যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যাল নিয়ে বাড়ছে মার্কিন সমালোচনা

রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৫

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যাল নিয়ে বাড়ছে মার্কিন সমালোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রভাবশালী দুই বিরোধী নেতার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যাল নিয়ে সমালোচনা আরো তীক্ষ্ণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পররাষ্ট্রনীতি দেখভাল করে থাকেন এমন কিছু মার্কিন আইনপ্রণেতা ট্রাইবুন্যালকে ‘অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ’ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যম বলে আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বার্তায় তুলনামূলক কম তীক্ষ্ণ ছিল।


শুক্রবার মন্ত্রণালয় বলেছে, বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরন করার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত নয়। ১৯৭১ এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ১৫ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে দণ্ড দিয়েছে পৃথক দুই ট্রাইবুন্যাল। এদের বেশিরভাগই বিরোধী জামায়াতে ইসলামির নেতা। ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ট্রাইবুন্যাল গঠন করেন।

তিনি বলেন, ভুক্তোভোগিদের পরিবারগুলোর প্রাপ্য ন্যায়বিচার পেতে ইতিমধ্যে অনেক বিলম্ব হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বলছে, যুদ্ধের সময় স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করে। ধর্ষণ করে ২ লাখ নারীকে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে। আর এসবের জবাবদিহিতার প্রয়োজন রয়েছে। তবে, বিচারের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সংশয় বাড়ছে।

বুধবার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতের আলি আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে। গণহত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তাদের দণ্ডিত করা হয় ২০১৩ সালে।

আগস্ট মাস পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্টিফেন র্যা প বলেছেন, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না- এ স্বাক্ষ্য দিতে স্বাক্ষীদের ডাকার অধিকার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এটা উদ্বেগজনক। ওই স্বাক্ষীদের মধ্যে সাবেক একজন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ট্রাইবুন্যাল প্রসিকিউশনকে ৪১ জন স্বাক্ষী ডাকার সুযোগ দিয়েছে। পক্ষান্তরে সালাউদ্দিনের আইনজীবীদের ৪ জন স্বাক্ষী ডাকতে সীমিত করে দেয়া হয়।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক ওই মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, অধস্তনদের অপরাধ সংঘটনে উস্কে দেয়ার অভিযোগে মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। তবে, কোনো অধস্তন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা বা তাদের স্বাক্ষ্য নেয়া হয়নি।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ‘সহিংসতা, ভীতি আর সেলফ-সেন্সরশিপের এক পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সঙ্কুচিত হচ্ছে।

এপির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ এক মার্কিন কূটনীতিককে মঙ্গলবার লেখা এক চিঠিতে আইনপ্রনেতারা বাংলাদেশের নেতাদেরও সমালোচনা করেছেন যারা এ বছর কট্টরপন্থীদের হাতে ধর্মনিরপেক্ষ লেখক-ব্লগার সিরিজ হত্যার পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকে দায়ী করেন। হত্যার শিকার ভুক্তোভোগিদের মধ্যে রয়েছেন আমেরিকান-বাংলাদেশি লেখক অভিজিত রায়। ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে ঢাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এক সময় বাংলাদেশে এমন কট্টরপন্থী সহিংসতা ছিল বিরল। প্রধানত মুসলিম দেশ হলেও দেশটিতে ধর্মনিরপেক্ষ বলিষ্ঠ এক সংস্কৃতি রয়েছে।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিল পাকিস্তানের পূর্ব অংশ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ভিত্তিক আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। রক্তাক্ত অভিযানের মাধ্যমে এর কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায় পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক নেতারা। এরপরই জেগে ওঠে পূর্ব পাকিস্তান। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জন্ম হয় বাংলাদেশের।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের কৃতকর্ম ক্ষমা করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমন টানাপড়েনের ইতিহাস সত্ত্বেও বাংলাদেশ কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম একটি দাতা রাষ্ট্র এবং রপ্তানি বাজার। তবে, হাসিনার শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সুশীল সমাজ কর্মীদের প্রতি তার আচরণ নিয়ে সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়।

বাংলাদেশে গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শ’ শ’ মানুষের মৃত্যুর পর শ্রম মান উন্নয়ন এবং কর্মস্থল নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশকে চাপ দিতে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা স্থগিত করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শনিবারের চিঠি/ আটলান্টা/ ২২ নভেম্বর ২০১৫

Facebook Comments Box

বাংলাদেশ সময়: ১২:০৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৫

https://thesaturdaynews.com |

Development by: webnewsdesign.com