগুলো ফেরত পাবো। সততার পরিচয় দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ায় আমি সুমির প্রতি সন্তুষ্ট এবং চিরকৃতজ্ঞ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সততা যেন দুর্লভ এক মানবিক গুণ। অনিয়ম-দুর্নীতি যেখানে স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে লাখ টাকা কুড়িয়ে পেয়ে মালিককে খুঁজে বের করে কেউ ফেরত দিবেন এটা শুধুই যেন কল্পনা। কিন্তু সেই কল্পনাকে বাস্তবরূপ দিয়ে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন সুমি। আমি তাঁর সততায় দারুণ খুশি হয়েছি। সমাজের প্রত্যেকেরই উচিৎ তাঁর মত সততা দেখানো।

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা / এপ্রিল ০৭, ২০১৭

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৫:২০ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৭ এপ্রিল ২০১৭

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com