রাজনীতিকদের সম্মানে খালেদার ইফতার

সোমবার, ২২ জুন ২০১৫

রাজনীতিকদের সম্মানে খালেদার ইফতার

 

খালিদ হোসেন,ঢাকাঃ
রোজার তৃতীয় দিনে রাজনীতিকরদের সম্মানে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ইফতারের আয়োজন করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রথম দিন ইফতার করেন এতিম ও আলেম ওলামাদের সঙ্গে।


বিগত দিনের বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচিতে দলের যেসব শীর্ষ নেতাদের দেখা যায়নি। ইফতার পার্টিতে তাদের উপস্থিতি লক্ষনীয়।

আজ রাজনীতিবীদের সম্মানে হলেও সব দলের নেতাদের এ আয়োজনে দেখা যায়নি। ২০দলীয় জোট এবং বিএনপির মিত্র বলে পরিচিত দলগুলোর নেতারাই মূলত ছিলেন খালেদা জিয়ার ইফতার পার্টিতে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বা তার জোটের কোনো পর্যায়ের নেতা আসেন নি। বাম রাজনৈতিক দলগুলোরও কাউকে দেখা যায়নি। ২০দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থও ছিলেন না ইফতার পার্টিতে। অন্যদের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির কাজী জাফর আহমদ, এলডিপি‘র কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম, খেলাফত মজলিশের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, এনপিপির ফরহাদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগে এএইচএম কামরুজ্জামান খান, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ইসলামিক পার্টির ছাইদুল হাসান ইকবাল, জমিয়তে উলামা ইসলামের মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন প্রকাশ, ডিএলর সাইফুদ্দিন মনি ও সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, সারোয়ারি রহমান, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান মঞ্চে ছিলেন।

দীর্ঘদিন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের নেতাদের এক সঙ্গে দেখা যায়নি। আজ বেগম জিয়া তার দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক মঞ্চে বসে ইফতার করেছেন। খালেদা জিয়ার পাশেই বসেছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব বর্তমানে বিকল্প ধারার সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

তবে জামায়াত নেতা মঞ্চে থাকায় জেএসডি সভাপতি আসম আবদুর রব ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী অতিথি টেবিলে বসে ইফতার করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে ইফতার করেছেন।

এছাড়া বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, মাহমুদুল হাসান, আবদুল মান্নান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, মীর নাসির, জয়নুল আবেদীন, সুজাউদ্দিন, আহমেদ আজম খান, মুশফিকুর রহমান, রুহুল আলম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, টিআইএম ফজলে রাব্বী, আহসান হাবিব লিংকন, জামায়াতের রিদওয়ান উল্লাহ শাহিদী, জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদী, বিকল্পধারা‘র মাহী বি চৌধুরী, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি আবদুর রব ইউসুফী, খুলনার মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, রাজশাহীর সদ্য বরাখাস্তকৃত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা রফিক শিকদার, শাম্মী আক্তার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ নেতারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানস্থলে এসে খালেদা জিয়া বিভিন্ন টেবিল ঘুরে ঘুরে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ইফতার শুরুর আগে দোয়া মাহফিল ও মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতার করেন তিনি।

দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজধানী দেড় সহাস্রাধিক নেতাবৃন্দ এই ইফতারে অংশ নেন।’

সম্প্রতি ২০দল ভাঙ্গার যে কথা শোনা যাচ্ছিলো শেষ পর্যন্ত তা হয়তো গুঞ্জন হয়েই থাকবে। জানা গেছে, ২০দলীয় জোটের সীমাদ্ধতা কাটাতে খালেদা জিয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। শরিক দলগুলোর ইফতার কর্মসূচিতে তিনি নিজে থাকবেন বলে জানা গেছে।

ইফতার পার্টিতে এসে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য কয়েকজন সংবাদকর্মীর সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘জোট ভাঙার বিষয়টি একেবারেই গুজব। এখন পর্যন্ত জোটের মধ্যে এমন কিছুই হয় নাই যে জোট ভেঙে দিতে হবে। আমরা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য কোনো নেতার কথাকে গুরুত্ব দেই না। খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। আমাদের ওপর তার বিশ্বাস আছে। আমরা তার নেতৃত্বের ওপর বিশ্বাস রাখি।’

বিএনপি নেতাদের টেলিফোন আলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা কে কি বলল, তা আমাদের দেখার বিষয় না। তারা যা বলছেন তা তাদের একেবারে ব্যক্তিগত মতামত।’

জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আজকের ইফতার মাহফিলই দৃশ্যমান যে জোট ভাঙবে কি ভাঙবে না। জোট যদি ভাঙতো তাহলে ইফতারে আসার কোনো যুক্তি ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘জোট ভাঙ্গার বিষয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য একান্ত তাদের ব্যক্তিগত বিষয়।’

মাওলানা হালিম জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলেন, ‘এখন একটি প্রতিকুল পরিবেশ বিরাজ করছে জামায়াতের জন্য। এই অবস্থায়ও জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম বন্ধ নাই। সব ধরনের কার্যক্রম চলছে।’

শনিবারের চিঠি /আটলান্টা / ২২ জুন ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২২ জুন ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com