যুবলীগের অত্যাচারে ইজারাদার বাড়ি ছাড়া

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০১৫

যুবলীগের অত্যাচারে ইজারাদার বাড়ি ছাড়া

 

ঢাকা: যুবলীগ ক্যাডারদের অত্যাচারে কেরানীগঞ্জে কোটি কোটি টাকার বাড়ি ও সম্পদ ছেড়ে ঢাকায় আশ্রয় নিয়েছেন সদরঘাটের ইজারাদার ও জাহাজ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। তার বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। তার একটি মার্কেট দখলেরও পাঁয়তারা করছে ক্যাডার বাহিনী। অবৈধ বাণিজ্যের উৎস ঢাকা সদরঘাটের অবৈধ দখল হাতছাড়া হওয়ায় আলমগীরের ওপর এই অত্যাচারের খড়গ। কিন্তু কোনো প্রতিকারও মিলছে না। উল্টো যুবলীগ বাহিনীকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় প্রশাসন।


সরেজমিন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আলমগীর হোসেনের অভিযোগ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঢাকা নদী বন্দরের অধীন সদরঘাটের ওয়াইজঘাট, সিমসনঘাট, কার্গোগেট (টার্মিনালের ৩ নং গ্যাংওয়ে) ও পার্কিং ইয়ার্ড নতুন অর্থবছরের (২০১৫-১৬) ইজারার জন্য গত ৬ মে দরপত্র আহ্বান করলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। ২০ মে দরপত্র খোলা হলে ঢাকা নদী বন্দর ঘাট শ্রমিক বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি ও সদরঘাটের সাবেক ইজারাদার আলমগীর হোসেন সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচিত হন। তিনি দর দেন ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ঘাট পরিচালনার জন্য বরাদ্দপত্রও দেয়া হয় তাকে। তিনি গত ১ জুলাই থেকে ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে ঘাটের দখল হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় প্রায় এক বছর সদরঘাট অবৈধভাবে পরিচালনাকারী কেরানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা শিপু আহমেদ-ইকবাল হোসেন বাহিনী।

আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, দরপত্র আহ্বানের দিন শিপু-ইকবাল বাহিনী তার কেরানীগঞ্জের আগানগরে মার্কেট দখল এবং তিনটি বাড়িতে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ৬১ শতাংশ জমির মাটি কেটে পুকুর বানিয়ে ফেলছে তারা। তিনি বাড়ি যেতে পারছেন না। তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকা শহরে বসবাস করছেন। এরইমধ্যে ঘাট-পয়েন্ট ইজারার বরাদ্দপত্র দেয়া হলে আলমগীর হোসেন গত ১ জুলাই থেকে ঘাট পরিচালনা শুরু করেন। এরইমধ্যে সদরঘাটের তেলঘাটের টোল ঘর ভেঙ্গে ফেলে দিয়েছে শিপু বাহিনী। এখন শিপু-ইকবাল বাহিনীর লোকজন তাকে হুমকি দিচ্ছে। এসব বিষয়ে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানান।

এদিকে একই জেরে ইজারাদার আলমগীরের সহযোগী সদরঘাটের সাবেক ইজারাদার দেলোয়ার হোসেনকে গত ১০ জুন শিপুর নেতৃত্বে ১০-১২জন যুবক ফকিরাপুলের হোটেল মেলোডি থেকে অপহরণ করে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রকল্পের নির্জন জঙ্গলে নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। অপহরণের দৃশ্য হোটেলের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ এ ভিডিও ফুটেজ জব্দ করে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ১১ ঘণ্টা পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় থানা পুলিশ কোনো মামলাও নেয়নি।

