রাকিব হত্যায় ফুসলে উঠেছে খুলনাবাসীঃ অভিযুক্তের ফাঁসী দাবী

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০১৫

রাকিব হত্যায় ফুসলে উঠেছে খুলনাবাসীঃ অভিযুক্তের ফাঁসী দাবী

 

Rakibখুলনা: ‘মা আমারে বাঁচাও। মামা আমারে অনেক নির্যাতন করছে। প্যাটের ভিতরে বাতাস ঢুকায়েছে। আমি বাঁচবো না মা। কিন্তু বাবারে আমি বাঁচাতে পারলাম না। কেনো বাঁচাতে পারলাম না?’


ছেলেকে হারানোর বেদনায় অনেকটা সংজ্ঞাহীন অবস্থায় কথাগুলো বলছিলেন মোটর সাইকেল গ্যারেজে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে পেটে হাওয়া ঢুকিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা শিশু রাকিবের মা লাকি বেগম।

আর তার বাবা মো. নূর আলম কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন, ‘আমি আর কোনো দিনই আমার কলিজার টুকরো রাকিবকে ফিরে পাবনা, কিন্তু যারা তাকে মেরেছে তাদের যেন ফাঁসি হয়।’

বুধবার দুপুরে খুলনা নগরীর প্রাণকেন্দ্র পিকসার প্যালেস মোড় থেকে শহীদ হাদিস পার্ক পর্যন্ত দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তারা এ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন।

শিশু রাকিব হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বিভিন্ন মানবাধিকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিশু সংগঠন। এ সময় হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে শ্লোগানে শ্লোগানে কেঁপে উঠে গোটা নগরী।

এতে খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কৃষকলীগ নেতা শ্যামল সিংহ রায়, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, মানবাধিকার সংস্থা অধিকার’র প্রতিনিধি মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, এসএম সোহরাব হোসেন, অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সাহা এবং নিহত রাকিবের ছোট বোন পারভীন আক্তার রিমিসহ খুলনার বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।

এদিকে, শিশু রাকিব হত্যা মামলার তদন্ত মনিটরিং করতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে- খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব হাকিমকে। অপর দু’ সদস্য হলেন- অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) শেখ মো. মনিরুজ্জামান মিঠু এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. হুমায়ূন কবীর।

ইতোমধ্যে কমিটি তাদের তদন্ত মনিটরিং করতে মাঠে নেমেছে। কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কমিটির সদস্যরা নগরীর টুটপাড়ায় কবরস্থান সংলগ্ন খানজাহান আলী সড়কের শরীফ মোটরস নামের সেই গ্যারেজে যান। যেখানে শিশু রাকিবের পায়ুপথে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে পেটে হাওয়া ঢুকিয়ে নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হয়েছিল।

রাকিবের মায়ের আজাহারী

রাকিবের মায়ের আজাহারী

এরপরে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের নিহত রাকিবের বাসায় যান এবং তার বাবা নুর আলম হাওলাদার, মা লাকি বেগমসহ অন্যদের সঙ্গেও কথা বলেন।

সবশেষে টিমের সদস্যরা ঘটনার আওতাধীন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী মোশতাক আহমেদসহ অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

উল্লেখ্য, ৩ আগস্ট সোমবার বিকেলে খুলনা নগরীর টুটপাড়া কবরখানা সংলগ্ন শরীফের গ্যারেজের সামনে দিয়ে রঙ কিনতে যাওয়ার সময় রাকিবকে ডেকে নেয় গ্যারেজ মালিক শরীফ। এরপরে সহযোগী মিন্টু মিয়াসহ ৪/৫ জন মিলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে গ্যারেজের ভেতরে নিয়ে যায় তারা। একপর্যায়ে রাকিবের পায়ুপথে কমপ্রেসার মেশিন বসিয়ে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে উল্লাস করতে থাকে। এসময় মৃত্যুর যন্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকে সে।

এতে রাকিব মারাত্মক অসুস্থ হলে মুমূর্ষু অবস্থায় দ্রুত তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) নেয় স্থানীয় লোকজন। সেখানে থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সোমবার ১২টায় তার মৃত্যু হয়। রাকিবের আগে নির্যাতনকারী শরীফের মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করতো। কিন্তু সে সেখান থেকে কাজ ছেড়ে দিয়ে পিটিআই মোড়স্থ নাসিরের গ্যারেজে কাজ নেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শরীফ ও তার ভাই মিন্টু পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে শায়েস্তা করতে এ পথ বেছে নেয়।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ০৫ আগষ্ট / ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ৬:১১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com