রাজনীতির অন্তরালে!

মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৫

রাজনীতির অন্তরালে!

রাজনীতির অন্তরালে!
মাহমুদুল খান আপেল

 


Opinoinপ্রথমেই বলে রাখা ভালো, যে উচ্চ শ্রেনীর ভদ্রলোকের দল মনে করেন যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসী ছিলো একজন রাজাকারের ফাঁসী, বা যুদ্ধাপরাধের শাস্তি হিসাবে এই ফাঁসী তারা কোন বোকার স্বর্গে বসবাস করেন সেটা কারে জানা আছে বলে মনে হয়না। কাজেই এই ফাঁসীর খুসিতে যারা মিষ্টি খায় তাদের জন্য সেই কথাটিই প্রযোজ্য, স্কুল কলেজের শিক্ষিত আর ঘেলুওয়া শিক্ষিত এক না। ভদ্র ভাষায় এর চেয়ে বেশী কিছু বলা যায় না। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর assassination এর পিছনে সম্পুর্ণ ভিন্ন কাহিনী আছে, সেটা দেশের সচেতন মহল সবাই জানে। সরকারের ভুমিকা এখানে পাপেটের মতো। সরকারের লাভ এটুকুই যে তারা যেকোন ছলে ক্ষমতায় থাকতে পাচ্ছে, সেই সাথে নিজেদের শত্রু গুলিকে নিধন করতে পাচ্ছে। তবে আসল কথা হলো চৌধুরী কে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার মাধ্যমে একটি অদৃশ্য শক্তি বুঝিয়ে দিলো যে বর্তমানে তাদের প্রভাব কতটা বিস্তৃত, তারা কি করতে পারে। এর মাধ্যমে অন্য একটি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের কবর দিয়ে জানান দেয়া হলো যে তাদের আর কোন প্রতিক্ষের অস্তিত্ব বর্তমানে বাংলাদেশে নেই।

১. ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে এদেশটি ছিলো দুটি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের অবাধ বিচরন ক্ষেত্র। দুই পক্ষের মধ্যে সব সময় একটা ভারসাম্য অবস্থা বিরাজ করতো, কিন্তু সময়ের আবর্তে দেশের ভিতরে শক্ত কোন সেল্টার না পাওয়ায় এবং বহির বিশ্বে তাদের নিজেদের প্রতিপত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে। এই দুর্বল পক্ষটির সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, তাই তাকে হত্যার মাধ্যমে তাদের প্রতিপক্ষ বুঝিয়ে দিলো যে এই মুহুর্তে তাদের বিরুদ্ধে গেলে তার পরিনাম কি হতে পারে।

২. দল হিসাবে বিএনপি কখনোই কোন নেটওয়ার্কের খুব বেশী কাছে ছিলোনা, বা কোন পক্ষেরই প্রিয় পাত্র ছিলো না। এদের একমাত্র অবলম্বন হলো জনগনের সতস্ফুর্ত সমর্থন, তাই কখনও প্রয়োজনও হয়নি তাদের এইসব নেটওয়ার্কের কাছাকাছি যাবার। তবে বর্তমানে একটি নেটওয়ার্কের প্রভাব এতো প্রবল যে তাদের বাহিরে গিয়ে এদেশে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। সেই বাস্তবতা থেকেই বিএনপিও তাদের আনুকুল্য পাবার আশায় না চাইলেও নানা পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে নিজেদের ইচ্ছার বিরূদ্ধে, তারই সর্বশেষ উদাহরন চৌধুরীর ফাঁসীতে নিরব থাকা। এর মাধ্যমে তারা বুঝাতে চাচ্ছে যে তারা এখন অন্যসব বলয়ের বাহিরে। অবশ্য তেমন কিছু করারও ছিলো না, তবে কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা অন্তত পালন করত হয়তো। এইসব পদক্ষেপে আপত দৃষ্টিতে প্রবল প্রতাবশালী নেটওয়ার্কটি কিছুটা নমনিয়তা দেখালেও, এর পেছনে এক ভয়াবহ খেলা চলছে। হঠাৎ যদি দেখা যায় যে কোন বিশেষ কারন ছাড়াই সত্যিকারের জনসম্পৃক্ত একটি নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, সেটাও আবার অনেকটা বিএনপি যেভাবে চায়, ঠিক সেই ভাবে, তবে সেটা হবে হয়তো অন্তরালের নেগোসিয়েসন। এখানে বিএনপির জন্য একটি ভয়াবহ শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। বিএনপিকে হয়তো তারা কিছুদিনের জন্য ক্ষমতায় বসাবে, তবে তাদের হাতের পুতুল হিসাবে। তারপর তাদেরকে দিয়ে কিছু জনধিকৃত কাজ করিয়ে জনগনকে তাদের বিরূদ্ধে এমন ভাবে ক্ষেপিয়ে তোলা হবে যে তাদের একমাত্র অবলম্বন জনগনের সতস্ফুর্ত সমর্থন চিরতরে হারিয়ে তারা আজকের আওয়ামী লীগের মত জনধিকৃত দলে পরিনত হবে, ঠিক যেমনটি করা হয়েছে সেনাবাহিনীর ক্ষত্রে। বিএনপি একসময় সেনাবাহিনীতে ছিলো বিপুল জনপ্রিয় দল, কিন্তু সেই বিএনপিকে দিয়েই এমন কিছু কাজ করানো হলো, যার কারনে সেই সেনাবাহিনীই এখন বিএনপির কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য শীর্ষ পর্যায়ের কারো কারো ব্যাক্তিগত দম্ভ এর জন্য প্রবলভাবে দায়ী, প্রতিপক্ষ শুধু এটিকে কাজে লাগিয়েছে মাত্র।

৩.তাহলে সমাধান কি? বর্তমান এই দোর্দণ্ড প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক থেকে বের হয়ে আসার একমাত্র উপায় হলো, একটি সফল, সতস্ফুর্ত জনবিস্ফোরণ। সত্যিকারের অভুত্থান হলে কোন গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক কাজ করে না, সব শক্তি তখন অসহায় হয়ে ধরা দেয়। জাতি হিসাবে বাংলাদেশিদের ইতিহাস বিবেচনা করলে একথা নির্দ্ধিধায় বলা যায় যে, একটি গনঅভুত্থান অত্যাসন্ন্য। বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্যেও বিএনপি সেকাজটি করতে পাচ্ছে না শুধু দলের ভেতর লুকিয়ে থাকা মীরজাফরদের কারনে। তবে ভয়ের কথা হলো, অবসম্ভাবী এই জনবিস্ফোরণ যদি অন্য কারো নেত্রীত্বে হয়, সোজা কথা যদি বিএনপির নেত্রীত্বে না হয় তবে, সেটা বিএনপির জন্য শুভফল বয়ে নাও আনতে পারে।

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নহে ।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ২৪ নভেম্বর ২০১৫

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১১:০২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com