সূত্রমতে, সদরঘাটের ওয়াইজঘাট, সিমসনঘাট, কার্গোগেট ও পার্কিং ইয়ার্ডের শুধু বাণিজ্যিক মালামাল ওঠানামার লেবার হ্যান্ডেলিং এবং পার্কিং ইয়ার্ডের চার্জ আদায় পয়েন্ট (যাত্রী সাধারণের লাগেজ ও ব্যাগেজ ব্যতিত) গত চার বছর রাজনৈতিক বিবেচনায় (মন্ত্রী-এমপিদের সুপারিশে) ইজারা দেয়া হয়েছিল। ইজারা পেয়ে আলমগীর হোসেন ২০১০-১১ অর্থ বছর থেকে ২০১৩-১৪ অর্থ বছর ইজারা পেয়ে ঘাটগুলো পরিচালনা করেছেন। কিন্তু গত বছরে নির্ধারিত সময়ে জুনে (২০১৪-১৫) ইজারা না দিয়ে খাস কালেকশনের (সংস্থার নিজেদের লোক দিয়ে টোল আদায়) নামে বিআইডব্লিউটিএ পাঁচ মাস ঘাটগুলো পরিচালনার দায়িত্ব দেয় কেরানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা শিপু আহমেদ ও চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনকে। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে টোল আদায়, যাত্রী হয়রানি, লুটপাট এবং বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ায় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ওই ঘাট-পয়েন্টগুলো ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই প্রেক্ষিতে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ইজারা দেয়ার জন্য নভেম্বরে দরপত্র আহ্বান করে বিআইডব্লিউটিএ। ২৬ নভেম্বর দরপত্র খোলার দিন ধার্য থাকলেও অজ্ঞাত কারণে দরপত্র স্থগিত করে সংস্থাটি। পরবর্তীতে আবারো খাস কালেকশনের আদেশ জারি করে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু ঘাটগুলোর খাস কালেকশন না করে সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে ঘাটগুলো অবৈধভাবে আবারো শিপু আহমেদ ও ইকবাল চেয়ারম্যানকে পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। এতে বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।

অভিযোগ রয়েছে, শিপু বাহিনীর ঘাট পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকায় যাত্রীদের চরম হয়রানি করে অস্বাভাবিক টোল আদায় করে। এমনকি লুটপাট করা হয় টোলের টাকা। ঘাটগুলো থেকে কোটি কোটি টাকা আয় হলেও নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা সরকারি ফান্ডে জমা পড়েনি।

সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে ২ কোটি ১৩ লাখ টাকার কিছু বেশি টাকা বিআইডব্লিউটিএ’র ফান্ডে জমা দেয়া হয়। অথচ এর তিন থেকে চারগুন টাকা আয় হয় ঘাট থেকে। এ বছর ঘাটের ইজারা দেয়া হয় সাড়ে ৮ কোটি টাকায়। এর আগে ছিল সাড়ে ৪ কোটি টাকা। অথচ খাস কালেকশনের নামে ঘাটগুলো থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শিপু আহমেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘সদরঘাটের লেবার হ্যান্ডেলিংয়ের কার্যক্রমে আমি কখনো ছিলাম না। তিনি শুধুমাত্র এবার টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছেন।’

প্রতিপক্ষকে হুমকির বিষয় তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘আলমগীর নামে ওই ব্যক্তিকে তিনি চিনেন না। সুতরাং হুমকির বিষয়টি মিথ্যা।’

দেলোয়ার নামে একজনকে অপহরণের অভিযোগের বিষয় তিনি বলেন, ‘দেলোয়ারের সঙ্গে টাকা দেনদেন নিয়ে ঝামেলা ছিল। তাকে ডেকে আনা হয়েছিল এবং মীমাংসাও হয়েছে।’

এ বিষয়ে ঢাকা নদী বন্দরের উপ-পরিচালক গুলজার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘ঘাটের টোল আদায় নিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে এমন অভিযোগ রয়েছে। এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।’ সুত্রঃ বাংলা মেইল ২৪

শনিবারের চিঠি / আটলান্টা / ৭ জুলাই ২০১৫

 

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com